বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮

জেল থেকে অপহরণ করে কয়েদির উপর অত্যাচার, খুন, পঞ্জাবে যাবজ্জীবন ১১ পুলিশ কর্মীর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: খুন, অপহরণ-সহ একাধিক মামলায় যাবজ্জীবনের সাজাপ্রাপ্ত এক কয়েদিকে অপহরণ করে খুনের অভিযোগ ওঠে পঞ্জাবের ১১ জন পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে। ঘটনায় জড়িত ছিলেন আরও অনেকে। সোমবার ওই ১১ জন পুলিশ কর্মী-সহ মোট ১৩ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবনের সাজা শোনান পঞ্জাব দায়রা আদালতের বিচারক সন্দীপ সিং বাজওয়া।

ঘটনা ২০১৪ সালের। অমৃতসর সেন্ট্রাল জেলে বন্দি বিক্রমজিৎ সিংকে অপহরণ করে খুন করার অভিযোগ ওঠে। ২০০২-তে শিরোমনি অকালি দলের নেতা গুরদয়াল সিং-সহ ৬ জনকে গুলি করে খুন করার দায়ে যাবজ্জীবনের সাজা কাটছিল বিক্রমজিৎ। ২০১৪ সালের ৫ মে বিক্রমজিতকে সরকারি হাসপাতাল থেকে অপহরণ করে পঞ্জাব পুলিশের একটি দল। অভিযোগ ওঠে, অত্যাচার করে খুন করা হয়েছে তাকে।

কয়েদি অপহরণ-কাণ্ডে নাম জড়ায় পুলিশ আধিকারিক গুলশনবীর সিংহের। বিক্রমজিতের ভাই দলবীর সিংয়ের অভিযোগ ছিল, পুলিশ কর্তা গুলশনবীরের নেতৃত্বেই তাঁর দাদাকে হাসপাতাল থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বাতালার একি ট্রাক্টর কারখানায়। সেখানেই তাঁর উপর নির্যাতন চালায় পুলিশ কর্মীরা। অত্যাচারের মাত্রা এতটাই বেশি ছিল, সে মৃত্যু হয় অসুস্থ বিক্রমজিতের। তার দেহ মেলে বাতালার একটি খাল থেকে।

সেন্ট্রাল জেলের কর্তৃপক্ষদের কথায়, বিক্রমজিৎ একটা সময় ভয়ঙ্কর ভাবে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছিল। জেলের ভিতরে কে বা কারা তাকে মাদক সরবরাহ করত সেই নিয়ে খোঁজ চালাচ্ছিল পুলিশ। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মীদের দাবি, মাদকের বিষয়ে জানতেই বিক্রমজিতকে হাসপাতাল থেকে বাতালাতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে তাঁদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন পুলিশ আধিকারিক নারাং সিং। জেরা করার সময়েই মৃত্যু হয় বিক্রমজিতের।

নিহত কয়েদির ভাইয়ের অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে পঞ্জাব পুলিশের স্পেশাল টিম। চিহ্নিত করা হয় ওই ১১ জন পুলিশ কর্মীকে। দোষীদের নাম, এএসআই গুলশনবীর সিং এবং সইন্দর সিং, হেড কনস্টেবল জগজিৎ সিং, গুরপ্রীত সিং, লখিন্দর সিং, কনস্টেবল আমানদীপ সিং, মাখতুল সিং, অঙ্গরেজ সিং, লখবিন্দর সিং, রণধীর সিং, ইনফর্মার জাগতার সিং ওরফে কাঁসি এবং ট্রাক্টর কারখানার মালিক দীপ রাজ সিং।

Comments are closed.