বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৭

উঁচু জাত কিন্তু গরিব, মোদীর সৌজন্যে ওঁদেরও সংরক্ষণ শিক্ষা ও চাকরিতে

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ভোটের কয়েক মাস আগে সোমবার লোকসভায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করল সরকার। উচ্চবর্ণের মধ্যে যারা গরিব, তাদের জন্য সরকারি চাকরিতে ও শিক্ষায় ১০ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করা হবে। দু’টি শর্ত পূরণ করলে কোনও উচ্চবর্ণ পরিবার সংরক্ষণের সুবিধা পাবে। তাদের বার্ষিক আয় হতে হবে আট লক্ষ টাকার কম। অথবা তাদের পাঁচ একরের কম জমি থাকবে। উচ্চবর্ণের জন্য সংরক্ষণ করতে সংবিধান সংশোধন করা হবে। এজন্য সংসদে বিল আসছে শীঘ্র।

এই ঘোষণা করা মাত্রই দেশ জুড়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। ভোটের আগে উচ্চবর্ণ ও মধ্যবিত্তের মন পেতেই তিনি এই ঘোষণা করেছেন বলে অনেকের ধারণা। আবার খুশিও হয়েছেন বহু লোক। এতদিন যতবার সংরক্ষণের কথা উঠেছে, ততবারই একটি মহল প্রশ্ন করেছে, শুধু তফসিলী জাতি-উপজাতির ছেলেমেয়েরাই কি সংরক্ষণ পাওয়ার যোগ্য? দরিদ্র, পিছিয়ে পড়া মানুষকে তুলে আনা, দেশের মূল স্রোতে শামিল করাই যদি সরকারের লক্ষ হয় তাহলে দরিদ্র উচ্চবর্ণ পরিবারের ছেলেমেয়েরা কী দোষ করল? সঙ্ঘ পরিবার, বিশেষত আরএসএস এই মত সমর্থন করে। সেই মত অনুযায়ী এদিন মোদী মন্ত্রিসভা উচ্চবর্ণের জন্য সংরক্ষণের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। সম্ভবত মঙ্গলবার লোকসভায় সংবিধান সংশোধনের বিল পাশ হবে।

১৯৯২ সালে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, চাকরি বা শিক্ষায় সংরক্ষণ যেন ৫০ শতাংশের কম হয়। কিন্তু তফসিলী জাতি-উপজাতিদের পাশাপাশি দরিদ্র উচ্চবর্ণের জন্য যদি সংরক্ষণ করতে হয়, সেক্ষেত্রে তার পরিমাণ হবে ৬০ শতাংশ।

পর্যবেক্ষকদের মতে, তিন রাজ্যের বিধানসভা ভোটে খারাপ ফলের পরে এবার সংরক্ষণের তাস বার করেছেন মোদী। উচ্চবর্ণ মধ্যবিত্তকে মোদী দেখাতে চান, তিনি তফসিলী জাতি-উপজাতি বাদে সাধারণ জাতির নাগরিকদেরও স্বার্থরক্ষা করতে চান।

মোদীর উদ্যোগ নিয়ে ইতিমধ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে কংগ্রেস। দলের নেতা হরিশ রাওয়াত প্রশ্ন তুলেছেন, ঠিক ভোটের আগেই প্রধানমন্ত্রী এই ঘোষণা করলেন কেন? এতে এনডিএ বা বিজেপি পরাজয়ের হাত থেকে বাঁচবে না। কংগ্রেসের অপর নেতা অভিষেক মনু সিংভি টুইট করে বলেছেন, পুরো ব্যাপারটাই চমক ছাড়া কিছু নয়। গত চার বছর আট মাস ধরে বিজেপি ক্ষমতায় আছে। এতদিন সংরক্ষণের কথা মনে পড়েনি কেন? তার মানে ভোটের আচরণবিধি লাগু হওয়ার আগে গিমিক দেওয়াই সরকারের উদ্দেশ্য।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবপ্রতাপ শুক্লা বিরোধীদের জবাব দিয়ে বলেন, এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে ভোটের কোনও সম্পর্ক নেই। আমাদের দল মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে উচ্চবর্ণের এক বড় অংশের ভোট পেয়েছে। অপর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিজয় সম্পলা বলেন, মোদী সরকার একটি বহুদিনের দাবি পূরণ করার সাহস দেখাল।

বাজপেয়ী সরকারের মন্ত্রী তথা বর্তমানে বিজেপির কট্টর সমালোচক যশবন্ত সিনহা বলেন, পুরো ব্যাপারটাই জুমলা। তিনি টুইট করেছেন, এই প্রস্তাব কার্যকর করতে গেলে অনেক আইনি বাধার মুখে পড়তে হবে। সংসদের দুই কক্ষে ওই বিল পাশ হওয়ার সময়ই নেই এখন। সরকারের অবস্থান পুরোপুরি ফাঁস হয়ে গিয়েছে।

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন, ভোটের আগে সস্তা চমক দিতে চায় সরকার। কারণ সংবিধান সংশোধন বিল এত তাড়াতাড়ি পাশ হওয়া সম্ভব নয়।

 

Shares

Comments are closed.