গার্গী কলেজে পড়ুয়াদের যৌন হেনস্থার অভিযোগে গ্রেফতার ১০, ক্ষোভের আগুন জ্বলছে ক্যাম্পাসে

দিল্লির গার্গী কলেজ ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের হামলা, ছাত্রীদের সামনে হস্তমৈথুন। ১০ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: বহিরাগতদের হাতে যৌন হেনস্থার অভিযোগে উত্তাল হয়েছিল দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ গার্গী কলেজ। ঘটনা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আছড়ে পড়েছিল প্রতিবাদের ঝড়। অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও উঠেছিল। গত সোমবার কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে এফআইআর দায়ের করার পরে আজ বৃহস্পতিবার ওই ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    দক্ষিণ দিল্লির ডিসিপি অতুল ঠাকুর জানিয়েছেন, কলেজের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ওই অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের খোঁজে দিল্লি ও জাতীয় রাজধানী এলাকায় চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে। তদন্তে নেমেছেন ১১ জন পুলিশের স্পেশাল টিম। ১০ জনকে গ্রেফতার করে জেরা করা চলছে।

    পড়ুয়াদের অভিযোগ ছিল, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালীন গত ৬ ফেব্রুয়ারি মত্ত অবস্থায় একদল বহিরাগত ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ে। অনুষ্ঠানে বাধা সৃষ্টি করার পাশাপাশি মেয়েদের হেনস্থা করে তারা। পড়ুয়ারা জানান, সে দিন কলেজে বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপলক্ষে অন্য কলেজের ছাত্রছাত্রীদের ক্যাম্পাসে ঢোকার অনুমতি ছিল। ওই দিনই সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের সমর্থনে কলেজ সংলগ্ন এলাকায় মিছিল বেরিয়েছিল। দুপুর সাড়ে ৩টে থেকে ৪টে নাগাদ ওই মিছিল থেকেই মত্ত অবস্থায় এক দল লোক ট্রাকে চেপে ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ে। মেয়েদের দেখে অশালীন মন্তব্য, গায়ে হাত দেওয়া এমনকি ছাত্রীদের সামনে তারা হস্তমৈথুন করে বলেও অভিযোগ ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে মেয়েরা ভয় পেয়ে শৌচাগারের দিকে ছুটে পালালে, সেখানে তাঁদের আটকে রাখা হয় বলেও দাবি করে পড়ুয়ারা।

    ঘটনার প্রতিবাদে সোশ্যাল মিডিয়াতেও নিন্দায় ফেটে পড়েন কলেজের পড়ুয়া ও অধ্যাপকদের একাংশ। #স্পিকআপগার্গী লিখে শুরু হয় প্রতিবাদ। পড়ুয়াদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তুলে অধ্যক্ষা প্রমীলা কুমারের ইস্তফারও দাবি তোলেন তাঁরা। অভিযোগ, কলেজের নিরাপত্তারক্ষীদের সামনেই গোটা বিকেল, সন্ধে জুড়ে এমন তাণ্ডব চালায় দুষ্কৃতীরা। কলেজ কর্তৃপক্ষ সব জেনেও তৎক্ষণাৎ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। সোশ্যাল মিডিয়ায় পড়ুয়াদের  তরফে তা নিয়ে লেখালিখিতে নড়েচড়ে বসে জাতীয় মহিলা কমিশন। হেনস্থার শিকার পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলতে ক্যাম্পাসে যান  কমিশনের চেয়ারপার্সন স্বাতী মালিওয়াল। বিক্ষোভ-প্রতিবাদ এতটাই বিরাট আকার নেয় যে  নড়েচড়ে বসে দিল্লি পুলিশও। এরপরেই কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে অভিযোগ দায়ের করা হয়। অজ্ঞাত পরিচয় দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে হৌজ থানায় ৪৫২, ৩৫৪, ৫০৯ এবং ৩৪ ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানা গেছে।

    গোটা ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীওয়ালও। টুইটারে তিনি বলেন, গার্গী কলেজের মেয়েদের সঙ্গে যে অশালীন ও অভব্য আচরণ করা হয়েছে তা ক্ষমার অযোগ্য। কোনও কলেজে এই ধরনের আচরণ বরদাস্ত করা হবে না। অপরাধীদের কড়া শাস্তি হওয়া উচিত।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More