রবিবার, অক্টোবর ২০

গোষ্ঠী-সংঘর্ষে উত্তাল অসমের হাইলাকান্দি, নিহত ১, জারি কারফিউ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে উত্তাল অসমের হাইলাকান্দি। ইতিমধ্যেই এই সংঘর্ষের ফলে ১ জন নিহত ও অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছে বলে খবর। পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে এলাকায় নামাতে হয়েছে সেনা। হাইলাকান্দিতে জারি করা হয়েছে কারফিউ। সব মিলিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি অসমে।

ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার দুপুরে। হাইলাকান্দিতে একটি মসজিদের সামনের রাস্তায় বসে নমাজ পড়ছিল বেশ কিছু মানুষ। রাস্তায় নমাজ পড়ার ফলে লোকের অসুবিধা হচ্ছে, এই অভিযোগ তুলে গণ্ডগোল শুরু হয় দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে। ধীরে ধীরে তা গড়ায় হাতাহাতিতে। হাতাহাতি থেকে তা সংঘর্ষে পরিণত হয়। রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা।

জানা গিয়েছে এই সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হয়। আহতদের নিয়ে গিয়ে শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই পরে জসীম উদ্দিন নামের ২৮ বছরের এক যুবক মারা যায়। এই সংঘর্ষে অন্তত ১৫টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। প্রায় ১২ টি দোকানও ভাঙচুর হয়েছে বলে খবর। আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় শহরের বিভিন্ন এলাকায়।

এই ঘটনার পরেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেখানে নামানো হয় সেনা। শুক্রবার দুপুর ১টা থেকেই হাইলাকান্দিতে জারি করা হয় কারফিউ। ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল। ডেপুটি কমিশনার কীর্তি জাল্লি জানিয়েছেন, ১২ মে অর্থাৎ রবিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এই এলাকায় কারফিউ জারি থাকবে। তাঁর অভিযোগ, কিছু গোষ্ঠী এলাকায় সন্ত্রাস ছড়ানোর চেষ্টা করছে। ফলে সাধারণ মানুষ ও সম্পত্তি নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কোনও রকমের ঝুঁকি নিতে রাজি নয় প্রশাসন।

পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, শুক্রবার দুপুরে শহরের কালিবাড়ি এলাকায় একদল লোক মসজিদের সামনের রাস্তায় বসে নমাজ পড়া শুরু করে। এই নিয়েই দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে শুরু হয় সংঘর্ষ। বেশ কয়েকটি মোটরবাইক ভেঙে ফেলা হয়। তারপরেই খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছয় পুলিশ। পুলিশের সঙ্গেও সংঘর্ষ বেঁধে যায় ওই দুই গোষ্ঠীর। বাধ্য হয়েই হাওয়ায় গুলি চালাতে হয় পুলিশকে।

ডেপুটি কমিশনার জানিয়েছেন, এখন পরিস্থিতি তাঁদের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কোনও রকমের গুজব ছড়াতে বারণ করেছেন তিনি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, কিছু সমাজবিরোধী ইচ্ছে করে একটা সামান্য বিষয় নিয়ে সংঘর্ষ করেছে। এর সঙ্গে কোনও ধর্ম বা জাতের সম্পর্ক নেই। এই মুহূর্তে এলাকায় অসম রাইফেলস ও সিআরপিএফ জওয়ানরা মোতায়েন রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল অতিরিক্ত চিফ সেক্রেটারি রাজীব বোহরাকে এই ব্যাপারে একটি তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দিতে বলেছেন। এছাড়াও প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে যা মনে হয়, সেই পদ্ধতি অবলম্বন করার। অসমের মানুষের কাছেও মুখ্যমন্ত্রী আবেদন করেছেন, এই পরিস্থিতিতে ভয় না পেয়ে শান্তভাবে থাকতে। প্রশাসন সাধারণ মানুষের সঙ্গে রয়েছে।

তবে সেই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেছেন, যারা শুক্রবারের সংঘর্ষে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জানা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পেয়ে ইতিমধ্যেই পরিবেশ ও বনমন্ত্রী পরিমল শুক্লা বৈদ্য, এডিজিপি মুকেশ আগরওয়াল হাইলাকান্দিতে এসে পৌঁছেছেন। সেখানে পরিস্থিতি তদারক করছেন তাঁরা।

আরও পড়ুন

ভোটের জন্য দায়ের হলো না গণধর্ষণের অভিযোগ, উত্তাল রাজস্থানের আলোয়ার

Comments are closed.