সিবিআই থেকে সরিয়ে দমকলে, কেন সরতে হল অলোক বর্মাকে?

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো : সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে পুরানো পদে ফিরিয়ে দেওয়ার পর ঠিক দু’দিনের মাথায় সিবিআইয়ের ডিরেক্টর অলোক বর্মাকে সরিয়ে দিল প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের কমিটি। তাঁকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে দমকলের ডিরেক্টর জেনারেল করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাদে ওই কমিটিতে ছিলেন কংগ্রেসের মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং বিচারপতি এ কে সিক্রি। সুপ্রিম কোর্টের যে বেঞ্চ অলোক বর্মাকে সিবিআই ডিরেক্টর পদে ফিরিয়ে দিয়েছিল, তার সদস্য ছিলেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। তাই তিনি নিজে আর উচ্চপর্যায়ের কমিটিতে থাকেননি।

সেন্ট্রাল ভিজিলেন্স কমিশনের অভিযোগের ভিত্তিতে কমিটি সিদ্ধান্ত নেয়, বর্মাকে সরিয়ে দেওয়া হবে। যদিও মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, ভিজিলেন্স কমিশনের মূল অভিযোগগুলিই এখনও প্রমাণিত হয়নি। তিনি একটি ডিসেন্ট নোট দেন। তাতে বলা হয়েছে, বর্মার বিরুদ্ধে ঘুষ খাওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন তাঁরই ডেপুটি রাকেশ আস্থানা। তিনি বলেন, হায়দরাবাদের এক ব্যবসায়ীর থেকে বর্মা ২ কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছেন। কিন্তু এখনও সেই অভিযোগের পক্ষে কোনও প্রমাণ নেই। এবিষয়ে আরও তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

বর্মার বিরুদ্ধে আরও একটি অভিযোগ, তিনি গোয়েন্দাদের দেওয়া কয়েকটি তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেননি। সেই অভিযোগও এখনও প্রমাণিত নয়।

বর্মার বিরুদ্ধে মোট ১০ টি অভিযোগ করা হয়েছিল। তার মধ্যে ছ’টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। যে চারটি অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি, সেগুলিও কতদূর বিশ্বাসযোগ্য সন্দেহ আছে।

ভিজিলেন্স কমিশন বলেছে, বর্মার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি আইআরসিটিসি মামলার এফআইআর থেকে এক সন্দেহভাজনের নাম বাদ দিয়েছিলেন। এই অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ ও শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

বর্মার বিরুদ্ধে আরও একটি অভিযোগ, দিল্লি বিমানবন্দরে সোনা চোরাচালানের মামলায় তিনি কোনও ব্যবস্থা নেননি। এই অভিযোগ আংশিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বর্মা একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল সংস্থার প্রধান। তাঁর থেকে যে সততা আশা করা যায়, তা তিনি দেখাননি।

আইআরসিটিসি মামলার প্রসঙ্গ তুলে কমিটি বলেছে, এক্ষেত্রে ভিজিলেন্স কমিশন মনে করে, বর্মা সত্যিই এক ব্যক্তির নাম এফআইআর থেকে বাদ দিয়েছিলেন। কেন বাদ দিয়েছিলেন, তিনিই ভালো জানেন।

খাড়গে এই মত মানতে রাজি নন। তিনি বলেন, ভিজিলেন্স কমিশনের তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, বর্মাকে সিবিআই প্রধান পদে রাখতে হবে তো বটেই একইসঙ্গে রিটায়ার করার পরেও তাঁকে বাড়তি ৭৭ দিন তাঁকে চাকরি করার সুযোগ দিতে হবে। কারণ ৭৭ দিন তিনি বাধ্যতামূলক ছুটিতে ছিলেন। আগামী ৩১ জানুয়ারি সিবিআই ডিরেক্টরের পদ থেকে বর্মার অবসর নেওয়ার কথা ছিল।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More