শনিবার, নভেম্বর ২৩
TheWall
TheWall

চিদম্বরম বেপাত্তা, সকালে ফের তাঁর বাড়িতে সিবিআই-ইডি, সুপ্রিম কোর্টে আজই শুনানি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরমকে নিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশই নাটকীয় মোড় নিচ্ছে। জল্পনা বাড়ছে তাঁর গ্রেফতারির সম্ভাবনা নিয়েও।

আইএনএক্স মিডিয়া মামলায় দিল্লি হাইকোর্ট তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেওয়ার পর থেকেই দুই কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি– সিবিআই ও ইডি-র অফিসাররা গতকাল সন্ধ্যায় পৌঁছে গিয়েছিলেন নয়াদিল্লির জোরবাগে তাঁর বাড়িতে। কিন্তু প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী সেখানে ছিলেন না। রাতেও ফেরেননি। বলতে গেলে তিনি বেপাত্তা। এর পরই গভীর রাতে তাঁর বাড়ির দেওয়ালে নোটিস সেঁটে দেন সিবিআইয়ের তদন্তকারী অফিসার। তাতে স্পষ্টতই বলা হয়, দু’ঘন্টার মধ্যে তাঁর সামনে হাজিরা দিতে হবে চিদম্বরমকে। তার পর রাত পার হতেই সকালে ফের তাঁর জোরবাগের বাড়ি পৌঁছে যায় সিবিআই এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের টিম। এই নিয়ে গত আঠারো ঘন্টায় তিন বার চিদম্বরমের বাড়িতে হানা দিল সিবিআই-ইডি।

এই অবস্থায় আজ এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের শুনানিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে। দিল্লি হাইকোর্ট আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করতেই গতকাল তড়িঘড়ি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন চিদম্বরম। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালত গতকালই শুনানিতে রাজি হয়নি। তবে আজ বুধবার সকালে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের কোর্টে ওই আবেদনের শুনানির কথা। সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে কোনও রক্ষাকবচ দিলে একমাত্র তবেই তিনি গ্রেফতারি এড়াতে পারবেন বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা।

চিদম্বরম নিজেও দুঁদে আইনজীবী। তবে সুপ্রিম কোর্টে তাঁর হয়ে সওয়াল করবেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা তথা বিশিষ্ট আইনজীবী সলমন খুরশিদ ও অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি। বস্তুত তাঁদের পরামর্শেই সিবিআইয়ের নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে মঙ্গলবার গভীর রাতেই কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সিকে পাল্টা চিঠি দেন চিদম্বরমের আইনজীবী অর্শদীপ খুরানা। সিবিআইয়ের কাছে তিনি প্রশ্ন করেন, আইনের কোন ধারায় দু’ঘন্টার মধ্যে তাঁর মক্কেলকে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে? এ ব্যাপারে কোনও উল্লেখ নেই নোটিসে।

খুরানা সিবিআইকে দেওয়া চিঠিকতে এও বলেন, সুপ্রিম কোর্টই তাঁর মক্কেলকে রেহাই দিয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে দশটায় সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হবে। সুতরাং ততক্ষণ পর্যন্ত যেন বিরত থাকে সিবিআই।

চিদম্বরমের বাড়ির বাইরে সিবিআই-এর নোটিস।

প্রসঙ্গত, আগাম জামিন মামলায় দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতিরা মঙ্গলবার কড়া মন্তব্য করে বলেন, দেখে তো মনে হচ্ছে, আবেদনকারীই (পড়ুন চিদম্বরম) এই দুর্নীতির ঘটনার কিং পিন! দিল্লি হাইকোর্ট এ-ও বলে, আর্থিক দুর্নীতি কঠোর হাতে দমন করতে হবে। আবেদনকারী সংসদের সদস্য এবং আইনজীবী। কিন্তু তাঁর সেই পরিচয় এই মামলার উপরে কোনও প্রভাব ফেলতে পারে না। এ ধরনের বিপুল আর্থিক দুর্নীতির ঘটনায় তদন্তকারীদের হাত বেঁধে দেওয়া ঠিক নয়।

গ্রেফতার হওয়ার আশঙ্কায় দিল্লি হাইকোর্টের ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে বিকেলেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। তাঁর হয়ে সওয়াল করার জন্য পাশে ছিলেন দুই কংগ্রেস নেতা তথা সুপ্রিম কোর্টের দুঁদে আইনজীবী সলমন খুরশিদ ও অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট এ দিন স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এখনই বিষয়টি শুনতে হবে এমন তাড়াহুড়োর কারণ নেই, কাল শুনলেও হবে। তাই আজ, অর্থাৎ বুধবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের এজলাসে শুনানি হবে।

আইএনএক্স মিডিয়া দুর্নীতি মামলায় চিদম্বরমকে আগে একাধিক বার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। অভিযোগ, ২০০৭ সালে চিদম্বরমের ছেলে কার্তি চিদম্বরম আইএনএক্স কোম্পানিকে বেআইনিভাবে বিদেশি অর্থ পাওয়ার সুযোগ করে দেন। এ জন্য বিপুল অঙ্কের কাটমানি নিয়েছিলেন কার্তি।

সিবিআইয়ের চিঠি

সেই সময় কেন্দ্রে মনমোহন সিং-এর সরকারে অর্থমন্ত্রী ছিলেন চিদম্বরম। অভিযোগ, সেই প্রভাব খাটিয়েই কার্তি আইএন এক্স মিডিয়াকে বিদেশ থেকে ৩০৫ কোটি টাকা পাওয়ার সুযোগ করে দেন। এ ছাড়াও এয়ারসেল-ম্যাক্সিস সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি মামলাতেও বারবার চিদম্বরম ও কার্তির নাম উঠেছে। যদিও গোড়া থেকেই চিদম্বরম দাবি করেছেন, কোনও অনিয়ম তিনি করেননি। এমনকি এই মামলায় এফআইআর-এও তাঁর নাম নেই। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক কারণেই বিজেপি পরিচালিত সরকার তাঁকে টার্গেট করছে। গত বছর তিনি আগাম জামিনের জন্য দিল্লি আদালতে আবেদন করেছিলেন। আদালত তাঁকে অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবার তাও নাকচ করে দেওয়া হয়েছে।

কার্তি চিদম্বরমের বিরুদ্ধে এখন তদন্ত করছে এনফোর্সমেন্ট ডায়রেক্টরেট ও সিবিআই। তিনি গত বছর গ্রেফতারও হয়েছিলেন। তাঁকে ২৩ দিন জেলে থাকতে হয়েছিল। ২০০৭ সালে আইএনএক্স মিডিয়ার মালিক ছিলেন পিটার ও ইন্দ্রানী মুখার্জি। তাঁরা এখন শিনা বরা হত্যা মামলায় জেলে রয়েছেন। তাঁরা অভিযোগ করেছেন, পি চিদম্বরম ও কার্তি চিদম্বরম, দু’জনেই তাঁদের কাছে ঘুষ চেয়েছিলেন।

Comments are closed.