তাজমহল ছুঁইছুঁই ‘পাহাড়’ খোদ রাজধানীর বুকে! গর্ব নয়, লজ্জায় মাথা নিচু সকলের

১৩

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্য তাজমহল এ দেশেই অবস্থিত। এ দেশ নিয়ে আপনার গর্ব করার যে ক’টি জিনিস আছে, তার মধ্যে একটিল এই তাজমহল। এই প্রেমের সৌধের শ্বেতশুভ্র চুড়ো দেখে কত বার মুগ্ধ হয়েছেন আপনি। কিন্তু সেই চুড়োকেই এবার ছাপিয়ে যেতে চলেছে ওই রাজ্যেরই অন্য একটি চুড়ো। কিন্তু তা নিয়ে মুগ্ধতা তো দূরের কথা, লজ্জায় মাথা নিচু হয়ে যাচ্ছে রাজধানী-বাসীর।

কারণ সম্প্রতি তাজমহলের সঙ্গে তুলনা চলছে দিল্লির গাজিপুরের এক ‘পাহাড়ের’। নিশ্চয় ভাবছেন, দিল্লিতে আবার পাহাড় কোথায়, যা তাজমহলের সঙ্গে তুলনায় আসছে? গাজিপুরের সেই পাহাড়ের পোশাকি নাম ‘গারবেজ মাউন্টেন’। সরকারি সূত্রের খবর, ২০২০ সালের মধ্যে তাজমহলের উচ্চতাকেও ছাপিয়ে যাবে গাজিপুরের এই ‘জঞ্জালের পাহাড়’।

দিল্লিবাসীরা সকলেই শহরের নানা প্রান্ত থেকে দেখতে পান অবিকল পাহাড়ের মতোই দেখতে এই স্তূপকে। এতই বড় এই আবর্জনার স্তূপ, যা প্রায় ৫০টি ফুটবল মাঠের জায়গা নিয়ে অবস্থিত। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, বিশাল আয়তনের এই স্তূপ এর মধ্যেই ৬৫ মিটার উচ্চতায় পৌঁছেছে। আর যে হারে এর বৃদ্ধি হচ্ছে, তাতে অচিরেই ২০২০ সালের মধ্যে এটি আগ্রার তাজমহলের থেকেও আকারে বড় হয়ে যাবে।

স্থানীয় সূত্রের খবর, ১৯৮৪ সাল থেকে ওই এলাকায় ময়লার গাড়ি ডাম্প করা শুরু হয়েছে। ২০০২ সালের মধ্যে নিজের ক্ষমতার চেয়েও বেশি জঞ্জাল জমে জমে তৈরি হয় পাহাড়। তার পর থেকে তার উচ্চতা বাড়ছে তো বাড়ছেই। এখনও প্রতিদিন সারা শহরের অসংখ্য নোংরা ফেলার ট্রাক এসে এই আবর্জনার স্তূপের উচ্চতা বৃদ্ধি করে চলেছে।

দিল্লির পৌরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে যে, প্রতি দিন গাজিপুরের এই আবর্জনা ফেলার জায়গায় দু’হাজার টনের কাছাকাছি নোংরা ফেলা হয়। এই বিশাল পরিমাণ আবর্জনা থেকে মাটির ভেতরের জলও যেমন দূষিত হচ্ছে, তেমনই এই স্তূপ থেকে নির্গত ভয়ঙ্কর বিষাক্ত ধোঁয়া আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলছে। এমনকী এই প্রকাণ্ড স্তূপের নীচে চাপা পড়ে সাফাইকর্মীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

দিল্লি যখন এর মধ্যেই বিশ্বের দূষিততম রাজধানীর তকমা পেয়েছে, তখন প্রতিদিন বাড়তে থাকা গাজিপুরের এই আবর্জনার স্তূপ আরও এক নিকৃষ্ট কোনও অলঙ্কার তৈরির দিকে এগোচ্ছে হয়তো। কার্যত এই বিষাক্ত পাহাড় ভারতকে ফের শিরোনামে তুলে দিতে পারে। কারণ আর কয়েক বছরের মধ্যেই হয়তো এটি বিশ্বের সব চেয়ে বড় আবর্জনার স্তূপের স্বীকৃতি পাবে।

কিন্তু এই জঞ্জাল-পাহাড়ের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া কী ভাবে সম্ভব? পরিবেশবিদরা বলছেন, একমাত্র মানুষের সচেতনতাই এই ভয়ঙ্কর ভবিষ্যৎ থেকে আমাদের মুক্তি দিতে পারে। কারণ মানুষই একমাত্র পৃথিবীতে এই আবর্জনা সৃষ্টি এবং ছড়ানোর জন্য দায়ী। তাই মানুষকেই পরিবেশ থেকে এই আবর্জনা অপসারণে মুখ্য ভূমিকা নিতে হবে।

দেশের সচেতন নাগরিকরা দাবি করেছেন, বন্ধ করে দিতে হবে সব ধরনের প্লাস্টিক এবং পলিথিনের উৎপাদন, ব্যবহার। প্রয়োজনে নয়া আইন নিয়ে আসতে হবে। পরিবেশকে নোংরা করার জন্য কঠোরতম শাস্তির বিধান আনতে হবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More