‘জনতা কার্ফু’ কি ট্রেলর, দেশ কতটা প্রস্তুত ‘পরখ’ করতে চান প্রধানমন্ত্রী

লকডাউন ঘোষণার বলে মনে করছেন বিরোধী নেতা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে বক্তৃতায় দেশবাসীর প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক অভিনব আবেদন রেখেছেন। তা হল — করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি রবিবার গোটা দেশের মানুষ যেন স্বেচ্ছায় কার্ফু পালন করেন। সে দিন সকাল ৭ টা থেকে রাত ৯ টার মধ্যে কেউ যেন বাড়ি থেকে বের না হন।

নিঃসন্দেহে বড় ঘোষণা। কিন্তু পরক্ষণেই প্রশ্ন উঠেছে, একদিনের জনতা কার্ফুই কি ভাইরাসের সংক্রমণ রুখে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট!

পর্যবেক্ষকদের মতে, না তা নয়। তবে তাঁরা বলছেন, জনতা কার্ফু ঘোষণা করার পর প্রধানমন্ত্রী যে কথাগুলি বলেছেন, হতে পারে তার মধ্যেই বলা রয়েছে অনেক কিছু। সেটা কী? প্রধানমন্ত্রী এদিন বলেছেন, “ভারতের জন্য এটা হবে একটা চ্যালেঞ্জের মতো হবে। ভারত কতটা প্রস্তুত তা পরখ করার সময়।”

অনেকের মতে, হতে পারে ১৩০কোটি ভারতবাসীর সংযমটাই ওই দিন পরখ করে দেখতে চাইছেন প্রধানমন্ত্রী। তার পর তার কার্যকরিতা ও সাফল্য দেখে সেই কার্ফুর মেয়াদ আরও বাড়ানোর আবেদন জানাতে পারেন তিনি। সেই আশঙ্কার কথা এদিন প্রকাশ করেছেন লোকসভায় কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী আদতে কী কৌশল নিতে চলেছেন তা নিয়ে আমার ধন্ধ থেকে গেল। হতে পারে উনি জনতা কার্ফু ঘোষণা করে জমি তৈরি করে রাখলেন। এর পর গোটা দেশে লকডাউন ঘোষণা করে দিতে পারেন। ঠিক যেমন বিশ্বের কয়েকটি দেশ করেছে।

শুধু জনতা কার্ফুর কথা ঘোষণা করেই নয়, প্রধানমন্ত্রী এদিন তাঁর বক্তৃতায় দেশবাসীর উদ্দেশে বার বার বলেছেন, বিশ্বব্যপী এই সংক্রমণ রোখার জন্য এই সুবিশাল দেশের বিপুল জনসংখ্যার মানুষের থেকে দুটি প্রধান বিষয় প্রত্যাশিত। এক- সঙ্কল্প, অর্থাৎ সংক্রমণ প্রতিরোধ করার জন্য মানসিক জোর ও ইচ্ছা। এবং দুই, সংযম। অর্থাৎ যতটা সম্ভব সংযম বজায় রেখে সামাজিক সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা। একটা কথা মাথায় ঢুকিয়ে নেওয়া,-“আমি সুস্থ তো জগৎ সুস্থ।”

প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে বক্তৃতায় এদিনই বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহ মানুষ যেন পারত পক্ষে ঘরের বাইরে না বেরোন। ব্যবসার কাছ হোক বা অফিস কাছারির কর্মী—যতটা সম্ভব বাড়িতে বসেই যেন কাজ করেন। পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের এর মধ্যেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হবে। কিন্তু যাঁদের বাড়িতে বসে কাজ করার সুযোগ রয়েছে তাঁরা যেন সেটাই করার চেষ্টা করেন। তা ছাড়া ৬০-৬৫ বছর বা তার বেশি যাঁদের বয়স তাঁরাও যেন আগামী কয়েকটা সপ্তাহ বাড়িতে থাকারই চেষ্টা করেন। এমনকি সাধারণ অসুখ বিসুখ হলে ডাক্তারের কাছে চেক আপে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। পরিবারের পরিচিত চিকিৎসক বা ফ্যামিলি ফিজিশিয়ানকে ফোন করে যেন পরামর্শ নিয়ে নেন।

প্রধানমন্ত্রীর কথায়, গোটা বিশ্বে গত কয়েক মাস ধরে যে সংক্রমণের প্রবণতা লক্ষ্য করা গিয়েছে তা থেকে একটা ব্যাপার পরিষ্কার, তা হল- প্রথম কয়েকটা সপ্তাহ পর সংক্রমণের বিস্ফোরণ ঘটছে। এক সঙ্গে বহু মানুষ সংক্রামিত হয়ে পড়ছেন। সেই কারণেই সকলকে সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে।

সার্বিক ভাবে প্রধানমন্ত্রীর এদিনের কথার মধ্যেই সম্ভাব্য বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত রয়েছে। এখন দেখার কাল মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে কী বার্তা দেন তিনি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More