গ্রহণ লেগেছে বৃহস্পতিতে! চরকি দিচ্ছে রহস্যময় কালো ছায়া, গুরু গ্রহের পাড়ায় উঁকি দিল নাসার ‘জুনো’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: সৌরমণ্ডলের তিনিই গুরু গ্রহ। তার ধারে কাছে যাওয়ার স্পর্ধা কেউ দেখাতে পারেনি। তার দুই শাগরেদ থুড়ি উপগ্রহ (বৃহস্পতির‘চাঁদ)- ‘ইউরোপা’ আর ‘গ্যানিমিদ’-এর পাড়ায় উঁকিঝুঁকি বিস্তর দেওয়া হয়েছে। কিন্তু একেবারে গুরুর বাড়ির দরজায় কড়া নাড়ার সাহস নাসা ছাড়া কেউ দেখাতে পারেনি। বৃহস্পতির ঠিক নাগের ডগায় বসে আছে নাসার মহাকাশযান ‘জুনো’ (Juno) । বৃহস্পতিতে চমক দেখলেই সে খবর পাঠায় পৃথিবীতে। জুনোর হাই রেজোলিউশন ক্যামেরায় ধরা দিয়েছে গুরু গ্রহের গ্রহণ। একটা বিশাল বড় কালো ছায়া সেঁটে রয়েছে আমাদের সৌরমণ্ডলের সবচেয়ে বড় গ্রহের শরীরে। ঠিক যেন মনে হচ্ছে, কপালে টিপ পড়েছে বৃহস্পতি।

    সৌরমণ্ডলের উৎস সম্পর্কে তথ্য খুঁজতে ২০১১ সালের ৫ জুন ফ্লোরিডা থেকে পৃথিবীর মাটি ছেড়েছিল জুনো। পাঁচ বছরে ২৭০ কোটি কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে ২০১৬ সালের ৫ জুলাই বৃহস্পতির কক্ষপথে ঢুকে গেছে সে। বৃহস্পতির মাধ্যাকর্ষণ বলয়কে চ্যালেঞ্জ করে জুনো এক্কেবারে তার নাকের ডগায় জমিয়ে বসেছে। ডিম্বাকার কক্ষপথে পাক খেতে খেতে বৃহস্পতির বাড়িতে নজরদারি চালানোই তার কাজ। নাসা জানিয়েছে, জুনোর পাঠানো ছবি ও তথ্য থেকে স্পষ্ট, এই ছায়া আড়েবহরে প্রায় পৃথিবীর সমান। অনুমান করা হচ্ছে, ওই বড় কালো টিপ আসলে বৃহস্পতির সবচেয়ে দুষ্টু উপগ্রহ ‘আইও’ (IO)-এর ছায়া, কারণ বৃহস্পতির ৭৯টি চাঁদের মধ্যে আইও-র কক্ষপথই (Orbit) সবচেয়ে কাছে।

    বৃহস্পতির শরীরে কালো ছায়া। নাসার মহাকাশযান জুনোর ক্যামেরায় তোলা ছবি।

    আগ্নেয়গিরি ফেটেছে বৃহস্পতির ‘চাঁদ’আইও-তে? গনগন করে বেরোচ্ছে লাভাস্রোত, কালো ধোঁয়ায় ভরেছে আকাশ

    বৃহস্পতির উপগ্রহগুলির মধ্যে সবচেয়ে খামখেয়ালি আইও। ভয়ঙ্করও বটে। কারণ এই উপগ্রহের শরীর তৈরি হয়েছে আগ্নেয়গিরি দিয়ে। অন্তত ৪০০-৫০০ আগুনখেকো আগ্নেয়গিরি রয়েছে আইও-তে। এরা ফাটলে লাভার স্রোত আর গ্যাসীয় পিণ্ড ছড়িয়ে পড়ে ৩০০ মাইল এলাকা জুড়ে।

    বৃহস্পতির আগ্নেয় উপগ্রহ ‘আইও’

    ১৯৮৮ সাল থেকে ২০০২ সালের মধ্যে নাসার মহাকাশযান তথ্য পাঠিয়েছিল, আইও-র সবচেয়ে জাঁদরেল আগ্নেয়গিরিটি লাভা নির্গমণ করে ৫৪০ দিন ধরে। প্ল্যানেটারি সায়েন্স ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী জুলি র‍্যাথবান তাঁর গবেষণাপত্রে জানিয়েছিলেন, এই আগ্নেয়গিরির নাম লকি (Loki)। আইও-র সবচেয়ে সক্রিয় আগ্নেগিরিরগুলোর মধ্যে একটা। যা নিভে যাওয়ার ২৩০ দিন আগে পর্যন্ত গ্যাসের কুণ্ডলী বার করে। ২০১৩ সাল থেকে ফের তেড়েফুঁড়ে জেগে উঠেছে লকি। এর গনগনে লাভার স্রোত ছড়িয়ে পড়েছে ১২৪ মাইল পর্যন্ত। গ্যাসের আস্তরণে ঢেকেছে উপগ্রহের আকাশ। এই বিরাট কালো ধোঁয়াই ঢেকেছে বৃহস্পতির শরীরকে।

    বৃহস্পতির দুই চাঁদ। সৌজন্যে নাসা।

    ‘গ্রেট রেড স্পট’- তুমুল ঝড় চলছে বৃহস্পতিতে

    ১৯৮৯ সালে বৃহস্পতিতে মহাকাশযান গ্যালিলিও (Galileo Spacecraft) পাঠিয়েছিল নাসা। ২০০৩ সালে গ্যালিলিও ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পরে নাসার জুনোই এখন বৃহস্পতির সর্বক্ষণের সঙ্গী। গ্যালিলিও আভাস দিয়েছিল, জুনো প্রমাণ করেছে, গত সাড়ে ৩০০ বছর ধরে তুমুল ঝড় বয়ে চলেছে বৃহস্পতির পিঠে সুবিশাল একটা এলাকা জুড়ে। এমন প্রলয়ঙ্কর, এত দীর্ঘমেয়াদী ঝড় এখনও পর্যন্ত এই সৌরমণ্ডলের আর কোনও গ্রহে দেখা যায়নি।

    ঝড় উঠেছে বৃহস্পতিতে। দেখুন নাসার ভিডিও:

    জ্যোতর্বিজ্ঞানীরা এই ঝড়ের নাম দিয়েছিলেন ‘গ্রেট রেড স্পট’ (জিআরএস) Great Red Spot। বৃহস্পতির মেরু থেকে ২২ ডিগ্রি দক্ষিণে এই এলাকা দেখতে দগদগে লাল ক্ষতের মতো। আয়তনে প্রায় ১০ হাজার বর্গ মাইল বা ১৬ হাজার বর্গ কিলোমিটার। কী কারণে এত প্রলয়ঙ্কর ঝড় বয়ে চলেছে গত সাড়ে ৩০০ বছর ধরে, তার কারণ জানার চেষ্টা করছে জুনো।

    আরও পড়ুন:

    মঙ্গলের আকাশে শরতের মেঘ, ঝিরিঝিরি বরফে শীত নেমেছে দক্ষিণে, মুগ্ধ হয়ে দেখল ‘মার্স এক্সপ্রেস’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More