শুক্রবার, অক্টোবর ১৮

মুখ থুবড়ে চন্দ্রযান কোথায় পড়েছে! ছবি তুলে পাঠাল নাসা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘হার্ড ল্যান্ডিং’-ই করেছিল চন্দ্রযান ২-এর ল্যান্ডার বিক্রম। সেই কারণেই ইসরোর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে তার। চন্দ্রযান অভিযানের দিন ২০ পরে এমনটাই জানিয়ে দিল মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। চাঁদের পিঠে ‘সফ্ট ল্যান্ডিং’ করানোটাই গোটা অভিযানের মূল চ্যালেঞ্জ ছিল বলে আগেই জানিয়েছিল ইসরো। সেইখানেই হয়েছে সমস্যা, বলল নাসাও।

আজ টুইটারে একটি ছবি প্রকাশ করে নাসা লিখেছে, তাদের তরফে পাঠানো যে অরবিটারটি চাঁদের চার পাশে ঘুরছিল, বিক্রমকে লোকেট করার চেষ্টা করছিল, সেই অরবিটারের পাঠানো ছবি নিশ্চিত করছে, চাঁদের যে জায়গাটায় চন্দ্রযান ২-এর ল্যান্ডার বিক্রমের নামার কথা ছিল, সেই জায়গাটা এবড়োখেবড়ো ও গর্তে ভর্তি। ফলে এটা ধরে নেওয়া যায়, সফ্ট ল্যান্ডিং করতে ব্যর্থ হয়েছে বিক্রম। ওই জায়গার আশপাশে বিক্রমকে খুঁজে পাওয়া যায়নি বলেও জানিয়েছে তারা। তবে অক্টোবরে চাঁদের ওই পিঠে আলো পড়লে, ফের তারা খোঁজ চালাবে বলেও জানিয়েছে।

দেখুন নাসার টুইট।

ইসরো আগেই ঘোষণা করেছিল, চন্দ্রযান ২ অভিযানের পরবর্তী ১৪ দিনই বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ ফেরানোর সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ গত শনিবার অর্থাৎ ২১ তারিখেই চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে, যেখানে বিক্রমের পৌঁছনোর কথা, সেখানে রাত শুরু হবে।

গতকাল, বৃহস্পতিবারই একটি সাংবাদিক বৈঠক করে ইসরোর চেয়ারম্যান কে শিবন জানান, “ঠিক কী কারণে বিক্রমের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হল, তা খতিয়ে দেখার জন্য বিশেষ কমিটি কাজ করছে। কমিটির রিপোর্ট হাতে পাওযার পরে আমরা হয়তো পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করতে পারব। তবে এখন আমরা ফোকাস করেছি আমাদের পরবর্তী অভিযান, গগনযান পাঠানোর উপরে। আমার মনে হয়, মাত্র হাজার কোটি টাকার এই অভিযানের মাধ্যমে ভারত ইতিহাস গড়তে পারবে মহাকাশচর্চার প্রাঙ্গণে।”

চন্দ্রযান ২ যদি পুরোপুরি সফল হতো, বিক্রম ল্যান্ডার যদি সফ্ট ল্যান্ডিং করতে পারত এবং তার সঙ্গে ইসরোর যোগাযোগ থাকত, তা হলে ভারতই হতো চাঁদে মহাকাশযান পাঠানো চতুর্থ দেশ। এবং চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পৌঁছতে পারা প্রথম দেশ হিসেবেও নাম উজ্জ্বল হতো তার। সামান্য এদিক-ওদিকের কারণে তা হয়নি ঠিকই, কিন্তু তাতে চন্দ্রযান ২-কে পুরোপুরি ব্যর্থ বলা যায় না বলেই মনে করছেন মহাকাশবিজ্ঞানীরা।

কারণ অভিযান সফল না হলেও চন্দ্রযানের দক্ষতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন করার জায়গা নেই। অসাধারণ দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছে চন্দ্রযান-টু অরবিটার। এমনই দাবি করেছেন ইসরো-প্রধান শিবন। তীরে গিয়ে তরী ডুবেছে। চাঁদ থেকে মাত্র ২.১ কিলোমিটার দূরত্বে পৌঁছে ছিটকে গিয়েছে ল্যান্ডার। টানা ১৪ দিন ধরে চেষ্টা চালিয়েও বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। চাঁদের পিঠে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে সেটি।

মহাকাশে পাড়ির দেওয়ার সময় থেকে কোনও ত্রুটি ছিল না চন্দ্রযান ২-এর। প্রতিটি কঠিন বাধা দক্ষতার সঙ্গে অতিক্রম করেছিল সে। ঠিক যেমন ভাবে কাজ করা উচিত ছিল, সে রকম ভাবেই কাজ করেছে চন্দ্রযান ২। শিবন জানিয়েছেন চন্দ্রযান-২ অরবিটার ঠিক নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে বিক্রমকে আলাদা করেছে। পুরো প্রক্রিয়ায় কোনও সমস্যা ছিল না। চাঁদের বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি নির্ধারিত সময়ে তুলে পাঠানো থেকে শুরু করে যাবতীয় তথ্য সরবরাহ করা–। সবই করেছে নির্দিষ্ট সময়েই। তবু, ছোট্ট ভুলের জন্য গন্ডগোল হয়ে গেল শেষটুকু।

চাঁদের কক্ষ পথে এখনও ১ বছর থাকবে চন্দ্রযান-২ অরবিটার। তাই চন্দ্রযান-২ নিয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্তে আসতে নারাজ ইসরো। বিক্রমের অবতরণ সফল না হলেও চন্দ্রযান-২ অরবিটার কিন্তু সফল ভাবেই কাজ করে চলেছে।

Comments are closed.