করোনা: সেরে উঠেছে মুম্বইয়ের পরিবার, সবচেয়ে তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়েছে ৩ বছরের মেয়ে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন মুম্বই নিবাসী বছর ৩৭-এর তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী। সংক্রমণের নমুনা পাওয়া গিয়েছিল তাঁর স্ত্রী এবং একরত্তি মেয়ের শরীরেও। তবে এই তিনজনই এখন সেরে উঠছেন। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন এই তিনজনই।

    প্রাথমিক ভাবে জ্বর হয়েছিল এই যুবকের। তারপরেই ধরা পড়ে সংক্রমণ। জানা যায়, ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছেন যুবকের স্ত্রী-মেয়েও। প্রায় ১৮ দিন কঠিন লড়াইয়ের পর এবার সুস্থ হয়ে উঠছেন তাঁরা। যুবকের কথায়, “সবচেয়ে বেশি চিন্তা হয়েছিল আমার মেয়েকে নিয়ে। ও এতই ছোট যে খুব আশঙ্কায় ছিলাম। যদিও মেয়ে আমার খুব সাহসী। একটুও আতঙ্কিত হয়নি। বরং আমি বা আমার স্ত্রী’র বদলে ওই তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠেছে।“

    মুম্বইয়ের এই যুবক জানিয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে আমেরিকা গিয়েছিলেন তিনি। মুম্বই ফিরেছিলেন ৬ মার্চ। প্রাথমিক ভাবে বিমানবন্দরের থার্মাল স্ক্রিনিংয়ে কিছুই ধরা পড়েনি। তবে দিন দুয়েক পর থেকে শুরু হয় নানা উপসর্গ। তাঁর কথায়, “৮ তারিখ নাগাদ প্রথম জ্বর আসে আমার। ভেবেছিলাম এত জার্নি করেছি। হয়তো ক্লান্তি থেকেই এসব হচ্ছে। তাই সেইসময় প্যারাসিটামল খেয়েছিলাম। কিন্তু জ্বর না কমায় পরের দিন অর্থাৎ হোলির দিন স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে চেকআপ করাতে যাই।“

    যুবক জানিয়েছেন, ডাক্তার তাঁকে সাধারণ জ্বরের ওষুধই দিয়েছিলেন। হোলির দিন বেলার দিক জ্বর কমেও যায়। সারাদিন বাড়িতেই বিশ্রাম নেন তিনি। কিন্তু বিপত্তি শুরু হয় পরের দিন অফিস যাওয়ার পর। আচমকা এক ঘণ্টার মধ্যেই প্রচণ্ড শরীর খারাপ হয়ে যায় ওই যুবকের। তিনি জানিয়েছেন, “আচমকাই প্রবল জ্বর আসে আমার। গলা শুকিয়ে যাচ্ছিল। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। কোনওরকমে বাড়ি এসেই ডাক্তারের কাছে যাই।“ সব লক্ষণ দেখে যুবকের পারিবারিক চিকিৎসক বুঝতে পারেন যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন তাঁর রোগী। সঙ্গে সঙ্গেই বৃহন্মুম্বই পুরসভার সঙ্গে যোগাযোগ করে কস্তুরবা হাসপাতালে পাঠানো হয় যুবককে।

    এরপর কস্তুরবা হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। তারপরেই জানা যায় যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন যুবক। সতর্কতার খাতিরে তাঁর স্ত্রী এবং দুই মেয়েরও লালারসের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। দেখা যায়, যুবকের স্ত্রী এবং ছোট মেয়ে (৩ বছর) করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। বড় মেয়ে (৭ বছর) কিছু হয়নি। যুবকের কথায়, “ওদের আক্রান্ত হতে দেখে মানসিক ভাবে খুব ভেঙে পড়েছিলাম। বারবার মনে হচ্ছিল আমার জন্যই সব হয়েছে। আমার ছোট্ট মেয়েটাও কষ্ট পাচ্ছে।“ তবে পুরো পরিবারকেই একসঙ্গে কস্তুরবা হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছিল। তাই চোখের সামনেই সবাইকে দেখতে পাচ্ছিলেন ওই যুবক। কিছুটা হলেও মনোবল বাড়ছিল তাঁর।

    কিন্তু এর মাঝেই ১৯ মার্চ আচমকাই যুবকের শারীরিক অবস্থার বেশ অবনতি হয়। তাঁকে রাখা হয় ভেন্টিলেশনে। পরের দিন অর্থাৎ ২০ মার্চ কস্তুরবা হাসপাতাল থেকে যুবককে পাঠানো জসলোক হাসপাতালে। এরপর গত ৩১ মার্চ হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয় যুবককে। তাঁর স্ত্রী এবং মেয়ে অবশ্য অনেক আগেই ছাড়া পেয়েছিলেন। ৩০ মার্চ হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয় যুবকের স্ত্রীকে। আর ভর্তির ১০ দিনের মাথায় ছাড়া পান তাঁর সন্তান। যুবকের কথায়, “দুটো হাসপাতালেই আমাদের সঠিক চিকিৎসা হয়েছে। কেউ আক্রান্ত হলে আতঙ্কিত হবেন না। চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা সারাক্ষণ আমাদের সবচেয়ে ভাল পরিষেবা দেওয়ার জন্য তৈরি আছে। সাধারণ মানুষকে সুস্থ করার জন্য জানাপ্রাণ লড়িয়ে দিচ্ছেন তাঁরা। আতঙ্কিত না হয়ে তাঁদের পরামর্শ মেনে চলুন। ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া করুন, তাহলে প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। আর এর ফলেই তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠবেন সকলে, যেমনটা আমি এবং আমার পরিবার হয়েছি।“

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More