বুধবার, অক্টোবর ১৬

নিলামে তিমির বমি! দাম উঠল প্রায় ২ কোটি টাকা, বেচতে গিয়ে ধরা পড়লেন দু’জন

  • 81
  •  
  •  
    81
    Shares

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সমুদ্র সৈকতে থকথকে, সুগন্ধী জিনিসটা পড়ে থাকতে দেখেই হাতে যেন স্বর্গ পেয়েছিলেন রাহুল টুপারে। এই জিনিসটার সঙ্গে বিলক্ষণ পরিচিত ছিলেন তিনি। বলের আকারে থকথকে জিনিসটা মোটেও হেলাফেলার বস্তু নয়। নিলামে এর দর ওঠে কোটি টাকা। অ্যাম্বারগ্রিজ। চলতি কথায় তিমির বমি।

গোপনে এই অ্যাম্বারগ্রিজ বেচতে গিয়েই পুলিশের হাতে ধরা পড়লেন ৫৩ বছরের রাহুল টুপারে। বিদ্যাবিহারের কামা লেনে শনিবার তাঁকে পাকড়াও করে পুলিশ ও বন দফতরের আধিকারিকরা। তাঁকে জেরা করেই বুধবার ললিত ব্যাস নামে আরও একজনকে পাকড়াও করা হয়েছে। এই দু’জনেই বেআইনি ভাবে অ্যাম্বারগ্রিজ বেচার চেষ্টা করেছিলেন বলে পুলিশের দাবি।  অভিযোগ, অনুমতি ছাড়া আগেও অ্যাম্বারগ্রিজ বিক্রি করেছিলেন ওই ব্যক্তি। কিন্তু, এই বার তক্কে তক্কেই ছিল পুলিশ। বিক্রির সময়তেই হাতেনাতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

১.৩ কিলোগ্রাম ওজনের ওই অ্যাম্বারগ্রিজ কুড়িয়ে নিয়েই রাহুল সোজা হাজির হন এক নিলামের আখড়ায়। তাঁকে সঙ্গ দেন ললিতও। নিলামদার পরীক্ষা করে জানান, বস্তুটি খাঁটি অ্যাম্বারগ্রিজ। তিমি মাছের বমি। সমুদ্র সৈকতে সচরাচর এ ভাবে খুঁজে পাওয়া খুব সৌভাগ্যের বিষয়। দামও উঠেছিল খাসা। প্রায় ২ কোটি টাকার কাছাকাছি।

তিমি মাছের অন্ত্রে তৈরি হয় অ্যাম্বারগ্রিজ । জীববিজ্ঞানীরা মনে করেন, তিমির অন্ত্রের ভিতরে প্রদাহ কমাতে এক ধরনের ক্ষরণ হয়। সেই ক্ষরণ থেকেই অ্যাম্বারগ্রিজ তৈরি হয়। কিছু দিন অন্তর অন্তর বমি বা মলের সঙ্গে এই বিশেষ ক্ষরণ তিমির শরীর থেকে বেরিয়ে আসে। অ্যাম্বারগ্রিজ সাধারণত সুগন্ধী হয়। এটি পারফিউম তৈরির অন্যতম উপকরণ। পারফিউমে সুগন্ধের মাত্রা বাড়াতে এবং তাকে দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী করতে অ্যাম্বারগ্রিজ ব্যবহার করা হয়। অ্যালকোহল, ইথার, ক্লোরোফর্মে সহজেই দ্রবীভূত হয়ে যায় এই অ্যাম্বারগ্রিজ। তাই বস্তুটির মূল্যও আকাশছোঁয়া।

ডেপুটি কমিশনার (জোন ৭) অখিলেশ কুমার সিং বলেছেন, “আমরা যখন এই অ্যাম্বারগ্রিজ উদ্ধার করি, সেটা সেমি সলিড পাথরের মতো ছিল। বেআইনি ভাবে অ্যাম্বারগ্রিজ চালান দেওয়ার একটা চক্র তৈরি হয়েছে। রাহুল, ললিতের মতোই আরও অনেকে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত। তাদের খোঁজ চলছে। ”

বন দফতরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, রাহুল যে অ্যাম্বারগ্রিজটি বেচতে নিয়ে গিয়েছিলেন সেটি ছিল বিরল প্রজাতির স্পার্ম তিমির। এই তিমির সংখ্যা বর্তমানে বিলুপ্তপ্রায়। তাই বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের আওতায় এই তিমিকে রাখা হয়েছে।

Comments are closed.