বুধবার, জুন ১৯

মাকালুর নীচে বরফে একটি কালো স্পট দেখেছে কপ্টার, ওখানেই কি পড়ে আছেন দীপঙ্কর!

রূপাঞ্জন গোস্বামী

পর্বতারোহণ আয়োজক সংস্থা ‘সেভেন সামিটস ট্রেক’ গত কালই হেলিকপ্টার পাঠিয়েছিল মাকালুতে নিখোঁজ পর্বতারোহী দীপঙ্কর ঘোষের খোঁজে। কপ্টারে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যুবকল্যাণ দফতরের পর্বতারোহণ শাখার (ওয়েস্ট বেঙ্গল মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস ফাউন্ডেশন) উপদেষ্টা দেবদাস নন্দীও। জানা গিয়েছে, হেলিকপ্টারটি ক্যাম্প-৪ এর ওপরে সাদা বরফের মধ্যে একটি কালো স্পট দেখতে পেয়েছে। উদ্ধারকারী দলের অনুমান, ওই কালো স্পটটিই হয়ত দীপঙ্কর! তাই গত কালই সাত শেরপার একটি অভিজ্ঞ দলকে স্পটে পাঠানো হয় এজেন্সির তরফে।

দেবদাস নন্দী কিছুক্ষণ আগে টেলিফোনে দ্য ওয়াল-কে জানিয়েছেন, আজ ওই উদ্ধারকারী শেরপা দলটি  ক্যাম্প-২ পৌঁছে গেছে। আজ রাতে ফের ক্যাম্প ফোরের উদ্দেশে রওনা দেবে তারা। পৌঁছনোর চেষ্টা করবে ঘটনাস্থলে। কপ্টারের চিহ্নিত এলাকায় পায়ে হেঁটে উদ্ধারের চেষ্টা করবে দীপঙ্করকে। বেসক্যাম্পে থাকবেন দেবদাস নিজে।

বিশ্বের পঞ্চম উচ্চতে শৃঙ্গে, নেপালের মাকালু-তে আরোহণ করে নামার পথে নিঁখোজ হয়ে গিয়েছিলেন বাংলার অভিজ্ঞ পর্বতারোহী দীপঙ্কর ঘোষ। ১৬ তারিখ সন্ধে থেকে খোঁজ মেলেনি তাঁর। দীপঙ্কর ঘোষের মাকালু অভিযানের আয়োজক সংস্থা সেভেন সামিটসের তরফে কর্ণধার মিংমা শেরপা জানিয়েছেন, ১৬ তারিখে মাকালু শৃঙ্গ আরোহণ করে ফেরার পথে আরোহীরা যখন ক্যাম্প-৪ থেকে মাত্র ৩০০ মিটার দূরে, আবহাওয়া হঠাৎ খারাপ হয়ে যায়। প্রচন্ড জোরে হাওয়া বইতে শুরু করে। অভিযাত্রীরা দলছুট হয়ে পড়ে। হাওয়ার গতিবেগ এতই বেশি ছিল কেউ কারও খেয়াল রাখতে পারেননি।

শেষমেশ সবাই ক্যাম্প-৪ এ ফিরে এলেও, দীপঙ্কর ফেরেননি। তিনি কোনও তুষারধসে পড়েছিলেন বলে অনুমান করেছিলেন সকলে। ১৭ তারিখ সকালে দলের শেরপা ও বাকিরা দীপঙ্করবাবুর খোঁজ করতে থাকেন। কিন্তু তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তখন মিংমা শেরপা ক্যাম্প-২ থেকে শানু শেরপাকে পাঠান দীপঙ্করকে খোঁজার জন্য। শানু শেরপা ক্যাম্প-৩ থেকে অক্সিজেন নিয়ে ক্যাম্প-৪ পৌঁছন। সেখানে তিনি বহু খুঁজেও দীপঙ্কর ঘোষের হদিস পাননি।

এর মধ্যে আবহাওয়া খারাপ থাকায় এবং শেরপারা আরোহণ ও নানা উদ্ধারে ব্যস্ত থাকায়, চালানো যায়নি খোঁজ। পাঠানো যায়নি কপ্টারও। শেষমেশ মঙ্গলবার কপ্টার পৌঁছয়।  মিংমা শেরপা জানিয়েছেন, আজ সন্ধে নাগাদ যাত্রা শুরু করে, আজ রাতেই দলটি ক্যাম্প-৩ পৌঁছে যাবে। আগামী কাল ২৩ মে, সকাল ১০ টা নাগাদ  উদ্ধারকারী শেরপা দলটি ক্যাম্প-৪ পৌঁছে ক্যাম্পের আশেপাশে দীপঙ্করের সন্ধান চালাবে। হেলিকপ্টার থেকে দেখতে পাওয়া কালো স্পটটি চিহ্নিত করার চেষ্টা করবে।

মিংমা শেরপা জানিয়েছেন, দীপঙ্করবাবুকে পাওয়া গেলে তো শেরপারা নীচে নিয়ে আসবেনই। না পাওয়া গেলেও এলাকার পুরো ভিডিও তুলে আনবেন। তাই কাল সকাল দশটার পরে বোঝা যাবে বাংলার পর্বতারোহী দীপঙ্কর ঘোষের প্রকৃত অবস্থা ও অবস্থান।

তবে মিংমা শেরপার গলায় ফুটে উঠেছে হতাশা। মিংমা জানান, দীপঙ্করবাবু দীর্ঘদিন ধরে তাঁর সংস্থার ব্যবস্থাপনায় পর্বতাভিযান করেছেন। এবং তিনি খুব বড় মাপের পর্বতারোহী ছিলেন। কিন্তু দুর্ঘটনা শুধু পর্বতারোহীদেরই হয় না, দুর্ঘটনা থেকে রেহাই পান না শেরপারাও। দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে পেম্বা শেরপার মত বিখ্যাত শেরপাকেও। মিংমা শেরপার হতাশা  ক্রমশ চেপে বসছে বাংলার পর্বতপ্রেমী মানুষের মনে।

এমনিতেও আট হাজার মিটারের উপরে দীপঙ্কর নিখোঁজ হওয়ার পরে কেটে গিয়েছে ছ’রাত। সব কি শেষ তা হলে! উৎকণ্ঠা ও উদ্বেগের প্রহর যেন ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে বাংলার পর্বতারোহণ মহলে।

Comments are closed.