বুধবার, নভেম্বর ২০
TheWall
TheWall

কৃষ্ণনগরে মায়েদের রেস্তোরাঁ, রাঁধেন-বাড়েন যত্ন করে খাওয়ান

শুভদীপ সামন্ত

এই রান্নায় মায়ের হাতের স্বাদ। গরম ধোঁয়া ওঠা থালায় মায়ের স্নেহের পরশ। এখানে মায়েরাই রাঁধেন, বাড়েন। থালা সাজিয়ে পরিপাটি পরিবেশন করেন। পাশে দাঁড়িয়ে স্নেহমাখা গলায় জিজ্ঞাসাও করেন, “রান্না ঠিক ছিল! পেট ভরেছে তো!”

রান্নায় আর আপ্যায়নে ঠিক মায়ের মতোই স্নেহ-আদর পেতে হলে একবার যেতেই হবে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মায়েদের রেস্তোরাঁয়। শহর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরত্বে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের উপরে ইন্ডিয়ান অয়েল পেট্রল পাম্পের পাশে এই রেস্তোরাঁ সাজিয়েছেন মায়েরাই। সম্পূর্ণ মহিলা পরিচালিত এই রেস্তোরাঁর নাম ‘মাদার’স হাট: ফ্যামিলি ফুড কোর্ট।’

রেস্তোরাঁর দরজা ঠেলে ঢুকলেই চোখ টানবে এর শান্ত-শীতল পরিবেশ। কোমরে আঁচল গুঁজে খাবারের থালা হাতে মায়েদের সে কী ব্যস্ততা! কেউ অর্ডার নিচ্ছেন, কেউ পরিবেশন করছেন আবার কেউ কাউন্টার সামলাচ্ছেন। অতিথি আপ্যায়নেও বিন্দুমাত্র ত্রুটি নেই। এই মায়েরা কিন্তু আবার টেক-স্যাভিও। অর্ডার তুরন্ত লিখে নেন মোবাইলে। কোন টেবিলে যাবে বিরিয়ানি, আর কোথায় বাসন্তী পোলাও—তার সঠিক নির্দেশ পৌঁছে যায় অন্য মায়েদের কাছে। সব কাজই ভাগ করা। তবে যিনি খুন্তি নাড়তে পারেন, তিনি আবার কাউন্টারে বসে দক্ষ হাতে ব্যবসাও সামলাতে পারেন।

রেস্তোরাঁর ভিতরের সাজসজ্জাতেও রয়েছে মায়ের হাতের যত্ন। দেওয়ালজুড়ে নানারকম গাছগাছালি। সবুজের ছোঁয়ায় পরিবেশ মনোরম। তাতে আবার আধুনিকতার ছাপও রয়েছে। রেস্তোরাঁ তো বটেই, একইসঙ্গে জেন এক্স-জেন ওয়াইয়ের আড্ডার জায়গাও বটে। কলেজ ছুটি হলেই ঝাঁক বেঁধে তরুণ-তরুণীরা চলে আসেন মায়ের হাতের রান্নার স্বাদ চাখতে। খাবারের মেনুতেও রয়েছে বৈচিত্র্য। মোগলাই থেকে চাইনিজ—সবই রাঁধতে পারেন মায়েরা। আবার কন্টিনেন্টালও রয়েছে মনমতো। কেক-পেস্ট্রি-কুকিজ-আইসক্রিম শেষ পাতের মিষ্টিমুখেরও হরেক আয়োজন।

মাদার’স হাটে এখন কাজ করেন ১৫০ জন মা। সংসার সামলে সাইকেলে চেপে অনেকেই এসে পৌঁছন সকালে। দিনভর ব্যস্ততার শেষে ঘরে ফেরেন দলবেঁধে। এই রেস্তোরাঁ তাঁদের সন্তানের মতো। পেশা শুধু নয়, নিজের হাতে রেঁধে-খাইয়ে অতিথিদের তৃপ্তির হাসিটুকুই সেরা প্রাপ্তি। লিঙ্গসাম্য বা নারীশক্তির জয় নিয়ে মাথাব্যথা নেই এই মায়েদের। মহিলা পরিচালিত রেস্তোরাঁ বলে আলাদা কোনও আস্ফালনও নেই। খিদের মুখে গরম বিরিয়ানির থালা ধরাতেই আনন্দ মায়েদের।

স্যার, খুন আমি করেছি

Comments are closed.