সোমবার, অক্টোবর ১৪

মা-হনুমানেরা ধর্নায় বসল থানার সামনে, বাচ্চাদের নিয়ে যাব কোথায়!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চার দিকে কাটা পড়ছে গাছ। আশ্রয় নেই, খাবার নেই তাদের। বাধ্য হয়েই তারা খাবারের সন্ধানে প্রায়ই ঢুকে পড়ে লোকালয়ে। তবে তাদের এই বাধ্যতা, সাধারণ মানুষের কাছে রীতিমতো উপদ্রব। সম্প্রতি বাংলাদেশের যশোরে, পাড়ায় পাড়ায় বেড়েছে হনুমানের উপদ্রব। যখন-তখন গৃহস্থ বাড়িতে ঢুকে হামলা চালাচ্ছে তারা। ছোট থেকে বড়, সকলেই ঢুকে পড়ছে ঘরে। মারধরও করা হচ্ছে তাদের। তবে কে জানত, অভিযোগ করতে থানায় গিয়ে পৌঁছবে হনুমানের দল!

কয়েক দিন আগেই যশোরের কেশবপুর এলাকায় এক জন গৃহস্থের ঘরে ঢুকে পড়ে একটি দলছুট হনুমান শাবক। খাবারের খোঁজে লম্ফঝম্প করতে থাকে সে ঘর জুড়ে। স্বভাবতই বিরক্ত হন গৃহস্থ। মারধর করেন সেই ছানাকে। তাড়িয়ে দেন তাকে। আর এতেই খেপে গিয়ে বাচ্চাতে কোলে নিয়ে মা হনুমানের গিয়ে ধর্না দিল থানার সামনে। শুনতে অদ্ভুত মনে হলেও, এমনটাই ঘটেছে রবিবার।

দুপুরে হঠাৎ দেখা যায়, কেশবপুর থানার প্রধান ফটকের সামনে একসঙ্গে জড়ো হয়েছে একাধিক হনুমান। প্রত্যেকের কোলে একটা করে ছানা। থানা চত্বরে ও ভিতরে তাদের লাফালাফিতে পুলিশ সদস্যরা হতচকিত হয়ে পড়েন। ভয়ও পেয়ে যান। তবে খানিক পরে তাদের অতি যত্নে খাবার খাইয়ে শান্ত রাখার চেষ্টা করা হয়।

কেশবপুর থানার ওসি মহম্মদ শাহিন বলেন, “রবিবার দুপুরে থানা চত্বর ফাঁকাই ছিল। হঠাৎই একটি মা হনুমান কোলে বাচ্চা নিয়ে প্রথমে থানায় আসে। তখনও কিছু মনে হয়নি, কারণ এলাকায় প্রচুর হনুমান ঘোরাঘুরি করে ইদানীং। কিন্তু পরে আমরা খেয়াল করি, বাচ্চাটি আহত। আমরা প্রথমে ভাবি, মা হয়তো বাচ্চাটিকে নিয়ে সাহায্য চাইতে এসেছে। কিন্তু এর পরপরই প্রায় ২০-২৫টি হনুমান দলবদ্ধ ভাবে থানার মেন গেটের সামনে জড়ো হয়। কিছু শুকনো খাবার দিলে ঘণ্টাখানেক পরে হনুমানের দল চলেও যায়।”

কেশবপুর উপজেলা বন দফতরের আধিকারিক আব্দুল মোনায়েম হোসেন বলেন, “যশোরের শহর ও শহরতলিতে শতাধিক হনুমান রয়েছে। তাদের খেতেও দেওয়া হয়। প্রতিদিন ৩৫ কেজি কলা, ২ কেজি বাদাম ও ২ কেজি পাঁউরুটি বরাদ্দ রয়েছে তাদের জন্য, যা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারে নগণ্য। সে জন্যই খাবার না পেয়ে হনুমানেরা মানুষের ঘরবাড়িতে ঢুকে পড়ে।”

তবে এরকম ভাবে থানায় আসার ঘটনায় বিস্মিত সকলেই। তবে হনুমানগুলি বুঝেশুনেই থানায় এসেছিল, নাকি অন্য দিনের মতোই খাবার খুঁজতে চলে এসেছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন কেউ-ই। অনেকেই বলছেন, বাচ্চাদের সঙ্গে নিয়ে এসে মা হনুমানেরা খাবারের নিরাপত্তা চাইতে এসেছিল। হনুমানের যা বুদ্ধিমত্তা, তাতে এমনটা হতেও পারে। আবার কেউ বলছেন, হনুমান কখনওই মানুষের মতো বিচার চাইতে থানায় আসবে না। এটা কাকতালীয়।

পড়তে ভুলবেন না…

Comments are closed.