লকডাউনে বন্ধ ফ্যাশন হাউস, দেশবাসীর জন্য সংক্রমণ ঠেকানোর পোশাক বানাচ্ছেন মিজোরামের ৪০০ দর্জি

দেশজুড়ে ভাইরাসের মহামারী ঠেকাতে যাঁরা লড়াই করছেন, তাঁদের জন্যই সেলাই মেশিন খুলে বসলেন মিজোরামের অন্তত ৪০০ জন দর্জি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউনে বন্ধ ফ্যাশন হাউস। তাতে অবশ্য কাজ বন্ধ করেননি দর্জিরা। ফ্যাশনেবল জামাকাপড় তৈরি বন্ধ তো কী হয়েছে, দেশজুড়ে ভাইরাসের মহামারী ঠেকাতে যাঁরা লড়াই করছেন, তাঁদের জন্যই সেলাই মেশিন খুলে বসলেন মিজোরামের অন্তত ৪০০ জন দর্জি। ফেস-মাস্ক, গ্লাভস, জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য বিশেষ পোশাক (পিপিই), সংক্রামিতদের কাছাকাছি থাকতে হচ্ছে যাঁদের, তাঁদের জন্য সংক্রমণ ঠেকানোর মতো পোশাক বুনে চলেছেন দিবারাত্র।

    “পাঁচজন মহিলা জামার কাটিং করে যাচ্ছেন, বাকিরা কেউ মাস্ক, কেউ ডাক্তার-স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য পোশাক বুনছেন। কাজ চলছে ২৪ ঘণ্টা,” বলেছেন জেটি ফ্যাশন হাউসের মালিক জেনি লালদুসাকি।

    এক সপ্তাহ আগেই মিজোরামে করোনা আক্রান্ত হয়ে ৫০ বছরের এক দর্জির মৃত্যু হয়েছিল। তারপর থেকেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে মিজোরামে। জেনি বলেছেন, এখানকার হাসপাতালগুলিতে মেডিক্যাল স্টাফরা ২৪ ঘণ্টা পরিশ্রম করছেন। কোয়ারেন্টাইনে থাকা লোকজনের দেখাশোনা করছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। তাঁদের সুরক্ষার কথা ভেবেই হাত লাগিয়েছেন দর্জিরা। লকডাউনের এই সময় পিপিই পাওয়া যাচ্ছে না, হাসপাতালগুলিতে মাস্ক ও অন্যান্য সুরক্ষার সরঞ্জামের অভাব রয়েছে। ডাক্তার-স্বাস্থ্যকর্মীরা শুধু নন, পুলিশ, সিভিক ভল্যান্টিয়ার, জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত সকল ব্যক্তিদের জন্যই সংক্রমণ ঠেকানোর মতো বিশেষ পোশাক, গ্লাভস, হেড-কভার, শু-কভার, মাস্ক তৈরি করা হচ্ছে।

    ১০,৯৯০ সেট পিপিই তৈরি, দশ হাজারের বেশি এন-৯৫ মাস্ক তৈরি করা হয়েছে, প্রায় ২০০ ইনফ্রারেড সেন্সর ও ৯০০ জোড়া জুতোর কভার বানিয়ে ফেলেছেন দর্জিরা। মিজোরামের স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, এইসবকিছুই দেশের নানা জায়গায় ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

    রিজিওনাল ইনস্টিটিউট অব প্যারামেডিক্যাল অ্যান্ড নার্সিং সায়েন্সের অধ্যাপক সি লালরামদিনি বলেছেন, মিজোরামের দর্জিদের হাতে জাদু আছে।দেশের এমন সঙ্কটের সময় তাঁদের মেধাকে কাজে লাগানোর কথা ভাবা হয়। একটা সংগঠনও তৈরি করা হয়। তাতে সাড়া দিয়ে এগিয়ে আসেন অন্তত ৪০০ দর্জি। নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে কাজ শুরু করেন। লকডাউনের সময় অনেককেই পায়ে হেঁটে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আসতে হয়েছে। অনেক মহিলারা কাজের শেষে বাড়ি ফিরে যেতে পারেননি। দিবারাত্র তাঁরা কাজ করেই যাচ্ছেন।

    ইয়ং মিডো অ্যাসোসিয়েশন ও মিজোরামের স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, যা যা প্রোডাক্ট তৈরি হচ্ছে তার সবটাই ছড়িয়ে দেওয়া হবে দেশের নানা প্রান্তে। তারজন্য সরকারি ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয় হাসপাতালগুলিতে পিপিই পৌঁছে দিচ্ছে টাস্ক ফোর্স।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More