ছন্দে ফিরছে চিন, হুবেই ছেড়ে বাড়ির পথে আড়াই হাজারের বেশি স্বাস্থ্যকর্মী

সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, ২২টি চাটার্ড বিমানে চেপে হুবেই ছেড়েছেন অন্তত ২৫২০ জন স্বাস্থ্যকর্মী।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার আতঙ্ক একটু একটু করে কমছে চিনে। নতুন করে সংক্রামিতের সংখ্যা হাতে গোনা। চিনের ন্যাশনাল হেলথ কমিশন জানিয়েছে, ‘লোকাল ট্রান্সমিশন’ কমছে হুবেই প্রদেশে। হাসপাতাল-নার্সিংহোমগুলির আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভিড় কমছে রোগীদের। দীর্ঘদিনের ক্লান্তি কাটিয়ে বাড়ি ফিরছেন স্বাস্থ্যকর্মী ও বিশেষজ্ঞরা। সূত্রের খবর, গতকাল থেকেই হুবেই ছাড়ছেন চিনের নানা প্রদেশ থেকে আসা ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

    সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, ২২টি চাটার্ড বিমানে চেপে হুবেই ছেড়েছেন অন্তত ২৫২০ জন স্বাস্থ্যকর্মী। উহান তিয়ানহে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আজ সকালেও একের পর এক বিমানে চেপে নিজেদের বাড়ির পথ ধরেছেন স্বাস্থ্যকর্মী ও বিশেষজ্ঞরা।

    করোনাভাইরাসের আঁতুরঘর বলা হয়েছে উহানকেই। সেখানকার সি-ফুড মার্কেট থেকেই প্রথম ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ানোর খবর সামনে আসে। একজন, দু’জন করে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকে। মহামারীর আকার নেয় সংক্রমণ। মড়ক লেগে যায় হুবেই-সহ চিনের আরও কয়েকটি প্রদেশে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার (হু) রিপোর্ট বলছে, চিনে ভাইরাসের সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা ৩,২৪৮। সংক্রামিত ৮০,৯৬৭। তবে আতঙ্ক ও মৃত্যুর পরিবেশেও স্বস্তি দিয়েছে হু-এর আরও একটি রিপোর্ট। বলা হয়েছে ধীরে ধীরে চিনে ভাইরাসের সংক্রমণের প্রভাব কমছে। হাসপাতাল-নার্সিংহোমগুলিতে ডাক্তার-নার্স ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের নিরলস পরিশ্রম ও সহযোগিতায় সেরেও উঠেছেন বহু মানুষ। সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা মানুষের সংখ্যা ৭০ হাজার ছুঁয়েছে।

    চিনের ন্যাশনাল হেলথ কমিশনের রিপোর্ট বলছে, উহানে যে সময় মহামারী হয়ে ওঠে করোনার সংক্রমণ, তখন হাল ধরেন অভিজ্ঞ ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। চিনের নানা প্রদেশ থেকে তাঁরা হাজির হন হুবেইতে। প্রাণের ঝুঁকি নিয়েও চিকিৎসা শুরু করেন ভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের। ৪১টি দলে ভাগ হয়ে আড়াই হাজারেরও বেশি স্বাস্থ্যকর্মী ও ডাক্তাররা ছড়িয়ে পড়েন উহানের ১৪টি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। তাছাড়া বিভিন্ন জায়গায় কোয়ারেন্টাইন সেন্টার তৈরি করেও সেখানে কাজ করা শুরু করেন ডাক্তাররা।

    সংক্রামিত রোগীদের চিকিৎসা করতে করতে অসুস্থও হয়েছেন অনেক ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। উহান সেন্ট্রাল হাসপাতালের ডাক্তার লি ওয়েনলিয়াঙ-সহ আরও কয়েকজন ডাক্তারের মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে। আবার এমন অভিযোগও উঠেছে, মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীদের উপর মানসিক নির্যাতন চলছে হাসপাতালগুলিতে। তাঁদের জোর করে আইসোলেশন ওয়ার্ডে সংক্রামিত রোগীদের সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাতে বাধ্য করা হচ্ছে। খাবার দেওযা হচ্ছে না, এমনকি বাথরুমে যাওয়াও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। উহানের হাসপাতালগুলির বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর অভিযোগ এনেছিলেন অনেক মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীই। অভিযোগ ছিল, জোর করে পিল খাইয়ে হাসপাতাল-নার্সিংহোমের বেশিরভাগ মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীদের ঋতুস্রাব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আইসোলেশন ওয়ার্ডে থাকার সময় বাথরুমে যেতে দেওয়া হত না। এমনকি ওয়ার্ডের বাইরেও বার হতে দেওয়া হত না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা খাবার ও জল না খেয়ে কাজ করতে হত। হাসপাতালের দেওয়া নির্দিষ্ট আইসোলেশন স্যুটই পরে থাকতে হত সবসময়। কারও ঋতুস্রাব হলে স্যানিটারি ন্যাপকিন দেওয়া হত না। ন্যাপকিন বদলাবার অনুমতিও ছিল না। অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। শারীরিক সমস্যা শুরু হয়েছিল অনেক মহিলারই।

    তবে এই আতঙ্কের পরিবেশ নাকি অনেকটাই কমেছে। দীর্ঘদিনের বন্দিদশা কাটিয়ে পরিবারের কাছে ফিরে যাচ্ছেন ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। তাঁরা সুস্থ করেছেন হাজার হাজার মরণাপন্ন রোগীকে। স্বাস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন সকলেই।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More