নন্দকুমারে সালিশি সভায় তিন লক্ষ টাকা জরিমানা, যুবকের আত্মহত্যায় কাঠগড়ায় পঞ্চায়েত

সালিশি সভায় মোহন মণ্ডলকে জরিমানা করা হয়নি, মৃতের পরিবারকে সাহায্য করার জন্য তিন লক্ষ টাকা দিতে বলা হয়। বলছেন পঞ্চায়েতপ্রধান।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমারে এক ব্যক্তির মৃত্যুর পরে ফের অভিযোগ উঠল গ্রাম পঞ্চায়েতে সালিশি সভায় বিচারের নামে প্রহসনের। অভিযোগ, ভিন রাজ্য থেকে ভাইপোর দেহ গ্রামে পাঠানোর নথিতে সই করার জন্য মোহন মণ্ডল নামে বছর বিয়াল্লিশের এক ব্যক্তিকে তিন লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। তার জেরেই তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন।

কয়েক মাস আগে নন্দকুমারের আলাশুলি গ্রামের ঠিকাদার চন্দন বেরার সঙ্গে ওই গ্রামেরই মোহন মণ্ডল ও তাঁর ভাইপো শ্যামল মণ্ডল মুম্বাইয়ে ইলেকট্রিকের কাজ করতে গিয়েছিলেন। ওই ঠিকাদারের সঙ্গে গ্রামের মোট ছ’জন বাসিন্দা গিয়েছিলেন।

মোহন মণ্ডলের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ভিন রাজ্যে কাজে গিয়ে প্রায় মাস দুয়েক আগে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান শ্যামল। তখন বাড়িতে দেহ আনার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্রে সই করেন তাঁর কাকা মোহন মণ্ডল। ঠিকাদার তখন এ ব্যাপারে কোনও সহযোগিতা করেননি বলেই তিনি সইসাবুদ করেছিলেন। এই অবস্থায় শ্যামলের পরিবার অভিযোগ তোলে, কোনও কাগজপত্রে ঠিকাদার সই না করার জন্য ঠিকাদারের কাছে তাঁরা কিছু দাবি করতে পারছেন না।

মোহন মণ্ডল বাড়িতে ফেরার পরে ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন। এরপরে ১২ জুলাই গ্রামে সালিশি সভা হয়। অভিযোগ, ওই সব নথিতে সই করার জন্য সেই সভায় মোহন মণ্ডলকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। সেখানে তাঁকে তিন লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয় বলে অভিযোগ। পরিবারের আরও অভিযোগ, এত টাকা দেওয়া সম্ভব ছিল না মোহনের পক্ষে। তা ছাড়া চরম অপমানিতও হয়েছিলেন। তাই ১৭ জুলাই রাতে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি পেয়ারা গাছে গলায় দড়ি দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। নন্দকুমার থানার পুলিশ শনিবার সকালে দেহটি ময়না তদন্তের জন্য তমলুক জেলা হাসপাতাল পাঠিয়েছে।

তিন লক্ষ টাকা যে দিতে বলা হয়েছিল সে কথা এক রকম স্বীকারই করে নিয়েছেন পঞ্চায়েতের প্রধান। স্থানীয় ব্যবর্তার হাট পশ্চিম পাঁচ নম্বর অঞ্চলের প্রধান স্বপ্না মাঝি বলেন, “সালিশি সভায় মোহন মণ্ডলকে তিন লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়নি। শ্যামল মণ্ডলের পরিবারকে সাহায্য করার জন্য ওই টাকা দিতে বলা হয়েছিল।” মৃতের মা আশালতা মণ্ডল বলেন, “জরিমানা করা হয়েছিল এ কথা সত্যি।” প্রতিবেশীরাও তাঁদের সঙ্গে একমত। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

আলাশুলির এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন গ্রামের লোকজন। গ্রামে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More