বুধবার, জুলাই ১৭

মোদীর ডাকা মিটিংয়ে যাবেন কি না, কাল চিঠি লিখে জানাবেন মমতা

রফিকুল জামাদার

সংসদের অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে রবিবার এক প্রস্ত সর্বদল বৈঠক হয়েছে। কিন্তু তার পরেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়ে দিয়েছিলেন, এর পরেও সব রাজনৈতিক দলের সভাপতি বা সভানেত্রীর সঙ্গে বৈঠক করতে চান তিনি। ১৯ জুন হবে সেই বৈঠক। সে জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রশ্ন হল, এই বৈঠকেও কি যাবেন মমতা?

সোমবার সন্ধ্যায় নবান্ন থেকে বেরোনোর সময়ে এই প্রশ্ন সরাসরি করা হয় মুখ্যমন্ত্রীকে। জবাবে তিনি বলেন, “যাব কি যাব না সেটা কাল চিঠি লিখে জানাব।” তাঁকে ফের প্রশ্ন করা হয়, কাল চিঠি লিখবেন, তার মানে কি যাবেন না? এ প্রশ্নে মুখ্যমন্ত্রী কিছুটা বিরক্ত হয়ে বলেন, “তোমাদের এই মুশকিল, সব কিছু একসঙ্গে জানতে হবে?”

ক’দিন আগে সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে নীতি আয়োগ বৈঠক ডেকেছিল। ওই বৈঠকেও পৌরোহিত্য করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু সেই বৈঠকেও বাংলার মুখ্যমন্ত্রী যাননি। সেই সঙ্গে বলেছিলেন, নীতি আয়োগ কাজের কাজ কিছু করে না। যোজনা কমিশন তবু কাজ করত। কিন্তু নীতি আয়োগের কোনও মূল্যই নেই।

প্রশ্ন হল, কেন সব রাজনৈতিক দলের সভাপতি বা সভানেত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করতে চান প্রধানমন্ত্রী? কেনই বা কৌশলে পা ফেলছেন মমতা?

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, লোকসভা ভোটে একাই তিনশো পার করে মোদী বৃহৎ হৃদয়ের পরিচয় দিতে চাইছেন। যেমন সোমবারও সংসদের অধিবেশন শুরুর আগে বলেছেন, “কোন দল কত আসন পেল সংসদের ভিতরে তা যেন বিবেচিত না হয়। সেখানে সবাই যেন আলোচনায় অংশ নেন। এখানে কোনও পক্ষ নেই, বিপক্ষ নেই। নিরপেক্ষ আলোচনা হোক।”

তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে বৈঠকে ডাকার নেপথ্যে সুস্পষ্ট কৌশল রয়েছে। মোদীর উপদেষ্টাদের বক্তব্য, সংসদের ভিতরে কোন রাজনৈতিক দল কী অবস্থান নেবে, তা ওই দলের সংসদীয় নেতৃত্বের উপরে নির্ভর করে না। যেমন তৃণমূল কংগ্রেস। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েনরা সংসদে কোনও বিল নিয়ে কী অবস্থান নেবেন, তা নির্ধারণের অধিকার তাঁদের নেই। কলকাতায় বসে তা ঠিক করে দেন মমতাই।

তাই সংসদের অধিবেশন শুরুর আগে রাজনৈতিক দলের সভাপতি বা সভানেত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করাই ভাল। সরকার কোন কোন বিল আনতে চাইবে তা সেখানে বলা হবে, আবার বিরোধী দলগুলির কীসে কীসে আপত্তি রয়েছে বা কী বক্তব্য, তা আগেই জানা যাবে। সরকার প্রয়োজন হলে আগে থেকে বিলে সংশোধন করে আনতে পারবে।

অনেকের মতে, মমতা হয়তো মোদীর এই কৌশল আঁচ করতে পারছেন। আর যাই হোক সংসদের কোনও কক্ষেই তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করতে রাজি নয়। হতে পারে সেই কারণে ১৯ জুনের বৈঠকও এড়াতে চাইছেন তৃণমূল সভানেত্রী।

বিজেপি রাজ্য নেতৃত্ব অবশ্য এ ব্যাপারেও মমতাকে কটাক্ষ করেছেন। দলের মুখপাত্র সায়ন্তন বসু বলেন, “ওঁর দিল্লি যাওয়ার মুখ নেই। ভেবেছিলেন প্রধানমন্ত্রী হয়ে গেছেন। মোদীকে এক্সপায়ারি বলেছিলেন। এখন তাঁর ডাকা মিটিংয়ের জন্য দিল্লি যেতে হয়তো লজ্জা পাচ্ছেন।”

Comments are closed.