বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৫

লগ্নি প্রস্তাব প্রায় ৩ হাজার কোটি, মউ ৮৬টি, মমতা বললেন ‘বেস্ট বেঙ্গল’-ই সেরা ঠিকানা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাই এখন বিনিয়োগের সেরা ঠিকানা। বেঙ্গল বিজনেস সামিট (বিজিবিএস)-এর শেষ দিনে এমনটাই দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন, চলতি বছরের বাণিজ্য সম্মেলনে ৮৬টি মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। মোট লগ্নির প্রস্তাব এসেছে ২,৮৪,২৮৮ কোটি টাকা। ৮ থেকে ১০ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, শুধুমাত্র চর্ম শিল্পেই দু’লক্ষ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই সেখানে এক লক্ষেরও বেশি মানুষ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মমতা। এছাড়াও তথ্যপ্রযুক্তি ও ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পে আরও নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে বলে দাবি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

গত বছর এই বাণিজ্য সম্মেলনে এসে মুকেশ আম্বানি বলেছিলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ওয়েস্ট বেঙ্গল ‘বেস্ট বেঙ্গল’ হবে।” এ বছর এসে বলছেন, “এই বাংলাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেটা আমরা দেখতেও পাচ্ছি।” বিজিবিএস-এর শেষ দিনে মুকেশ আম্বানির তৈরি করা শব্দবন্ধ ‘বেস্ট বেঙ্গল’-এর প্রসঙ্গে টেনেই মুখ্যমন্ত্রী এ দিন বলেন, এ রাজ্য যে শিল্প এবং কর্মসংস্থানের সেরা জায়গা, তা আবারও প্রমাণিত হলো। দেশ-বিদেশ থেকে আসা শিল্পপতিদের ধন্যবাদ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, আগামী কয়েক বছরে দেশের মধ্যে বাংলা শিল্পের অন্যতম গন্তব্য হবে। বলেন, “আমি বিশ্বাস করি আগামী দিনে গোটা দেশ বাংলাকে অনুসরণ করবে।“

এ দিন মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন যে, ধর্মঘট, সাসপেনসন অফ ওয়ার্ক, শ্রমিক আন্দোলন, বিক্ষোভ—-এইসব পশ্চিমবঙ্গে হতে দেয় না রাজ্য সরকার। তিনি বলেন, “ধর্মঘট আমরা সমর্থন করি না। বরং রাজ্যের প্রতিভাবান তরুণ প্রজন্মের জন্য নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি তাঁদের রোজগারের সঠিক পথ দেখানোই এখন সরকারের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।“ মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, নোটবন্দির সময়ে গোটা দেশে প্রায় ২ কোটি লোক বেরোজগার হয়েছিলেন। কিন্তু এই পরিস্থিতিতেও বাংলায় বেকারি কমেছে প্রায় ৪০ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার বিজিবিএস-এর মঞ্চেই সরাসরি মোদীকে আক্রমণ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সম্মেলনে আসা শিল্পপতিদের উদ্দেশে বলেছিলেন, “আমি জানি আপনারা খুব সমস্যায় রয়েছে। আর কিছুদিন পর দেশে নতুন সরকার আসবে। আর নতুন সরকার এলে নতুন শিল্পনীতিও আসবে। তখন শিল্পপতিরা নিশ্চিন্তে বিনিয়োগ করতে পারবেন।“ এই জমানায় যেসব শিল্পপতিরা ভয়ে বিদেশে চলে গিয়েছেন তাঁদেরকেও দেশে ফিরে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

তবে শুক্রবার বাণিজ্য সম্মেলনের শেষ দিনে সরাসরি রাজনীতির কথা বলেননি মুখ্যমন্ত্রী। অবশ্য কায়দা করে, নাম না এনে  মোদীকে খোঁচা মারতেও ছাড়েননি মমতা। তাঁর কথায়, “কাজ না করে বেশি কথা বলে তো লাভ নেই। আমি সবসময়ই বলি কম কথা বলে বেশি কাজ করুন। আগে অ্যাক্ট, তারপরে রিঅ্যাক্ট।“

তবে ময়নাগুড়ির মঞ্চ থেকে মমতাকে সরাসরিই কটাক্ষ করেছেন মুকুল রায়। নব্বইয়ের দশকে শিল্পোন্নয়ন নগমের তৎকালীন চেয়ারম্যান সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে ‘মউ দাদা’ বলে খোঁচা মারত বিরোধীরা। অনেকটা সেই সুরেই মুকুল বলেন, “এত তো মউ স্বাক্ষর হচ্ছে, কিন্তু শিল্পে বিনিয়োগ হচ্ছে কই? মউ দিদির কথা কেউ বিশ্বাস করবেন না। সবটাই ভাঁওতা।“

Shares

Comments are closed.