মোদীকে আর প্রধানমন্ত্রী বলব না: দিনহাটায় মমতা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: নরেন্দ্র মোদীকে আর প্রধানমন্ত্রী বলবেন না বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন? বুধবার দিনহাটায় ভোটের পয়লা প্রচার থেকে দিদি জানিয়ে দিলেন, “মোদী এখন আর প্রধানমন্ত্রী নেই।” তাই গোটা বক্তৃতায় নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদীকে ‘এক্সপায়ারি বাবু’ বলে সম্বোধন করেন তৃণমূল নেত্রী।

    শিলিগুড়ি এবং ব্রিগেডের সভা থেকে কড়া ভাষায় বুধবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন মোদী। দিনহাটার সভা আর ব্রিগেডে মোদীর সভা প্রায় গায়ে গায়েই শুরু হয়। তাই ব্রিগেডের বক্তৃতা আর দিদির শোনা হয়নি। শিলিগুড়িতে যখন মোদী বক্তৃতা করছিলেন প্রধানমন্ত্রী, তখনও যে মমতা তা টেলিভিশন বা ইন্টারনেটে শুনেছেন তা নয়। কারণ তখন তিনি ছিলেন আকাশে। দিনহাটায় পৌঁছনোর পর দলীয় নেতারাই দিদিকে বলে দেন কী কী ইস্যুতে তাঁর এবং তাঁর দলের দিকে তির ছুড়েছেন মোদী। এবং সেই লম্বা ফর্দ হাতে নিয়েই মোদীর বিরুদ্ধে চাঁছাছোলা ভাষায় আক্রমণ শুরু করেন মমতা।

    তৃণমূলের জমানায় বাংলার মানুষ কিছু পায়নি বলে খোঁচা দিয়েছিলেন মোদী। পাল্টা দিদি বলেন, “কত বড় হরিদাস? কিচ্ছু জানে না! শুধু বড় বড় ভাষণ। বাংলার মানুষ নাকি কিছু পায়নি!” মোদী যেমন জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ছিলেন, বলুন সেনাদের কাজ আপনাদের গর্বিত করে কি না? গর্বে ছাতি চওড়া হয় কি না? ঠিক একই কায়দায় দিদি বলেন, “বলুন কন্যাশ্রী পান কি পান না? বিনা পয়সায় চিকিৎসা পান কি পান না? কৃষি খাজনা মুকুব হয়েছে কি হয়নি?” এরপরই মমতা দাবি করেন, “রাস্তা তৈরি থেকে একশো দিনের কাজ, সবেতে বাংলা এক নম্বরে।” প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “লজ্জা করে না আপনার মিথ্যে কথা বলতে? হারবেন জেনে ভয়ে মিথ্যে কথা বলছেন। মানুষ আপনাকে একদিন জেলে পুড়বে।” প্রসঙ্গত, ১৪-র ভোটের আগেও দিদি বলেছিলেন, “মোদীকে কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরাব।”

    ব্রিগেডে হ্যাঙ্গার (যে ছাউনি এ দিন বিজেপি’র ব্রিগেডে ব্যবহার হয়েছিল তাকে জার্মান হ্যাঙ্গার বলে) টাঙিয়ে বিজেপি-র সভাকেও কটাক্ষ করেন দিদি। বলেন, “দেখেছেন কখনও হ্যাঙ্গার টাঙিয়ে কেউ মিটিং করে। পঞ্চাশ কোটি, একশো কোটি টাকা খরচ করে মিটিং করছে। পয়সার হাঙররা হ্যাঙ্গারে মিটিং করছে। একদিন ওই হ্যাঙ্গারেই ঢুকতে হবে।” বিজেপি যখন জাতীয়বাদী ঝড় তুলে জনমতকে নিজের দিকে আনার প্রয়াস চালাচ্ছে, তখন মমতা পাল্টা বললেন, “আমরা ছোট থেকে ন্যাশনালিস্ট। আর মিস্টার এক্সপায়ারি প্রাইম মিনিস্টার, আপনি একজন ফাসিস্ত।”

    বিজেপি টাকা দিয়ে ভোট কিনতে পারে বলেও সমাবেশে উপস্থিত জনতাকে সতর্ক করে দেন মমতা। বলেন, “থোকাথোকা টাকা নিয়ে মানুষকে ধোকা দিয়ে বোকা বানাতে চাইছে।” এরপরই তাঁর পরামর্শ, “যদি কিছু দেয়, তাহলে নিয়ে নিন। আর ভোট দিয়ে ওদের উলটে দিন।” এই ভোটকে দেশ বাঁচানোর ভোট বলে আরও একবার বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশ করার ডাক দেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

    এ দিনের সভা থেকে মোদী তথা বিজেপি-র বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “ইফ ইউ ক্যান, টাচ মি। পারলে আমায় ছুঁয়ে দেখাও। কিস্যু করতে পারবে না আমার। কাঁচা কলাও করতে পারবে না।” বাংলায় সিপিএম, কংগ্রেস, বিজেপি এক হয়েছে বলে ফের এ দিন অভিযোগ করেন দিদি। তাঁর কথায়, “সকালবেলা সিপিএম, দুপুরবেলা কংগ্রেস আর রাত্রি বেলা বিজেপি। জগাই-মাধাই-গদাই।”

    যদিও মমতার এ দিনের বক্তৃতা নিয়ে সরকারিভাবে বিজেপি কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে দলের এক শীর্ষ নেতা বলেন, “আসলে ওঁর দল কী ভাবে ভোটে জিতেছে সেটা মমতা নিজেও জানেন। তাই এখন প্রমাদ গুনছেন। কারণ বুঝে গিয়েছেন, এই ভোট পঞ্চায়েতের মতো হবে না।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More