সোমবার, অক্টোবর ১৪

বাংলার সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত মহিলার নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: মুকুল রায়

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মনে পড়ে ২০০৯-এর লোকসভার পরের ছবিটা?

বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য যে মাঠে সভা করছেন, পরের দিন সেই মাঠেই সভা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
২০১৯-এ যেন সেই ছবিটাই বদলে গিয়েছে। শুক্রবার যে মাঠে সভা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, শনিবার কাঁচড়াপাড়ায় সেই মাঠেই সভা করছেন মুকুল রায়।

শুক্রবার যে মাঠে সভা করে বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন দিদি, শনিবার সেই মাঠেই সভা করে মুখ্যমন্ত্রীকে বাংলার সবথেকে দুর্নীতিগ্রস্ত মহিলা বলে তোপ দাগলেন মুকুল। তাঁর কথায়, “উনি একে ওঁকে বিদেশে যাওয়া নিয়ে আক্রমণ করেন। উনি কী করে এত বিদেশ গেলেন? কার পয়সায়?” এরপরই সভামঞ্চ থেকে একদা তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড তোপ দেগে বলেন, “বাংলার সব থেকে দুর্নীতিগ্রস্ত মহিলার নামও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় l”

মুকুল রায় সম্প্রতি মন্তব্য করেছিলেন সিঙ্গুর আন্দোলন ভুল ছিল। টাটাকে তাড়ানো উচিত হয়নি। তারপরই তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন থেকে যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “সুপ্রিম কোর্টের রায়কে অমান্য করছেন মুকুল রায়।” এ ব্যাপারে শনিবারের জনসভা থেকে মুকুল বলেন, “কিছু অবোধ বালক বলছেন আমি নাকি সুপ্রিম কোর্টকে অসম্মান করেছি। সুপ্রিম কোর্ট বলেছে যে ভাবে বামফ্রন্ট জমি নিয়েছিল সেটা ঠিক ছিল না। সুপ্রিম কোর্ট কি বলেছে টাটাকে তাড়িয়ে দেওয়া ভুল ছিল!”

এখানেই থামেননি মুকুলবাবু। হরিশ মুখার্জি স্ট্রিটে একের পর এক জমি ও বাড়ি দখলের জন্য বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন।

বস্তুত বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার পর থেকে মুকুল বাবু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আক্রমণ শানিয়ে গেলেও কোথাও একটা যেন লক্ষণরেখা টেনে রেখেছিলেন। বিপরীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও মুকুলবাবুর নাম করে ভোটের আগে কোনওদিন বিশেষ আক্রমণ করেননি। কিন্তু পর্যবেক্ষকদের মতে, লোকসভা ভোটে পর এখন দু’জনেই যেন তরবারি বের করে ফেলেছেন। মুকুল রায়ের খাস তালুকে গিয়ে মমতা যেমন সরাসরি তাঁর সমালোচনা করছেন। তাঁকে গদ্দার বলছেন। কাচড়াপাড়ায় তাঁর প্রভাব দেখানোর চেষ্টা করছেন। তেমনই পাল্টা মমতার বিরুদ্ধে অভিযোগের জ্বালামুখ খুলে দিয়েছেন মুকুলবাবু। বেছে বেছে এমন বিষয় উত্থাপন করছেন মমতার বিরুদ্ধে যা তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলে দিতে পারে।

তা ছাড়া কাঁচড়াপাড়ার সভার আড়েবহরেও এ দিন মমতাকে টেক্কা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন মুকুলবাবু। স্থানীয়দের মতে, শুক্রবার মমতার সভায় যা লোক হয়েছিল তার চেয়ে তিনগুণ লোক হয়েছিল মুকুল রায়ের সভায়। সব মিলিয়ে যত দিন যাচ্ছে মুকুল-মমতা দ্বৈরথে যেন তত পারদ চড়ছে।

Comments are closed.