অমিত শাহ-র ডাকা বৈঠকে গেলেন না মমতা, ডিজিকে পাঠালেন দিল্লিতে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক’দিন আগেই দিঘায় প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বার্তা দিয়েছিলেন, প্রশাসনিক বিষয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে সহযোগিতা করেই চলতে চান তিনি। কিন্তু সোমবার নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-র ডাকা বৈঠকে উল্লেখযোগ্য ভাবেই অনুপস্থিত থাকলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। দশ রাজ্যে নকশাল সমস্যার বর্তমান পরিস্থিতি ও তার মোকাবিলা নিয়ে আলোচনার জন্যই এ দিন মুখ্যমন্ত্রীদের বৈঠকে ডেকেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দায়িত্ব নেওয়ার পরে এই প্রথম এ ধরনের বৈঠক ডাকলেন অমিত শাহ। তাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও এ দিন অনুপস্থিত ছিলেন তেলঙ্গনার মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখর রাও। তবে নিজে না গেলেও, রাজ্যের মুখ্যসচিব মলয় দে এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি বীরেন্দ্রকে ওই বৈঠকে পাঠিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    বস্তুত, কেন্দ্রের ডাকা বৈঠকে উপস্থিত না হওয়া বাংলার বহু দিনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কৃতি। অতীতে বামফ্রন্ট জমানায় মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এ ধরনের বৈঠকে কমই যেতেন। বিশেষ করে অটলবিহারী বাজপেয়ী যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তখন এ ধরনের বৈঠকে কদাচিত দেখা যেত তাঁকে।

    পরবর্তী কালে প্রথম ইউপিএ জমানায় বামেরা যখন সরকারের চালিকাশক্তি ছিল, তখনও কিন্তু সব সময় নয়, বরং মাঝে মধ্যে কেন্দ্রের ডাকা বৈঠকে যোগ দিতে যেতেন বুদ্ধদেববাবু। সেই ট্র্যাডিশনই চলছে। নীতি আয়োগের ডাকা বৈঠক হোক বা প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের ডাকা কোনও বৈঠক, পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীও না যাওয়াটাই এক প্রকার অভ্যাস করে ফেলেছেন বলেই অনেকের মত।

    পশ্চিমবঙ্গ, তেলঙ্গানা ছাড়া নকশাল উপদ্রুত বাকি আট রাজ্য হল: মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ছত্তীসগড়, ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশা। তাৎপর্যপূর্ণ হল, এ দিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশও। মহারাষ্ট্রে বিধানসভার ভোট আসন্ন। সেই রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্যই তিনি বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। অথচ বাস্তব হল, লোকসভা ভোটের মাঝেই মহারাষ্ট্রের গড়চিরোলিতে বড় রকমের মাওবাদী হামলা হয়েছিল।

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পরিসংখ্যান বলছেন, ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত নকশাল তথা মাওবাদী হামলায় গোটা দেশে ১৩২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মীরাও রয়েছেন। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দাবি, মনমোহনের জমানা থেকে নাশকতা প্রায় ৬০ শতাংশ কমে গিয়েছে। বরং আগের তুলনায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা গিয়েছে নকশাল সমস্যা। গত দশ বছরে প্রায় ১৪০০ নকশাল নেতা কর্মীর পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে বলেও জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More