বুধবার, জানুয়ারি ২২
TheWall
TheWall

‘গোটা ব্রাজিলের দুর্ভাগ্য’! ম্যাক্রোঁ-র স্ত্রী-কে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘রূঢ়’ মন্তব্য বোলসোনারো-র

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুই রাষ্ট্রপ্রধান প্রকাশ্যে বচসায় মেতেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়! তা-ও আবার বচসার কারণ, এক রাষ্ট্রপ্রধানের স্ত্রী-কে অপমান!

রাজনৈতিক কূটকচালি লেগে থাকলেও, আগে কখনও রাষ্ট্রপ্রধানদের এমন ব্যক্তিগত ঝগড়ার সাক্ষী হয়নি নেট-দুনিয়া। কিন্তু এবার তেমনটাই ঘটালেন ব্রাজ়িলের প্রেসিডেন্ট জেইর বোলসোনারো এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্রোঁ। সোমবার ম্যাক্রোঁ জানান, তাঁর স্ত্রী ব্রিগিত্তে-কে নিয়ে অত্যন্ত রূঢ় ও কুরুচিকর মন্তব্য করেছেন বোলসোনারো। দুই রাষ্ট্রপ্রধানকে এভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় বচসায় জড়াতে দেখে স্তম্ভিত নেটিজেনরা!

বোলসোনারো এবং ম্যাক্রোঁর সম্পর্ক অবশ্য খুব মধুর নয়। তার উপর গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ব্রাজ়িলের আমাজনের অরণ্যে দাবানল নিয়ে সম্পর্কের আরও অবনতি হয়েছে। দাবানলে পুড়তে থাকা আমাজনকে বাঁচানোর জন্য ম্যাক্রোঁ সাহায্যের প্রস্তাব দিলেও তা ফিরিয়ে দেন বোলসোনারো। ফ্রান্সে আয়োজিত জি-৭ সম্মেলনেও আলোচনার একটা মূল বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছেন ম্যাক্রোঁ। কিন্তু বোলসোনারোর মোটেই পছন্দ হয়নি ম্যাক্রোঁ-র এই এগিয়ে আসা মনোভাব।

এই অবস্থায় ব্যক্তিগত স্তরও বড় দূরত্ব তৈরি করলেন তাঁরা। 

রবিবার বোলসোনারোর এক ভক্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় ইম্যানুয়েল ম্যাক্রোঁর স্ত্রী ব্রিজিত্তে ম্যাক্রোঁর একটি ছবি পোস্ট করে লেখেন, “এটা দেখেই বোঝা যাচ্ছে, ম্যাক্রোঁ কেন বোলসোনারোর উপর খাপ্পা।” এই পোস্টে বোলসোনারো নিজে মন্তব্য করেন, “আহা, ওকে অমন করে অপমান কোরো না।” সেই সঙ্গে হা হা করে হাসেনও তিনি।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ব্রিজিত্তে ম্যাক্রোঁর বয়স ৬৬। বোলসোনারোর স্ত্রী, ব্রাজ়িলের ফার্স্ট লেডি, ২৯ বছরের মিশেল বোলনসোনারোর তুলনায় অনেকটাই বয়স্ক তিনি। এই দিকেই ইঙ্গিত করা হয় ওই পোস্টে। ঠারেঠোরে বলা হয়, ইম্যানুয়েল ম্যাক্রোঁ-র স্ত্রী অনেক কম সুন্দর বলেই, বোলসোনারোর প্রতি হিংসায় তাঁকে আক্রমণ করছেন ম্যাক্রোঁ। কারণ বোলসোনারোর স্ত্রী অনেক বেশি আকর্ষণীয়। এতেই ব্যঙ্গ করে মন্তব্য করেন বোলসোনারো, বলেন ইম্যানুয়্যালকে এই নিয়ে কিছু না বলতে।

ইম্যানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, “আমার স্ত্রী-কে নিয়ে অসম্ভব খারাপ মন্তব্য করেছেন বোলসোনারো। আমি আর কী বলতে পারি, এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। এটা বোলসোনারোর নিজের জন্য শুধু নয়, সমস্ত ব্রাজিলবাসীর জন্যই খুব দুঃখজনক। আমার মনে হয়, ব্রাজিলের মহিলারাও তাঁদের এমন প্রেসিডেন্টের জন্য লজ্জিত। আমি আশা করছি, ব্রাজিলের মানুষ খুব তাড়াতাড়ি এক জন ঠিকঠাক প্রেসিডেন্ট বেছে নেবেন।”

ম্যাক্রোঁ-র প্রতিক্রিয়ার পরে অবশ্য বোলসোনারো চুপ থাকেননি। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ফের আক্রমণ করেন ফরাসি রাষ্ট্রনেতাকে। তিনিটুইট করেন, “ম্যাক্রোঁ অকারণে আমাজনের ব্যাপারে নাক গলাচ্ছেন এবং ব্রাজিলকে আক্রমণ করছেন। উনি এমন ভাবে আমাজনকে ‘বাঁচাতে’ চাইছেন, যেন ব্রাজিল ওঁর উপনিবেশ।”

ইম্যানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, “আমি ওই দেশটাকে সম্মান করি, দেশের মানুষকে সম্মান করি, তাই তাঁদের নির্বাচিত রাষ্ট্রনেতাকেও সম্মান করি। কিন্তু বোলসোনারো এ সব কিছুর ঊর্ধ্বে।” তাঁর অভিযোগ, সম্প্রতি ফ্রান্সের বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে বৈঠক বাতিল করেন বোলসোনারো। কারণ হিসেবে দেখান, তাঁকে চুল কাটতে যেতে হবে।

Share.

Comments are closed.