বুধবার, নভেম্বর ১৩

‘চাঁদে অনেক জায়গা, আপনাদেরও নিয়ে যাবো,’ কাদের ডাক পাঠাল নাসা..

দ্য ওয়াল ব্যুরো:  চাঁদের পাড়ায় বাড়ি বানাচ্ছে নাসা। সেই বাড়িতে অনেক জায়গা। মার্কিন নভশ্চর শুধু নয়, চাইলে অন্যান্য দেশের নভশ্চররাও যখন তখন ঢুঁ মেরে আসতে পারেন, বিবৃতি দিয়ে এমনটাই জানিয়েছে নাসার গ্লোবাল স্পেস চিফ। ২০২৪ সালের বহু প্রতিক্ষীত চন্দ্রাভিজানের জন্য অন্যান্য আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলিকেও নিমন্ত্রণ পাঠিয়েছে নাসা।

ওয়াশিংটনের ৭০তম ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনটিক্যাল কংগ্রেসের অধিবেশনে নাসার অ্যাডমিনিস্ট্রেটর জিম ব্রিডেনস্টাইন বলেছেন, ‘‘চাঁদে অনেক জায়গা। আমার মনে হয় মার্কিন নভশ্চরদের সঙ্গে তাঁদের বন্ধু নভশ্চররাও যেতে পারবেন। আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলিকেও আমন্ত্রণ জানাচ্ছি আমরা।’’

নাসার পরবর্তী চন্দ্রাভিযান নিয়ে প্রস্তুতি তুঙ্গে। চাঁদের কক্ষপথে প্রথম ‘লুনার স্পেস স্টেশন’ বানাচ্ছে নাসা। এই প্রকল্পের নাম  ‘গেটওয়ে টু মুন’ বা ‘আর্টেমিস’। পৃথিবীর জোরালো অভিকর্ষজ বলের মায়া কাটিয়ে মহাকাশযানকে চাঁদে পাঠানোর ঝক্কি অনেক। কাজেই লুনার স্পেস স্টেশন হলে সেখানে বসেই গবেষণা চালানো যাবে। আবার যান বানিয়ে যখন তখন পাঠিয়ে দেওয়া যাবে মহাকাশে।

আরও পড়ুন: চাঁদের পাড়ায় উঁকি, মঙ্গলে চোখ, ‘স্পেস স্টেশন’ বানাতে চলেছে ইসরো, চন্দ্রযানের পর বড় মিশন ভারতের

নাসা জানিয়েছে, এই লুনার স্পেস স্টেশন হবে সৌরমণ্ডলের বিভিন্ন গ্রহে যাওয়ার জন্য নাসার একমাত্র ‘ট্রান্সপোর্টেশন হাব’। চাঁদের অভিকর্ষ বলের টান পৃথিবীর তুলনায় বেশ হাল্কা, তাই মহাকাশযানের জ্বালানি সাশ্রয়ও হবে অনেকটাই। এইজন্য অবশ্য লঞ্চপ্যাড বানাতে হবে চাঁদের বুকে। তার প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। তবে পৃথিবী থেকে বার বার মালপত্র বয়ে নিয়ে যাওয়ার ঝক্কি অনেক। তাই আগে চাঁদের কক্ষপথে জমিয়ে বসতে হবে মার্কিন গবেষণা সংস্থাকে। তার জন্যই এই লুনার স্পেস স্টেশন।

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস) রয়েছে পৃথিবী থেকে বড়জোর ৩৭০ কিলোমিটার উপরে।  মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA), রাশিয়ার রসকসমস (Roscosmos), জাপানের জাক্সা (JAXA), ইউরোপের ইসএ (ESA) এবং কানাডার সিএসএ (CSA)—এই পাঁচটি মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের সম্মিলিত চেষ্টায় ১৯৯৮-২০১১ সালের মধ্যে গড়ে উঠেছিল আইএসএস। আর লুনার স্পেস স্টেশন তৈরি হচ্ছে পৃথিবী থেকে ৩ লক্ষ ৮০ হাজার কিলোমিটার দূরে। নাসা জানিয়েছে, স্পেস স্টেশন বানানোর প্রাথমিক কাজ শেষ হবে ২০২২-২৩ সালের মধ্যে। দ্বিতীয় পর্যায়, অর্থাৎ নভশ্চরদের নিয়ে পাকাপাকি ভাবে বাসযোগ্য আস্তানা গড়ে তোলার কাজ শেষ হবে ২০২৮ সালের মধ্যেই।

আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের মতো অত বড় না হলেও লুনার স্পেস স্টেশনে দুই থেকে তিনজন নভশ্চরের ভালোভাবে থাকা ও গবেষণার জায়গা তৈরি হচ্ছে। হলো অরবিটে (NRHO) বসানো হবে এই স্পেস স্টেশন। যার দূরত্ব চাঁদের উত্তর মেরু থেকে ৩০০০ কিলোমিটার এবং আঁধার দক্ষিণ মেরু থেকে প্রায় ৭০,০০০ কিলোমিটার।

আরও পড়ুন: চাঁদের পাড়ায় বাড়ি হবে, মঙ্গলে বাঙ্কার! মহাকাশে সিমেন্ট গুলছে নাসা

‘গেটওয়ে টু মুন’ প্রকল্পে নাসার পাশে রয়েছে ইএসএ, রসকসমস, জাক্সা এবং সিএসএ। নাসার গ্লোবাস স্পেস চিফ জানিয়েছেন, স্পেস স্টেশন (গেটওয়ে) এবং স্পেসক্রাফট (অরিওন)-এর সিংহভাগ নাসার ল্যাবোরেটরিতে তৈরি হলেও, এর ইলেকট্রিসিটি, প্রোপালসন, থার্মাল ইউনিট, মহাকাশে অক্সিজেন ও জলের যোগান দেবে ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি (ইএসএ)। চন্দ্রাভিযানের মহান কর্মযজ্ঞে যোগ দেবে জাপানের জাক্সা ও রাশিয়ার রসকসমসও। ইউরোপিয়ান সিস্টেম প্রোভাইডিং রিফুয়েলিং (ESPRIT), ইন্টারন্যাশনাল হ্যাবিটেশন মডিউল, মিনিমাল হ্যাবিটেশন মডিউল, গেটওয়ে লজিস্টিক মডিউল, গেটওয়ে এয়ারলক মডিউলের বিভিন্ন ভাগ তৈরিতে নাসার সঙ্গে হাত মিলিয়েছে এই আন্তর্জাতিক মহাকাশগবেষণা সংস্থাগুলি।

হাতে সময় আর মাত্র তিনটি বছর। চাঁদের পাড়ায় বাড়ি বানানোর প্রাথমিক কাজ শেষ হয়ে যাবে। আগামী ৮-৯ বছরের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মহাকাশচারীরা বসবাস শুরু করবেন সেই বাড়িতে থুড়ি স্পেস স্টেশনে।

আরও পড়ুন:

সাত ঘণ্টা মহাশূন্যের গা ছমছমে অন্ধকারে ‘স্পেসওয়াক,’ ইতিহাস গড়লেন নাসার দুই মহিলা নভশ্চর

পড়ুন, দ্য ওয়ালের পুজোসংখ্যার বিশেষ লেখা…

প্রাচীন সচিত্র পোস্টকার্ডে সিপাহিবিদ্রোহ

Comments are closed.