ভোট মিটতেই ফের রণক্ষেত্র চোপড়া, চলল গোলাগুলি, বোমাবাজি

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রথম দু’ঘণ্টা নারকীয় তাণ্ডব চলেছিল উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ায়। বাংলার তিনটি লোকসভা কেন্দ্রেই ভোট ঘিরে বিক্ষিপ্ত অশান্তির ছবি সামনে এসেছিল, তবে চোখ টেনেছিল চোপড়াই। ভোট দানে বাধা, দফায় দফায় জনতা-পুলিশ খণ্ডযুদ্ধ, গুলি, লাঠালাঠি, কাঁদানে গ্যাস, অবরোধ, পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা ঘিরে দিনভর চোপড়া ছিল খবরের শিরোনামে। ভোটদান পর্ব মিটতে পরিস্থিতি কিছুটা থিতিয়ে এলেও সন্ধে থেকে ফের অশান্তি মাথা চাড়া দেয় চোপড়ার কয়েকটি জায়গায়। দুষ্কৃতী তাণ্ডবে আবারও রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় দার্জিলিংয়ের এই লোকসভা কেন্দ্র।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, এ দিন সন্ধে থেকে গোলাগুলি শুরু হয় চোপড়ার মাঝিয়ালি ও ঘিড়নিগাও গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। মাঝিয়ালি পঞ্চায়েতের নারায়ণপুর এবং  ঘিরনিগাওয়ের জয়রামগছ ও ডাঙ্গাপাড়ায় ইভিএম লুঠের চেষ্টা হয় বলে এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ। জানা গেছে, ভোট মিটতেই এলাকায় ঢুকে গুলি ছুড়তে শুরু করে দুষ্কৃতীরা। বোমা ফেলা হয় কয়েকটি জায়গায়। তারপর বুথে ঢুকে ইভিএম লুঠের চেষ্টা হলে বাধা দেয় স্থানীয়রা। শুরু হয়ে যায় গ্রামবাসীদের সঙ্গে সংঘর্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কুইক রেসপন্স টিম। অন্যদিকে, গোয়ালপোখরের গোসাইভিটা ৪৩ নাম্বার বুথে উত্তেজনা ছড়ায় ভোট মিটতেই। গ্রামবাসীদের দাবি, ইভিএম মেশিন বন্ধ না করেই বুথ ছাড়ার তালে ছিলেন ভোটকর্মীরা। ঝামেলা মেটাতে খবর যায় সেক্টর অফিসে, ডেকে পাঠানো হয় কুইক রেসপন্স টিমকে। ভোটকর্মীদের দাবি, রাত ১২টার পর নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যায় ইভিএম মেশিন, কিন্তু সে কথা মানতে নারাজ গ্রামবাসীরা।

    চোপড়ার একাধিক বুথে আজ সকাল থেকে কার্যত বেপাত্তা ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ভোটের লাইনে দাঁড়ালেও তাঁদের লাইন থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। নির্বিচারে বুথে বুথে ভোট লুঠ করেছে শাসক দল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। সব কিছু দেখেও মুখে কুলুপ এঁটে ছিল রাজ্য পুলিশ। অভিযোগ জানালেও সে কথা কানে তোলেনি তাঁরা। প্রতিবাদ জানাতে দীর্ঘক্ষণ ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কও অবরোধ করে রাখে স্থানীয়রা। সেই অবরোধ তুলতে গেলে গ্রামবাসীদের সঙ্গে একপ্রস্থ ঝামেলা হয় পুলিশের। অভিযোগ, লাঠির আঘাতে মাথা ফাটে এলাকার বাসিন্দাদের, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ফাটানো হয় কাঁদানে গ্যাস। আটক করা হয় বেশ কয়েকজনকে।

    স্থানীয় বাসিন্দারা সংবাদ মাধ্যমের কাছে অভিযোগ করেছিলেন, সকাল থেকেই ভোটদানে তাঁদের বাধা দিচ্ছে তৃণমূল বাহিনী। পরে পুলিশ কয়েকজন ভোটারকে বুথ অবধি এগিয়েও নিয়ে যায়। এমনকিও এও জানা যায়, যে তৃণমূল নেতা ভোটদানে বাধা দিচ্ছিলেন তাঁকে পাকড়াও করে এলাকার বাসিন্দারাই, পুলিশ সেখানে নীরব দর্শকের ভূমিকায় ছিল। পরে জনতার চাপে পড়ে সেই নেতাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

    চোপড়ার ওই এলাকায় উত্তেজনার খবর পেয়ে দীর্ঘক্ষণ বাদে সেখানে পৌঁছয় বিরাট পুলিশবাহিনী। চোপড়ার হিংসা ঘিরে রাজ্য নির্বাচন কমিশন উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের কাছে রিপোর্ট তলব করলে সেখানে পাঠানো হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নামানো হয় র‍্যাফ। তবে র‍্যাফের সঙ্গে ঝামেলা বাধে ভোটারদের। চার ঘণ্টা পর চোপড়ায় ১৮০ নম্বর বুথে পৌঁছয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর কুইক রেসপন্স টিম।

    আরও পড়ুন:

    পুলিশ ‘দর্শক’, চোপড়ায় গ্রামবাসীদের হাতে ‘গ্রেফতার’ তৃণমূল নেতা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More