বুধবার, জানুয়ারি ২২
TheWall
TheWall

শান্তির ‘তপোবন’: সাধ ও সাধ্য দুয়েরই মেলবন্ধন

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

দেবার্ক ভট্টাচার্য্য

 

পূর্ব বর্ধমানের গলসিতে রেল দফতরে প্রায় ৩০ বছর চাকরি করে সবে অবসর নিয়েছেন অমলবাবু। এতদিন তো থাকতেন রেলের কোয়ার্টারে। কিন্তু এ বার তো সেই ঠিকানা ছেড়ে নতুন ঠিকানায় যেতে হবে। জলপাইগুড়িতে বাড়ি আছে, কিন্তু জীবনের প্রায় অর্ধেকটা সময় বাইরে কাটানোর পর আর ফেরার ইচ্ছে নেই। বাড়ি করারও অনেক খরচ। সঙ্গে উপরি ধকল। এই বয়সে আর ওসব পোষায় না। অগত্যা…….. হঠাৎ করেই অমলবাবুর নজরে এল একটি বিজ্ঞাপন। গলসি থেকে প্রায় ৪২ কিলোমিটার দূরে দুর্গাপুরের উপকণ্ঠে বামুনাড়ায় তৈরি হচ্ছে এক বিশাল হাউসিং প্রজেক্ট। নাম ‘তপোবন সিটি’। কিছুটা কৌতূহল নিয়েই সেখানে গেলেন অমলবাবু। পরেরদিন ফিরে এসে স্ত্রীকে বললেন, ফ্ল্যাট বুক করে এসেছেন। স্ত্রী অবাক। একদিনের মধ্যে, সবকিছু না দেখেই, এটা কী ঠিক হলো? অমলবাবুর কাছে সবটা শোনার পর অবশ্য স্ত্রীও বললেন, সত্যি থাকার যেন আদর্শ জায়গা এই তপোবন সিটি।

দেখে নেওয়া যাক, কী কী কারণে অমলবাবু ফ্ল্যাট বুক করলেন এই হাউসিং প্রজেক্টে?

বর্ধমান-দুর্গাপুরের গোপালপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বামুনাড়ায় দুর্গাপুরের সবথেকে বড় হাউসিং প্রজেক্ট এই ‘তপোবন সিটি।’ সরকারি হিসেবে গ্রাম পঞ্চায়েত হলেও এই অঞ্চল এখন অনেকটাই মফস্বলের মতো। আর সেখানে ২৩ একর জায়গার মধ্যে তৈরি হচ্ছে এই প্রজেক্ট। এই জায়গাটির অবশ্য একটি ঐতিহাসিক গুরুত্বও আছে। তপোবন সিটির ঠিক পাশেই সেন বংশের রাজা লক্ষ্মণ সেন-বল্লাল সেনের হাতে তৈরি রাঢ়েশ্বর শিবমন্দির। এখান থেকে বীরভূমের দিকে ৭ কিলোমিটার গেলেই দেখা মিলবে দেহুল, গড়জঙ্গলের। ১৫ কিলোমিটার দূরেই রয়েছে অজয় নদ। এখানে প্রতি বছর জয়দেব-কেঁদুলির মেলা দেখতে সারা বাংলা থেকে প্রচুর মানুষ আসেন।

এ তো গেল ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা, এই এলাকায় কিন্তু পাবেন জীবনধারণের প্রায় সব সুবিধে। এই প্রকল্প থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যেই রয়েছে পানাগড় এয়ারফোর্স ও মিলিটারি বেস। দুর্গাপুর এডুকেশন হাবের সব সুবিধা আপনি পেয়ে যাবেন এই তপোবন সিটি থেকে। বিধাননগরের ১৩টি সিবিএসই-আইসিএসি স্কুলের সুবিধে পেয়ে যাবেন এই প্রজেক্ট থেকেই। এর মধ্যে রয়েছে সেন্ট জেভিয়ার্স, সেন্ট মাইকেল, দিল্লি পাবলিক স্কুল, নারায়াণার মতো নামকরা স্কুল। এ ছাড়া মাত্র ৩ কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে চারটি বাংলা মিডিয়াম স্কুলও। প্রজেক্ট থেকে মাত্র ৫০০ মিটারের মধ্যে রয়েছে এনএসএইচএম ম্যানেজমেন্ট কলেজ। তিন কিলোমিটারের মধ্যেই রয়েছে দুর্গাপুরের নামকরা দ্য মিশন হাসপাতাল। আর প্রজেক্টের একদম গায়েই তৈরি হচ্ছে নেশন হাসপাতাল। কয়েকদিন পরেই যেখানে পুরোপুরি কাজ শুরু হয়ে যাবে। এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে, ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা, চিকিৎসার সব সুবিধে হাতের মুঠোয়।

প্রায় ২৩ একর জায়গা নিয়ে তৈরি এই তপোবন সিটির মধ্যে রয়েছে ৭২টি বিল্ডিং। সব বিল্ডিংই জি প্লাস ১১ অর্থাৎ ১২ তলা। সব মিলিয়ে ৩ হাজার ১৮০টি ফ্ল্যাট রয়েছে এই কমপ্লেক্সের মধ্যে। তারমধ্যে ১, ২ ও ৩ বিএইচকে ফ্ল্যাট রয়েছে। ১ বিএইচকে ফ্ল্যাটের দাম ৯ লাখ টাকা। ২ বিএইচকে ফ্ল্যাট শুরু ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা থেকে। ৩ বিএইচকে ফ্ল্যাট ১৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা থেকে শুরু। আগে বুক করলে অবশ্যই ভালো পজিশনের সুবিধা পাবেন।

এই প্রজেক্টের মধ্যে অবশ্য আরও অনেক সুযোগ সুবিধা রয়েছে। রয়েছে স্কুল, কলেজ, সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল ও শপিং মল। এছাড়াও ক্লাব, বাগান, ওয়াটারবডি, বাচ্চাদের খেলার জায়গা, বৃষ্টির জল ধরে তা থেকে চাষাবাদ বা রেন ওয়াটার হার্ভেস্টিং, ক্যাব সার্ভিস, রেস্তোরাঁ, স্পা, সালোঁর সুবিধা রয়েছে এই তপোবন সিটির মধ্যেই।

এই তপোবন সিটি যে সংস্থা তৈরি করছে, তার নাম হলো বেঙ্গল ইনফ্রা প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেড। এই সংস্থার এক অধিকর্তার কথায়, “আমাদের প্রধান টার্গেট গ্রুপ হলো মধ্যবিত্ত চাকরিজীবী মানুষ। যাঁদের বেতন ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে এবং যাঁরা মাসিক ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা ইএমআই দিতে পারবেন, তাঁরা আমাদের এই প্রজেক্টে চোখ বন্ধ করে ভরসা করতে পারেন। সাধ্যের মধ্যেই সাধ পূরণের সবকিছু রয়েছে এই তপোবন সিটিতে। দুর্গাপুর শহরের ভিড়ের বাইরে, অথচ দুর্গাপুর সংলগ্ন এই তপোবন সিটি মধ্যবিত্ত চাকরিজীবীদের আদর্শ ঠিকানা।”

২০১৩ সালে তৈরি হয়েছিল এই তপোবন সিটির কাজ। ইতিমধ্যেই ২০১৬ সালে প্রথম ফেজের কাজ হয়ে গিয়েছে। বিক্রি হয়ে গিয়েছে প্রথম ফেজে তৈরি ১১০০ ফ্ল্যাট। ইতিমধ্যে প্রায় ৭০০ পরিবার এসে থাকা শুরুও করেছেন সেখানে। দ্বিতীয় ফেজের কাজও প্রায় শেষের পথে। এই ফেজে তৈরি হচ্ছে প্রায় ১০০০ ফ্ল্যাট। বুকিংও চলছে ফ্ল্যাটের।

গলসির অমলবাবুর মতো, বুদবুদের বিকাশবাবু, কাঁকসার বিজনবাবু কিংবা অন্ডালের কৌশিকবাবুরাও ফ্ল্যাট বুক করার কথা ভাবছেন এই তপোবন সিটিতে। দুর্গাপুর আশেপাশের বেশ কিছুটা এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে তপোবন সিটির খবর। যাঁরা ফ্ল্যাট বুক করছেন, তাঁদের মুখে আরও অনেকে খবর পেয়ে এই প্রজেক্টে এসে ফ্ল্যাট বুক করছেন। সবার একটাই কথা, সারাজীবন যেখানে কাটালেন, সেই পরিচিত জায়গা থেকে হঠাৎ করে অপরিচিত কোথাও গিয়ে মানিয়ে নিতেও হচ্ছে না, আবার সাধ্যের মধ্যেই সব সুবিধে পেয়ে যাচ্ছেন। এর থেকে ভালো আর কীই বা হতে পারে। তাই দুর্গাপুর সংলগ্ন এলাকায় এখন ভালো থাকার ঠিকানা মানেই তপোবন সিটি।

তাহলে আর দেরি কেন? আপনারাও আসুন। দেখুন। আর নিজেদের ভবিষ্যতের ঠিকানা বুক করে যান।

Share.

Comments are closed.