মঙ্গলবার, অক্টোবর ২২

দুর্গাপুর নগরীর কাছেই যেন এক অন্য নগরী, সৌজন্যে তপোবন সিটি!

দেবার্ক ভট্টাচার্য্য

দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের ঠিক কাছেই আরও একটা বসতি। উপনগরই বলা যায় একে। যদিও পঞ্চায়েত এলাকা, তবুও ঝাঁ-চকচকে রাস্তাঘাট আর নির্মীয়মাণ বড় বড় অট্টালিকা কিন্তু অন্য ইঙ্গিত দেয়। শহরের কোলাহল, ধোঁয়া ধুলো থেকে দূরে, অথচ একটা শহরের সব সুখ-সুবিধা হাতের কাছেই। আর এই কাজটা নিঃশব্দে যে করছে, তার নাম ‘তপোবন সিটি’। সত্যি এই হাউজিং প্রজেক্টের ঘিরেই আজ যেন দুর্গাপুর আরও কিছুটা বিস্তৃত হয়েছে। কিন্তু অন্য রূপে, অন্য ভাবে।

বেঙ্গল ইনফ্রা প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেড তৈরি করছে এই তপোবন সিটি হাউজিং প্রজেক্ট। বেঙ্গল ইনফ্রার এক আধিকারিকের কথায়, “এটা শুধুমাত্র একটা হাউজিং প্রজেক্ট নয়, আমরা পুরো এলাকার খোলনলচে বদলে ফেলছি। দুর্গাপুর শহরের কাছেই আরও একটা উপশহর তৈরি হচ্ছে। জীবন-জীবিকার মেলবন্ধন এই হাউজিং প্রজেক্ট।”

দেখে নেওয়া যাক, এই প্রজেক্টকে ঘিরে কী কী উন্নতি হতে চলেছে ওই এলাকার:

এই তপোবন সিটি থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরেই অজয় নদ। এই নদের উপর তৈরি হচ্ছে একটি নতুন সেতু। ফলে বর্ধমান ও বীরভূমের মধ্যে যোগাযোগ আরও ভালো হবে। শুধু তাই নয়, ওই রাস্তা ধরে পৌঁছে যাওয়া যাবে একেবারে উত্তরবঙ্গে। এই যোগাযোগের জন্যই আরও বেশি মানুষ এই প্রজেক্টের দিকে আকৃষ্ট হবেন।

তপোবন সিটির হাত ধরে এই এলাকার উন্নতির আর একটা অন্যতম প্রধান কারণ হলো আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার। এমনিতেই হাউজিং এলাকার মধ্যে রয়েছে আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার সিস্টেম। এর মাধ্যমে ২৩ একর জায়গায় জল সরবরাহ করা হয়। এ ছাড়াও দামোদর থেকে যেভাবে জল সরবরাহের প্রকল্প রয়েছে সেরকম ভাবেই অজয় থেকে সরাসরি জল সরবরাহের একটি প্রকল্প করার পরিকল্পনা হয়েছে। প্রকল্পটির নাম ‘রাঢ়বঙ্গ পানীয় জল প্রকল্প’। প্রকল্পের ব্যাপারে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কথাবার্তা কিছুদূর এগিয়ে যাওয়ার পর মাঝখানে কিছুদিন তা বন্ধ ছিল। আবার নতুন করে এই প্রকল্প চালু করার কথা হচ্ছে। একবার এই প্রকল্প চালু হয়ে গেলে সেখান থেকে পাওয়া জলে শুধুমাত্র তপোবন সিটি নয়, সেখানকার তিনটি পঞ্চায়েত এলাকাতেই জল সরবরাহ করা হবে। ফলে উপকার পাবেন প্রচুর মানুষ।

 

এই তপোবন সিটিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই হাউজিং এলাকার বাইরে একাধিক দোকানপাট, এটিএম, এমনকী দ্য নেশন হসপিটালের মতো একটা হাসপাতালও তৈরি হয়েছে। আরও তৈরি হবে। বেঙ্গল ইনফ্রার আধিকারিক জানিয়েছেন, শুধুমাত্র বাইরের ছেলে-মেয়েই নয়, এই হাউজিং কমপ্লেক্সে ফ্ল্যাট নেওয়া অনেক বেকার যুবক-যুবতীই এখানে বিভিন্ন কাজে যুক্ত থাকতে পারবেন। তাঁদের কথায় জীবন ও জীবিকার এই অপূর্ব মেলবন্ধনেই তপোবন সিটির হাত ধরে এক নতুন বসতির স্বপ্ন দেখছেন সেখানকার মানুষজন।

২০১৩ সালে কাজ শুরু হয়ে ২০১৬ সালে প্রথম ফেজ-এর কাজ হয়ে গিয়েছে। বিক্রি হয়ে গিয়েছে প্রথম ফেজ-এ তৈরি ১১০০ ফ্ল্যাট। প্রায় ৭০০ পরিবার এসে বসবাসও শুরু করেছেন সেখানে। দ্বিতীয় ফেজ-এর কাজও প্রায় শেষের পথে। এই ফেজ-এ তৈরি হচ্ছে প্রায় ১০০০ ফ্ল্যাট। বুকিংও চলছে ফ্ল্যাটের।

দুর্গাপুর শহরে বাস করা অনেক মানুষই আজকাল বলছেন, এই ধুলো-ধোঁয়ার মধ্যে প্রাণ ওষ্ঠাগত। তপোবনের মতো হাউজিং প্রজেক্ট-এ যদি কিছুটা সময় কাটিয়ে আসা যায় মন্দ কী। আর তাই তাঁরাও এই প্রজেক্টে ফ্ল্যাট কেনার ইচ্ছে প্রকাশ করছেন। আপনিও কিন্তু পেতে পারেন এই সুযোগ। তাহলে আর দেরি কেন? যদি এমনই এক পরিবেশে, এত সুযোগ সুবিধার মধ্যে ফ্ল্যাট কেনার ইচ্ছে হয়, তাহলে আপনারাও যোগাযোগ করতে পারেন। চলে যেতে পারেন সরাসরি প্রজেক্ট এলাকায়। ঠিকানা, তপোবন সিটি, বামুনারা, দুর্গাপুর- ৭১৩২১২। এ ছাড়াও যে কোনও রকমের জিজ্ঞাসার জন্য ফোনে যোগাযোগ করতে পারেন, ৯৮০০০০৪১৭৭৯৮৩২১৫০৪৭৪ এই নম্বরে।

আরও পড়ুন

শান্তির ‘তপোবন’: সাধ ও সাধ্য দুয়েরই মেলবন্ধন

Comments are closed.