ত্বকের ক্যানসার বুঝবেন কী করে, সারানোর উপায়ও আছে

মেলানোমা ছাড়াও ত্বকের আরও নানা ধরেনর ক্যানসার হয়। তাদের ধরন ভিন্ন, উপসর্গও আলাদা আলাদা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাতের কনুইয়ের নীচে এক চিলতে কালচে দাগ। একটু বড়সড় তিলের মতো। শুরুতে বিশেষ মাথা ঘামাননি বছর চল্লিশের মহিলা। গোড়ায় ব্যথা ছিল না। পরে জ্বালাপোড়ার মতো ব্যথা শুরু হয়। কিছুদিন পর থেকে পুঁজরক্তের মতো জায়গাটা ঘিরে বড় লাল চাকার মতো দাগ তৈরি হয়। অবশেষে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতেই হয়। এই জাতীয় ক্ষত দেখলে এখন ডাক্তার শুরুতেই বায়োপসি করার রিপোর্ট লিখে দেন। তাতেই ধরা পড়ে ব্যাপারটা। ক্যানসার। ত্বকের ওই অংশের কোষগুলোকে একেবারে ক্ষতবিক্ষত করে ফেলেছে কর্কট রোগ। ত্বকের এই ধরনের ক্যানসারকে বলে ম্যালিগন্যান্ট মেলানোমা।

    অতএব তিল থেকেই তাল হল। মেলানোমা ছাড়াও ত্বকের আরও নানা ধরেনর ক্যানসার হয়। তাদের ধরন ভিন্ন, উপসর্গও আলাদা আলাদা। বিশেষজ্ঞরা বলেন, একটা সময় মনে করা হত ভারতীয়দের চর্মরোগের তেমন সম্ভাবনা নেই। বেশিরভাগই ঠাণ্ডার দেশগুলোতে মানুষের ত্বকে নানা ধরনের রোগ হয়। কারণ তাদের ত্বকে মেলানিন রঞ্জক কম থাকে এবং সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি সহজেই চামড়ে ফুঁড়ে ভেতরে ঢুকতে পারে। কিন্তু সময় যত এগিয়েছে মানুষের ধারণাও বদলেছে। ভারতীয়দের মধ্যেও চর্মরোগ, ত্বকের ক্যানসারের প্রকোপ অনেকটাই বেড়েছে।

    চর্মরোগের নানান ধরন আছে। মূলত তিন ধরনের ত্বকের ক্যানসারের কথাই বলেন চিকিৎসকরা। বেসাল সেল কারসিনোমা, স্কোয়ামোস সেল কারসিনোমা এবং মেলানোমা। এখন দেখে নেওয়া যাক কী কী উপসর্গ দেখে ধরা যাবে যে ত্বকে ক্যানসার বাধা বেঁধেছে।

    বেসাল সেল কারসিনোমা (Basal cell carcinoma) সাধারণত প্রাণঘাতী হয় না। বিশেষজ্ঞরা বলেন, সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মির কারণে এই ধরনের চর্মরোগ হতে পারে। দেখতে ছোট গোলাপি, লালচে, খয়েরি বা কালো রঙের তিলের মতো হয়। ধীরে ধীরে এই তিলই বেড়ে গিয়ে মাংসল খণ্ডে পরিণত হয়। জ্বালাপোড়ার মতো ক্ষত তৈরি হয়। অনেকের ক্ষেত্রে আবার ত্বকের ওই অংশ ফুলে গিয়ে চামড়া ফেটে যায়। পুঁজ-রক্তও বের হতে দেখা যায়। যে কোনও রকম ত্বকেই বেসাল সেল কারসিনোমা হতে পারে।

    স্কোয়ামোস সেল কারসিনোমা (Squamous cell carcinoma)হাত, পা, মুখ, হাতের কনুই, পায়ের পাতা, ঠোঁট, গলা ও পিঠে হতে পারে। লালচে-খয়েরি দাগ দেখা যায় ত্বকে। খসখসে হয়ে যায় চামড়া। অনেক সময় র‍্যাশ, চুলকানি দেখা দেয়। আঁশের মতো শুষ্ক হয়ে যায়। সোরিয়াসিসের মতো ক্ষত তৈরি হয়। মোজ় সার্জারি, লেজার সার্জারি, ইলেকট্রোডেসিকেশন পদ্ধতিতে এই ধরনের স্কিন ক্যানসারের চিকিতসা করা হয়।

    মেলানোমা (Melanoma)

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগে ধারণা ছিল আমেরিকা, ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ার বাসিন্দাদের টাইপ ওয়ান ত্বক। খুব ফর্সা। ওই চামড়ায় মেলানিন কম থাকে। ফলে সরাসরি অতি বেগুনি রশ্মি শরীরে প্রবেশ করে। ম্যালিগন্যান্ট মেলানোমার ঝুঁকি বেশি। অন্যদিকে, ভারতীয়দের ত্বক হল টাইপ ফোর ফাইভ। এতে মেলানিনের সুরক্ষা থাকে। তাই মেলানোমা জাতীয় ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি কম। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে যে কোনও ত্বকেই এই ক্যানসারের ঝুঁকি থাকে। সাধারণত পায়ের নীচের অংশে মেলানোমা বেশি দেখা যায়। গোড়ালি, পায়ের পাতা, পায়ের আঙুল, যৌনাঙ্গেও এই ধরনের ক্যানসার দেখা যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন যে ধরনের হেয়ারডাই ব্যবহার করা হয় বা প্রসাধনী, তাতে এমন রাসায়নিক থাকে যা ত্বকের ক্যানসারের জন্য দায়ী।

    মোজ় সার্জারি (Mohs Surgery)

    ত্বকের ক্যানসার নিরাময়ের অনেক পদ্ধতি আছে। যার মধ্যে একটি মোজ় সার্জারি। অস্ত্রোপচারের এই পদ্ধতিতে ক্যানসার আক্রান্ত কোষগুলিকে তুলে ফেলা হয়। একে মোজ় মাইক্রোগ্রাফিক সার্জারিও বলা হয়।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেসাল সেল বা স্কোয়ামোস সেল কারসিনোমার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতির প্রয়োগ করেন চিকিৎসকরা। ত্বকের যে অংশে ক্যানসার হয়েছে সেখানকার কোষগুলিকে তুলে ফেলা হয়। এমন একটা মার্জিন করে দেন ডাক্তাররা যাতে আশপাশের কোষে আর ক্যানসার ছড়িয়ে পড়তে না পারে। এই প্রক্রিয়া খুব দ্রুত করা যায় এবং এই সার্জারির কারণে খুব জটিল কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা যায় না। ত্বকের যে কোনও ধরনের ক্যানসারের থেরাপিতেই মোজ় সার্জারি ব্যবহার করে ডাক্তাররা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More