রবিবার, আগস্ট ১৮

সাবেকি পদের সঙ্গে বাহারি ফিউশন, রকমারি পদ নিয়ে কসবায় হাজির ‘তাল উৎসব’

সোহিনী চক্রবর্তী

সময়টা ভাদ্র মাস। বাজারে গেলেই হরিদা বলছেন, ‘বাবু তালটা নিয়ে যান। খেয়ে দেখুন। তারপর দাম হবেখন। এ জিনিস সেরা আছে। হাজার খুঁজলেও পাবেন না।‘ শুনেই মনটা কেমন হু হু করে ওঠে দত্তবাবুর। আহা কতকাল তালের ক্ষীর খান না। আগে গিন্নি বেশ রসিয়ে এসব বানাত। কিন্তু এখন সেসব পাট চুকেবুকে গিয়েছে। বাজার থেকে তাল কেনারও উপায় নেই দত্তবাবুর। গিন্নির কড়া হুকুম। ‘ওসব তাল-টাল আমি চালতে পারবো না বাপু। এতকাল অনেক খেটেছি। বয়সকালে এসব আর পোষায় না। তোমার ইচ্ছে হলে কিনে খেয়ো।‘ কিন্তু ভালো তালের বড়া কি আর মিষ্টির দোকানে পাওয়া যায়? কী সব ছাইপাশ বানায় আজকাল। মুখেও তোলা যায় না।

কুছ পরোয়া নেহি দত্তবাবু। আপনার মুশকিল আসান এ বার হাজির এই শহরেই। আগামী ২৫ এবং ২৬ অগস্ট খোদ কলকাতাতেই আয়োজিত হতে চলেছে ‘তাল উৎসব’। তালের বড়া, তালের ক্ষীর, তালের ফুলুরি এ সব সাবেকি পদ তো রয়েইছে। সঙ্গে রয়েছে বাহারের বেশ কিছু নতুন আইটেমও। সৌজন্যে ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ কমিউনিকেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস সেন্টার (ডিআরসিএসসি)।

দ্য ওয়ালের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিল সংস্থার এক আধিকারিক সৌরভ ঘোষের সঙ্গে। সৌরভ জানিয়েছেন, “আমাদের সংস্থা মূলত বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে কাজ করে। বিশেষ করে সেই সব জিনিস যা আজকাল হারিয়ে যাচ্ছে। এই যেমন ধরুন তাল। এ জিনিসের তো হাজারটা ব্যবহার আছে আমাদের জীবনে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আজকাল সঠিক ভাবে তালের প্রসেসিংটাই হয় না। গ্রামাঞ্চলের দিকে তো প্রচুর তাল নষ্ট হয়ে যায় শুধু সঠিক প্রসেসিংয়ের অভাবে। তাই তালের উপর আমাদের সংস্থা খানিক মনোযোগ দিয়েছে।“

 

সৌরভ জানিয়েছেন, “তাল নিয়ে উৎসব এটাই প্রথম নয়। এর আগে বাঁকুড়াতেও তাল উৎসব করেছিলাম আমরা। ভেবেছিলাম খুব একটা সাড়া ফেলতে পারবো না। তবে সত্যি বলছি আমাদের এক্সপেকটেশনের তুলনায় মানুষের অনেক বেশি রেসপন্স পেয়েছি আমরা। আর তারপরেই ভাবি যে এটা কলকাতার বুকে করলে কেমন হয়। দেখুন বর্তমানের ইঁদুর দৌড়ের জীবনে বাড়িতে সবসময় সব কিছু বানিয়ে খাওয়ার তো আর সময় পান না সবাই। তাই এই ছোট্ট আয়োজন। আর সবাই যাতে আসতে পারেন সেই জন্যই উইকেন্ডকে বেছে নিয়েছি আমরা।“

কী কী থাকবে ডিআরসিএসসি-র ‘তাল উৎসবে’?

সৌরভের কথায়, ‘খুব বেশি কিছু বলছি না। তবে এলে অনেক চমক পাবেন। তাল থেকে তৈরি বিভিন্ন খাবারের রকমফের পাবেন এই উৎসবে। তালের বিভিন্ন সাবেকি পদের পাশপাশি থাকবে তালের কেক, তালের কচুরি, তালের রুটি আর তালের মোমো। সবাইকে বলবো একটিবার আসুন। এলেই বুঝবেন এই উৎসব বাকিদের তুলনায় খানিকটা আলাদা। এমন অনেক জিনিস এখানে পাবেন যা সচরাচর দেখা যায় না।“

 

এমনিতেই ‘তাল’ নিয়ে বাঙালির একটা আলাদা ভালোবাসা আছে। সে রবীন্দ্রনাথের কবিতাই বলুন বা মায়ের হাতের তালের বড়া। সর্বত্রই বাঙালি খানিক সুখ খোঁজে। তাই আর দেরি নয়। এই উইকেন্ডে চট করে ঘুরে আসুন দক্ষিণ কলকাতার কসবায়। ২৫ এবং ২৬ অগস্ট শনি বিকেল ৪টে থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এবং রবিবার দুপুর ২টো থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বোসপুকুর ধর্মতলা তরুণ সংঘ ক্লাবের মাঠে চলবে এই ‘তাল উৎসব’।

 

 

Leave A Reply