বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪

জন্ম-রূপ-পূজা, দেবী লক্ষ্মী মানেই অনেক গল্প, দুর্গার মেয়ে নন মোটেই

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আলোর রোশনাই নেই, থিমের ব্যাপকতা নেই। যে মণ্ডপে কয়েকদিন আগেই আলো ঝলমল করছিল, ঢাক বাজছিল, আজ সেই মণ্ডপে একটা জাগপ্রদীপ ছাড়া আর কিছু নেই। লক্ষ্মীপুজোয় জাঁক করতে হয় না। যে সব ক্লাবে, বাড়িতে দুর্গাপুজো হয়েছিল শুধু সেখানে নয়, লক্ষ্মীপুজো হয় গৃহস্থের বাড়িতে বাড়িতেও, নিঃশব্দে। কোজাগরী পূর্ণিমার রাতে জেগে থাকে গৃহস্থ।

দেবী লক্ষ্মীর জন্ম

পৌরাণিক মতে সমুদ্রমন্থনে দেবী লক্ষ্মীর সৃষ্টি। সেই একবারই বোধহয় দেবতা আর অসুর এক সঙ্গে কোনও কাজ করেছিলেন। কুর্মাবতারের উপরে মন্দার পর্বতকে বসিয়ে অনন্তনাগকে দড়ি হিসাবে ব্যবহার করে শুরু হয়েছিল সমুদ্রমন্থন। অমৃতকুম্ভ, ঐরাবত, হলাহলের মাঝে উঠেছিলেন দেবী লক্ষ্মীও। ঠিকই ধরেছেন, বঙ্গভূমি ছাড়া কোথাও তিনি দুর্গার মেয়ে নন।
বাংলায় জল-হাওয়ায় কবে যেন গণেশ-জননী হয়ে উঠলেন লক্ষ্মী-সরস্বতীরও মা।

সম্পদের দেবী লক্ষ্মী। অন্নের দেবী লক্ষ্মী। তাঁর পুজো হয় মূর্তি, পট আর ঘটে। ঘটই আসল। আলপনা এঁকে, তার উপরে ঘট বসানো হয়। সেখানে আমের পল্লব আর সুপারি থাকে। আর লক্ষ্মীর ঝাঁপিতে থাকে কড়ি।

লক্ষ্মীর রূপ

এখন যে সালঙ্কারা দেবীমূর্তি আমরা দেখি (তা যে শুধু লক্ষ্মীর, এমন নয়), অনেকই সেই কৃতিত্ব দেন রাজা রবি বর্মাকে। যদিও সমালোচকরা বলেন, রাজা রবি বর্মা নাকি ছিলেন ক্যালেন্ডার পেন্টার। সে তর্কে প্রয়োজন নেই, প্রাচীন দেবী মূর্তির থেকে আধুনিক দেবীপ্রতিমা অনেকটাই আলাদা। বাংলার পাল-সেন যুগের শিল্পকলার সঙ্গে তার সাজুয্য নেই। আর এখন বাংলার নিজস্ব লক্ষ্মীপ্রতিমা বলতে কৃষ্ণনগরের লক্ষ্মীর সরার কথা বলা যেতে পারে। কে জানে থিমের ভিড়ে কখন সেটাও হারিয়ে যাবে।
লক্ষ্মীর সরাকেই অনেকে পট বলেন, তবে বীরভূম-মেদিনীপুরের পটের সঙ্গে তার কোনও মিল নেই। রাঢ় অঞ্চলের পট আঁকা হয় কাগজের উপরে, প্রাকৃতিক রঙে। এখন অবশ্য রাসায়নিক রংয়েও আঁকা হচ্ছে সেই পট।
লক্ষ্মীর সরায় অবশ্য আঁকা থাকে দুর্গার ছবিই। তবে অনেকে তার পাশে একটা লক্ষ্মীর ছবিওয়ালা সরাও বসিয়ে নেন।

পড়ুন, দ্য ওয়ালের পুজোসংখ্যার বিশেষ লেখা…

তাহু ফল, ঐশ-রোষ ও পিগমি সমাজ

Comments are closed.