রবিবার, জানুয়ারি ১৯
TheWall
TheWall

ইফতারের সন্ধে শুধু নয়, সেহরিতেও জমজমাট রোল-হালিম-বিরিয়ানির কলকাতা

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রমজানের কলকাতার স্বাদই কিছু আলাদা। সান্ধ্য় ইফতারে একসময় ঝলমলে কলকাতার অলি- গলি রোল-হালিম-তন্দুরের গন্ধে ম ম করতো। এখন আর সান্ধ্য় মেজাজের অপেক্ষায় সময় গোনে না কলকাতা। সেহরিতেও জমে ওঠে খানাপিনার আড্ডা। ফিয়ার্স লেন, কলুটোলার দিক থেকে জাকারিয়া স্ট্রিট— নাখোদা মসজিদের পাড়ায় সুরভিত সুখাদ্যের হাতছানি। সন্ধের হালিম-পায়া-চাঁপ-বিরিয়ানি তো রয়েছেই,  দিনের বেলাতেও মাটন রোলে বিরাট কামড় বসাতে দেখা যায় শহরবাসীকে। হালিমের বাটি ধরে চামচ ডুবিয়ে হাল্কা মেজাজে চলে রমজানের জমাটি ভোজন।

স্বাদের কলকাতায় হাল হকিকত নিয়ে যদি একটু নজর চালানো যায়, তাহলে দেখা যাবে রমজান মাসে শহর জুড়ে রীতিমতো রাজত্ব করছে হরেক কিসিমের রোল। সূর্য ওঠা থেকে ডোবা— রোল দিয়েই শুরু হচ্ছে প্রাতরাশ, আবার সন্ধে গড়ালে রোলেই মিটছে ইফতারের খুচরো খিদে। পাশাপাশি, আলু চর্চিত বিরিয়ানি, হালিম, নিহারি, ফিরনি তো রয়েছেই। তিলোত্তমার আনাচ কানাচ সেজে উঠেছে মোগলাই খানার রকমফেরে। কোন খাবারের চাহিদা কত তাই নিয়ে হালে একটা সমীক্ষা চালিয়েছিল অনলাইন ফুড ডেলিভারি সংস্থা সুইগি। তাদের খুঁটিনাটিতে ধরা পড়ে অবাক করা তথ্য়। শহরের কোন প্রান্তে রোল-প্রিয় মানুষের বাস, কোথায় আড্ডা দেন বিরিয়ানি প্রেমীরা, আবার কোথায় ইফতারের সন্ধে জমে ওঠে হালিম-রমজানি শাহি টুকরায় তার আন্দাজ করা গেছে এই সমীক্ষা থেকে।

শুরুটা হোক রোল দিয়েই। এগ, মাটন, চিকেনের পাশাপাশি কাঠি-কিমা রোলের চাহিদা শহরের বুকে সবচেয়ে বেশি। এমনিতেই স্ট্রিট-ফুডের মধ্য়ে রোলের স্থান উপরেই রয়েছে। রমজানি কলকাতায় এর চাহিদা আবার গত কয়েক বছরে বেশ লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। সুইগি জানিয়েছে, কোলেস্টেরলে ভোগা শহরবাসীদের কাছে চিকেন রোলের চাহিদাই বেশি। এগ-চিকেন রোলও বিকোচ্ছে দেদার। এমনকি হালিম-রোল-ফিরনি সমেত ইফতার বক্সও নাকি ডেলিভারি হচ্ছে শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণে, পূর্ব থেকে পশ্চিমে।

ইফতার মানেই থকথকে ডালের ভিতর মাংস ভাসিয়ে হালিম-প্রীতিতে মজে শহরবাসী। হায়দরাবাদ, লখনৌয়ের পরেই হালিম-প্রেমে নাম উঠেছে কলকাতার। শহরের হালিম-মানচিত্র এখন বিস্তৃত মধ্য় কলকাতা, বড় বাজার, এসপ্ল্য়ানেড, রুবি, যাদবপুর এবং বালিগঞ্জে। চিকেন, মাটন আর বিফ হালিমের সবচেয়ে বেশি বিকিকিনি এবং অর্ডার যায় মূল এই এলাকাগুলি থেকেই। সুইগির ভাষায় কলকাতার এই সমস্ত এলাকা মূলত হালিম-জোন। ইফতারের মরসুমে ৫৪ শতাংশ অর্ডার আসে হালিমেরই।

কলকাত্তাইয়া বিরিয়ানির চাহিদা তো আলাদা করে বলার কিছু নেই। চিকেন বিরিয়ানি-মাটন বিরিয়ানির আর্জি আসে বিস্তর। উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার মানুষজন ইফতারের সন্ধ্য়ায়, এমনকি মধ্য়াহ্ন ভোজেও বিরিয়ানি খেতে পছন্দ করে। সিরাজ গোল্ডেন রেস্তোরাঁ, আমিনিয়া, নিজাম, হাজি সাহেব এই রেস্তোরাঁগুলি ফুলেফেঁপে ওঠে রমজান মাসে।

মেন কোর্স ছাড়া ইফতারের খুচরো খিদের জন্য় চিকেন মোমো তো রয়েছেই। মিষ্টির চাহিদাও আকাশছোঁয়া।  ফিরনি, রাবড়ি, মালপোয়া, শাহি টুকরার খোঁজ সবচেয়ে বেশি করেন শহরবাসী। তা ছাড়া, বাঁধা গতের ফিরনি ছাড়াও চকলেট ফিরনি, স্ট্রবেরি ফিরনিরও আজকাল দেখা মিলছে। মোটামুটি বিকেল থেকেই ছড়িয়ে পড়ে স্বাদগন্ধের সুরভি।

Share.

Comments are closed.