শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২০

খিদিরপুরে একই বাড়িতে তিন ভাই-বোনের অস্বাভাবিক মৃত্যু, তদন্তে নেমে ধন্দে পুলিশ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: খিদিরপুরে একই বাড়িতে অস্বাভাবিক ভাবে মৃত্যু তিন ভাই-বোনের। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। ধন্দে পুলিশও। ইতিমধ্যেই নমুনা সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছে ফরেন্সিক দল। তদন্তে নেমেছে হোমিসাইড শাখার গোয়েন্দারাও।

পুলিশ জানিয়েছে, 49/5/H/146 কার্ল মার্ক্স সরণির ওই বাড়ি থেকে প্রথমে পচাগলা অবস্থায় উদ্ধার করা হয় দু’জন প্রৌঢ়ের দেহ। মৃতদের নাম ত্রিলোকীপ্রসাদ গুপ্তা (৫৮) এবং ভোলাপ্রসাদ গুপ্তা (৫৩)। তবে দুই ভাইয়ের দেহ উদ্ধারের পাশাপাশি অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয় বোন শান্তি গুপ্তাকে। এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে শান্তিদেবীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। পুলিশ জানিয়েছে, প্লাস্টিক দিয়ে দরজা-জানলা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। ফলে আলো-বাতাস ঢুকতে পারত না। শ্বাসরোধ হয়েও মৃত্যুর সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ

প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, বুধবার থেকেই ওই বাড়ি দেখে উৎকট গন্ধ বেরোতে শুরু করেছিল। তখনই তাঁরা আন্দাজ করেছিলেন কিছু একটা গণ্ডগোল হয়েছে। এরপর শুক্রবার দুর্গন্ধে টিকতে না পেরে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রাই। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে উদ্ধার করে ত্রিলোক এবং ভোলা গুপ্তার পচাগলা দেহ। সে সময় ঘরের মধ্যেই অচৈতন্য অবস্থায় পড়েছিলেন মৃত ব্যক্তিদের বোন শান্তিদেবী। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বুধবারের পর থেকে ওই তিন ভাই-বোনের মধ্যেই কাউকে দেখা যায়নি।

কিন্তু কী কারণে এই তিন ভাই-বোনের মৃত্যু হয়েছে সে ব্যাপারে এখনও ধন্দে রয়েছে পুলিশ। শুরু হয়েছে তদন্ত। অসুখে ভুগেই মৃত্যু নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও কারণ তা জানতে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে তিন ভাই-বোনের দেহ। গুপ্তা পরিবারের তিনজনের কোনও মানসিক সমস্যা ছিল কি না কিংবা তাঁদের কোনও পারিবারিক শত্রু রয়েছে কি না তা জানতে প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। কোনও সন্দেহভাজন গত কয়েকদিনে ওই বাড়িতে এসেছে কি না তা জানতেও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এর পাশাপাশি বাড়ি দখলের জন্য স্থানীয় কোনও প্রোমোটার এ কাণ্ড ঘটিয়েছে কি না সে দিকেও নজর রাখছে তারা।

Comments are closed.