কৃত্তিকা-ক্ষত এখনও টাটকা, ফের শহরের স্কুলে আত্মহত্যার চেষ্টা আরও এক ছাত্রীর!

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: শহরের বুকে এখনও মেলায়নি জিডি বিড়লার শৌচালয়ে ছাত্রীর আত্মহত্যার ক্ষত। তার এক সপ্তাহের মধ্যেই ফের স্কুলের শৌচালয়ে হাতের শিরা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করল ক্লাস টেনের আরও এক ছাত্রী! তবে বালিগঞ্জের ওই নামী স্কুলের কর্তৃপক্ষের তত্‍‌পরতায় মেয়েটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়েছে।

    তদন্তে জানা গিয়েছে, হতাশায় ভুগছিল ওই ছাত্রীটি। জিডি বিড়লার আত্মঘাতী ছাত্রী কৃত্তিকার মতো সে-ও ক্লাসের টপার। কিন্তু তার নিয়মিত কাউন্সেলিং চলত বলে পরিবার সূত্রের খবর। ওষুধও খেত সে রোজ। যদিও তার স্কুলের শিক্ষকেরা এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না বলে দাবি করেছেন। বরং তাঁরা জানিয়েছেন, মেয়েটি খুবই হাসিখুশি। ওর আর পাঁচ জন বান্ধবীর মতোই স্বাভাবিক আচরণ করত। আমাদের কোনও কিছুতেই সন্দেহ হয়নি।

    মঙ্গলবারের ঘটনার পরে ওই ছাত্রী জানিয়েছে, তাকে কেউ ভালবাসে না। তার জন্য কারও সময় নেই। সকলেই নিজের কাজে ব্যস্ত। এই অভিমানেই আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল সে।

    গত শুক্রবার জিডি বিড়লার ছাত্রী কৃত্তিকা পাল স্কুলের শৌচালয়ে হাতের শিরা কেটে, মুখে প্লাস্টিক বেঁধে আত্মহত্যা করে। মঙ্গলবার বালিগঞ্জের স্কুলেও ঘটনাটিতেও একই ভাবে স্কুলের শৌচালয়ে গিয়ে হাতের শিরা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করে ছাত্রীটি। 

    স্কুল সূত্রের খবর, ক্লাস শেষ হওয়ার কিছু ক্ষণ পরে, বিকেল ৩টে নাগাদ মেয়েটি শৌচালয়ে যায়। স্কুলের সিসিটিভি মনিটর করার দায়িত্বে থাকা কর্মী যখন লক্ষ করেন যে পাঁচ-ছ’মিনিট পরেও মেয়েটি শৌচালয় থেকে বেরোচ্ছে না, তখনই তিনি কিছু একটা আন্দাজ করে শৌচালয়ে যান। দরজায় নক করলেও খোলেনি মেয়েটি।

    এর পরেই দরজা ভেঙে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় কিশোরীকে। তার হাত রক্তে ভেসে যাচ্ছিল। তবে সৌভাগ্যবশত, ক্ষত খুব বেশি গভীর ছিল না। প্রাথমিক চিকিত্‍‌সার পরেই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর পরে স্কুল কর্তৃপক্ষ ছাত্রীটির বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি কলকাতার বাইরে থাকায় স্কুলে যান মেয়েটির মা।

    পুলিশ জানিয়েছে, তারা স্কুলের প্রিন্সিপালের সঙ্গে কথা বলেছে। স্কুলের তত্‍‌পরতায় ছাত্রীটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। এই তৎপরতা সব স্কুলেই থাকা উচিত। এ ছাড়াও পুলিশ জানিয়েছে, সব বাবা-মায়েদেরই উচিত নিজের সন্তানের দিকে বিশেষ নজর রাখা, তাদের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটানো।

    এ বিষয়ে পুলিশের কাছে এখনও পর্যন্ত কেউ অভিযোগ জানায়নি। স্কুলের তরফে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তাদের দাবি, জিডি বিড়লায় কৃত্তিকা পালের ঘটনার পরে তাঁরা কর্মীদের সতর্ক করে দিয়েছিলেন। এ দিন তারই ফল মিলল।

    এর এক দিন পরেই, বুধবার, ফের ওই স্কুলেই এক সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীর ব্যাগ থেকে উদ্ধার হল একটি-দু’টি নয়, পাঁচ-পাঁচটি শার্পনারের ব্লেড। স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অনুমান ওই ছাত্রীটিও আত্মহত্যা করার চেষ্টায় ছিল।

    সপ্তম শ্রেণির ওই ছাত্রীর বন্ধুরা জানিয়েছে, এ দিন স্কুলে ক্লাস চলাকালীন এক বন্ধু তার পেন-পেনসিল রাখার ব্যাগ থকে পেন নিতে গিয়ে প্রথমে দেখে ওই পাঁচটি ব্লেড। পরে সেই বন্ধু ক্লাস টিচারকে বিষয়টি জানায়। এর পরেই শিক্ষিকা ওই ছাত্রীর ব্যাগটি নিয়ে প্রিন্সিপালের কাছে জমা দেন। তিনিই ওই ব্যাগ খুলে দেখেন, বেশ কয়েকটি শার্পনার রয়েছে, যার ব্লেডগুলি খোলা। একই সঙ্গে উদ্ধার হয় ব্লেডগুলিও।

    পরে ওই ছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই ছবি পোস্ট করার জন্যই সে পাঁচটি শার্পনার ব্লেড জোগাড় করেছিল।

    আরও পড়ুন…

    ‘গোটা দুনিয়া তোর বিরুদ্ধে গেলেও আমি পাশে আছি,’ মেয়েকে বলেছিলেন কৃত্তিকার বাবা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More