ভালো ইংরেজি বলতে না পারার জন্যই কি আত্মহত্যা সেন্ট জেভিয়ার্সের পড়ুয়ার! উঠছে প্রশ্ন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঝরঝরে ইংরেজিতে কথা বলতেন তাঁর সহপাঠীরা। তাঁদের সবকিছুই ছিল একটু আলাদা। এটাই বোধহয় সমস্যা হয়ে দাঁরিয়েছিল হৃষীক কোলের জীবনে। তাই সব কিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পেরেই আত্মহত্যা করেছেন সেন্ট জেভিয়ার্সের পড়ুয়া। প্রাথমিক তদন্তে এমনটাই অনুমান পুলিশের।

পড়াশোনায় বরাবরই মেধাবী ছিলেন সিঙ্গুরের বাসিন্দা হৃষীক কোলে। স্থানীয় কলেজে ভর্তির পর সুযোগ পেয়েছিলেন সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে। পদার্থবিদ্যা নিয়ে কদিন আগেই ভর্তি হন কলকাতার এই কলেজে। কিন্তু আচমকাই নিখোঁজ হয়ে যান হৃষীক। সহপাঠীরা জানিয়েছিলেন, হস্টেল থেকে বালতি কিনবেন বলে বেরিয়েছিলেন হৃষীক। আর ফেরেননি।

বৃহস্পতিবার থেকেই নিখোঁজ ছিলেন এই ছাত্র। পুলিশে অভিযোগ জানান তাঁর পরিবার। এরপর শুক্রবার উত্তরপাড়া এবং হিন্দমোটর স্টেশনের মাঝে উদ্ধার হয় হৃষীকের দেহ। পুলিশ জানিয়েছে, ধড় আর মাথা আলাদা হয়ে গিয়েছিল তাঁর। দেহের পাশ থেকে একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার করে পুলিশ। তারা জানিয়েছে, ওই সুইসাইড নোটে হৃষীক লিখেছেন, পড়াশোনার চাপ, কলেজের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে না পেরেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।

কিন্তু কীসের এত অবসাদ সদ্য কলেজে ভর্তি হওয়া হৃষীকের?

কলকাতার নামজাদা কলেজ সেন্ট জেভিয়ার্স। সেখানে ভর্তির সুযোগ পেয়ে আনন্দেই ছিলেন হৃষীক, তেমনটাই জানিয়েছে তাঁর পরিবার। তবে কলেজের সকলেই চোস্ত ইংরেজিতে কথা বলেন। আদব-কায়দাতেও তাঁরা মফস্বলের হৃষীকের থেকে অনেকটাই আলাদা। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ভালো ইংরেজি বলতে না পারাটাই মূল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল হৃষীকের। তাঁর বাবা জানিয়েছেন, কলেজের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারছিলেন না বলেই কদিন ধরে একটু চুপচাপ ছিলেন হৃষীক। কিন্তু তা বলে যে এত বড় সিদ্ধান্ত নেবেন, এমনটা ভাবেননি কেউই। হতবাক হৃষীকের সহপাঠী এবং কলেজ কর্তৃপক্ষ।

হৃষীকের সহপাঠীরাও জানিয়েছেন, কদিন ধরেই অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। সহপাঠীরা এ-ও জানিয়েছেন যে ভর্তির পর থেকে বেশ কয়েকটি ক্লাসও করেননি হৃষীক। বৃহস্পতিবার বেনিয়াপুকুরের কলেজ হস্টেল থেকে বালতি কেনার নাম করে বেরোন তিনি। তারপর আর ফেরেননি। শুক্রবার হৃষীকের মৃত্যুর খবর পান তাঁরা।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, মানসিক অবসাদেই আত্মহত্যা করেছেন হৃষীক। তবে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলতে রাজি নন তদন্তকারী অফিসাররা। এই মৃত্যুর পিছনে অন্য কোনও কারণ থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ। শুরু হয়েছে তদন্ত। ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে হৃষীকের দেহ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More