ববি দা আমার সিট থেকে জিতে মেয়র হোন: শোভন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিষ্যুদবারের বার বেলাতেই দূত মারফত ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছিলেন কলকাতা পুরসভায়। গ্রহণও করে নিয়েছিলেন চেয়ারপার্সন মালা রায়। নভেম্বরের পড়ন্ত বিকেলে সার্দান অ্যাভিনিউয়ের আবাসনের উঠোনে সাংবাদিক সম্মেলন করে শোভন চট্টোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছিলেন, তাই আমি পদত্যাগ করেছি।” সেই সঙ্গে এ-ও জানিয়ে দেন, “অতি বড় শত্রুরও যেন আমার মতো অবস্থা না হয়।” তবে কী তাঁর অবস্থা, সে বিষয়ে বিশদে কিছু বলেননি শোভন।

    মঙ্গলবারই মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দিয়ে দিয়েছিলেন শোভন। বুধবার তাঁর মেয়র পদ ছাড়ার কথা ছিল। ছুটি সত্ত্বেও পুরভায় হাজির ছিলেন কমিশনার খলিল আহমেদ এবং মালা রায়। কিন্তু যাননি শোভন।

    আরও পড়ুন সাত দিনের মধ্যে ক্ষমা চাইতে হবে, শোভনকে আইনি নোটিস রত্নার

    ইতিমধ্যেই বৃহস্পতিবার তড়িঘড়ি বিধানসভায় পুর আইন সংশোধনের বিল পাশ হয়ে গিয়েছে। আগে নিয়ম ছিল কাউন্সিলর না হলে কেউ মেয়র হতে পারবেন না। এখন থেকে কাউন্সিলর না হলেও মেয়র হওয়া যাবে। কিন্তু ছ’মাসের মধ্যে তাঁকে কোনও না কোনও ওয়ার্ড থেকে জিতে আসতে হবে। শোভন জানান, “আমি এখনও ১৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। দল যাঁকে মেয়র করবে তিনি যদি কাউন্সিলর না হন তাহলে তাঁকে জিতে আসতে হবে একটি ওয়ার্ড থেকে। আমায় যদি দল বলে ১৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদও ছেড়ে দিতে, আমি ছেড়ে দেব। আমি চাই না অন্য কাউকে সরে যেতে হোক।”  অনেকের নাম ভাসছিল পরবর্তী মেয়র হিসেবে। তার মধ্যে সবচেয়ে উপরের দিকে ছিল ফিরহাদ হাকিম (ববি)-র নাম। মেয়র ঠিক করতে বৃহস্পতিবার বিকেলে কলকাতার তৃণমূল কাউন্সিলররা বৈঠকে বসেন। সেখানেই নেত্রী ঠিক করে দেন কলকাতার পরবর্তী মহানাগরিক ববি হাকিম। ওই বৈঠকে কাউন্সিলর হিসেবে তাঁকে ডাকা হয়নি বলেও জানান শোভন। তাঁর কথায়, “আমি চাই ববিদা আমার সিট থেকে জিতে মেয়র হোক।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আনুগত্য অটুট রয়েছে বলেও জানান শোভন। তাঁর কথায়, “৩৩ বছর ধরে কাউন্সিলর। ৭৮-৭৯ থেকে সাল থেকে মমতাদিকে চিনি। দল গঠনে জীবনে সব ধরনের ঝুকি নিয়েছি। আমি দলকে অস্বস্তিতে ফেলতে চাই না।”

    ১৩১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ববিকে প্রার্থী হওয়ার শোভনের প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়ায় ববি জানান, “আমরা দলের প্রোডাক্ট। দল যেখানে লড়তে বলবে সেখানে লড়ব। কার্গিলে বললে কার্গিলে, লে-তে, দমন-দিউতে, যেখানে দল বলবে সেখানেই বুক পেতে দিয়ে লড়ব।”

    এ দিন তাঁকে প্রশ্ন করা হয় পদত্যাগের জন্য কি আপনার উপর চাপ ছিল? স্ট্রেট ব্যাটে কাননের জবাব, “পদত্যাগের নির্দেশ ছিল।” কেন পদত্যাগ করতে হল তা অবশ্য জানেন না বলেও মন্তব্য করেন শোভনবাবু। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের  কোনও চাপ? শোভনবাবু বলেন, “অভিষেক আমার ছোট ভাইয়ের মতো। সাংসদ, যুব তৃণমূলের সভাপতি-সহ দলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।” এরপর একই প্রশ্ন করা হলে সদ্য প্রাক্তন মেয়রের জবাব, “নো কমেন্টস।”

    এ দিনও বৈশাখীকে শুভানুধ্যায়ী আখ্যা দিয়ে শোভন বলেন, “সিবিআই, ইডি-র মামলায় বৈশাখী আমার পাশে দাঁড়িয়েছিল। বিপদের দিনে যে আমার পাশে দাঁড়িয়েছে, তাঁকে ত্যাগ করে নিজেকে বেইমান প্রতিপন্ন করতে পারব না।”

    The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন 

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More