মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১০
TheWall
TheWall

‘শর্ট কাটস’, ছোট ছবির বাণিজ্যিক দিক কীরকম, কীভাবে তৈরি হবে ইন্ডাস্ট্রি, জানাবে যাদবপুর

দ্য ওয়াল ব্যুরো : বর্তমানে ইউটিউব থেকে শুরু করে একাধিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে দাপট দেখাচ্ছে স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি বা শর্টফিল্ম। বাস্তব জীবনের একাধিক দিক বা ঘটনা নিয়ে তৈরি এইসব শর্টফিল্ম জেন ওয়াইদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। অথচ এই শর্টফিল্ম নিয়ে এখনও সে রকম বাণিজ্যিক ধারণা তৈরি হয়নি। কেউ একে ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে ভাবছেন না। এই মনোভাব বদলানোর সময় এসেছে। আর সেই কাজে সবার আগে প্রয়োজন দর্শক, যাঁরা সচেতন ভাবে শর্টফিল্ম দেখবেন এবং তার চাহিদা বাড়াতে সাহায্য করবেন।

শর্টফিল্ম নির্মাতাদের প্রথম সমস্যা প্রযোজক। ভারতীয় সিনে ব্যবসায়ীরা পূর্ণদৈর্ঘ্যের ছবি ছাড়া বিনিয়োগ করতে চান না। তার অন্যতম কারণ টাকা ফেরত পাওয়া। আর তাই তাঁদের কাছে ব্রাত্য হয়ে গিয়েছে শর্টফিল্ম ও ডকুমেন্টারি। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে এই দুইয়ের চাহিদা ও ব্যবসা কিন্তু বেশ স্বচ্ছন্দ। কিন্তু ভারতে কীভাবে এই শর্টফিল্মকে একটি ইন্ডাস্ট্রিতে পরিণত করা সম্ভব হবে, তার রূপরেখা এখনও তৈরি হয়নি। অনেকেই হয়তো শর্টফিল্মে বিনিয়োগ করেন, কিন্তু কখনওই তাকে প্রযোজনা বলা চলে না। কারণ প্রযোজক শুধু টাকা ঢালা নয়, ছবির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব কাজে যুক্ত থাকেন।

এই চিন্তার বদল ঘটাতেই ফিল্ম কিউরেটর অঙ্কিত বাগচী ও কলকাতার  ‘স্বাধীন চলচ্চিত্র সমাজ (Independent Film Society)’ মিলে ২৮ সেপ্টেম্বর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবেকানন্দ হলে আয়োজন করেছে ‘শর্ট কাটস’-এর। এখানে অঙ্কিতের বাছাই করা চারটি শর্ট ফিল্মের স্ক্রিনিং হবে। তার সঙ্গে ‘এক্সপ্লোরিং ইকোনমিক্স ইন শর্ট লেংথ ফিকশনস’ নামাঙ্কিত একটা আলোচনাচক্রও অনুষ্ঠিত হবে। এই আলোচনাচক্রের মাধ্যেমে ফিল্ম নির্মাতা, প্রযোজক, এবং শিল্পী সকলে এক মঞ্চে বসে শর্টফিল্মের আর্থিক ভবিষ্যৎ খোঁজার চেষ্টা করবেন এবং দর্শকদের কাছে প্রযোজনা সম্পর্কিত ভুল ধারণাগুলোকে পরিষ্কার করবেন।

এই আলোচনা চক্রে উপস্থিত থাকছেন অরোরা ফিল্ম কর্পোরেশনের কর্ণধার ধার অঞ্জন বসু, কলকাতার দু’জন শর্টফিল্ম পরিচালক চন্দ্রদ্বীপ দাস ও রাহুল রয় এবং বাংলাদেশের বিখ্যাত অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি। যে ফিল্মগুলো দেখানো হচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে সন্দীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের “দ্য অ্যাকর্ডিয়ান”, অভীক দাসের “টিকিট”, অনুরাগ পতির “অপু কাজলের গপ্পো” এবং রাজদীপ পাল ও শর্মিষ্ঠা মাইতির “মালাই”।

এই অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে ফিল্ম কিউরেটর অঙ্কিত জানান, “আমার কিউরেটেড চারটে শর্টফিল্ম ও একটা আলোচনা চক্র আয়োজন করছি, যেখানে মূলত আমরা শর্টফিল্মের প্রযোজনা এবং তার অর্থনৈতিক দিকটা নিয়ে কথা বলব। যাঁদের ছবি দেখাচ্ছি তাঁরা প্রত্যেকেই এই সময় উল্লেখযোগ্য কাজ করছেন। আমাদের অভাব দর্শকের। কারণ আমরা যাঁরা নির্মাণ করি তাঁরা অন্য নির্মাতাদের কাজ দেখতে তেমন আগ্রহী নই। অন্য একজনকে দর্শক হতে বলার প্রথম উদাহরণ হিসেবে নিজেকেই রাখতে হবে। আমাদের সমস্যার বেশ কিছুটা আমরা নিজেরাই সমাধান করতে পারি, শুধু সবাইকে এক জায়গায় আসতে হবে। প্রত্যেককে প্রত্যেকের দর্শক হয়ে উঠতে হবে।”

অঙ্কিত অনেকদিন ধরেই চেষ্টা করছেন যাঁরা ভালো সিনেমা দেখতে আগ্রহী, তাঁদের কাছে শর্টফিল্মের গ্রহণযোগ্যতা গড়ে তুলতে। অঙ্কিত বিশ্বাস করেন, যদি গুণগতভাবে উন্নত শর্টফিল্ম দেখানো এবং সেগুলো নিয়ে আলোচনা করার মত একটা পরিবেশ সৃষ্টি করা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে শর্টফিল্মের দর্শক সংখ্যাও বাড়বে এবং পরিণত শর্টফিল্ম তৈরির ক্ষেত্রেও কোন বাধা থাকবে না।

‘শর্ট কাটস’-র আয়োজনে অঙ্কিতকে সাহায্য করেছে কলকাতার স্বাধীন চলচ্চিত্র সমাজ (Independent Film Society), যারা বেশ অনেকদিন ধরেই নতুন ছবি ভাবনায় তৈরি ইন্ডিপেন্ডেন্ট সিনেমা এবং শর্টফিল্মের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। স্বাধীন চলচ্চিত্র সমাজের একজন ফাউন্ডার মেম্বার শুভঙ্কর মজুমদার জানান, “আমরা এমন একটা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করার ধারণা নিয়ে এগোচ্ছি, যেখানে ইন্ডিপেন্ডেন্ট সিনেমা নির্মাণের সঙ্গে প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে জড়িত সবাই একটা ইকোসিস্টেমেরই অংশ হবেন। সেই ইকোসিস্টেম এমন একটা কমিউনিটি তৈরি করতে সাহায্য করবে যেখানে সিনেমার পাশাপাশি সহাবস্থানে থাকা অন্যান্য আর্টফর্মগুলো নিজেদের স্বাধীন সত্বাকে বিসর্জন না দিয়েই সিনেমাকে আরও বৃহত্তর আর্টফর্ম হিসেবে সমুন্নত করতে সাহায্য করবে। আমাদের বিশ্বাস, যেদিন আমরা নিজেদের লক্ষ্যে পৌঁছতে পারব, তার পরদিন থেকেই আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে সিনেমা নিয়ে কাজ করার রাস্তাটা অনেক মসৃণ হয়ে যাবে। আমাদের প্রচেষ্টা এমন একটা রেভেনিউ মডেল গড়ে তুলতে সাহায্য করা, যেখানে বাণিজ্যিক সিনেমার বাইরেও সিনেমা নিয়ে কাজ করতে ইচ্ছুক সবাই, তাঁদের প্যাশন আর প্রফেশনকে সফলভাবে উপভোগ করবে এবং সামগ্রিক সিনেমা শিল্পের অংশ হবে।”

 

Comments are closed.