রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৫

মর্গ থেকে চোখ উধাও, তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন আরজি কর কর্তৃপক্ষের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর হাসপাতালের মর্গ থেকে মৃতদেহের চোখ উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় নড়েচড়ে বসল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রাত পার হতেই গঠন করা হলো তদন্ত কমিটি। তিন সদস্যের এই তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এই কমিটিকে দ্রুত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, কারও গাফিলতি পাওয়া গেলে দৃষ্টান্তমূলক সাজা দেওয়া হবে।

এই ব্যাপারে আরজি কর হাসপাতালের অধ্যক্ষ শুদ্ধোদন বটব্যাল বলেন, “তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কীভাবে চোখ উধাও হলো, এ ব্যাপারে কারও গাফিলতি রয়েছে কিনা, নাকি ইঁদুরই চোখ খুবলে নিয়েছে, সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে হাসপাতালে ইঁদুরের দৌরাত্ম্য আছে। স্টিলের আলমারির পাত ফুটো করে দিচ্ছে। আমরা সবকিছু খতিয়ে দেখছি।”

টিকিয়াপাড়ার বাসিন্দা শম্ভুনাথ দাস ১৫ অগস্ট নিজের বাড়ির সামনেই রাস্তায় পড়ে গিয়ে গুরুতর চোট পান মাথায়। সঙ্গে সঙ্গে আরজি কর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় ৬৯ বছরের শম্ভুনাথকে। ডাক্তাররা জানান, সেরিব্রাল অ্যাটাক হয়েছে তাঁর। হাসপাতালেই ভর্তি ছিলেন তিনি। রবিবার দুপুর ২টো ১৫ মিনিট নাগাদ মারা যান শম্ভুনাথ।

যেহেতু রাস্তায় পড়ে গিয়ে আঘাত পেয়ে মারা গিয়েছেন শম্ভুনাথ, তাই নিয়ম অনুযায়ী ময়নাতদন্ত হয় তাঁর। সোমবার বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে দেহ নিতে আসেন তাঁর পরিবারের লোকেরা। পরিবারের লোকের অভিযোগ, দেহ নিতে এসে তাঁরা দেখেন গোটা দেহ কাগজে মোড়ানো রয়েছে। সেই কাগজ খুলে দেখা যায়, দুটো চোখই নেই শম্ভুনাথের। সেখানে গোঁজা রয়েছে তুলো। মর্গের কর্মীদের জিজ্ঞাসা করলে তারা বলে, ইঁদুরে চোখ খুবলে নিয়েছে।

এ কথা শোনার পর টালা থানায় গিয়ে অভিযোগ জানায় শম্ভুনাথের পরিবার। তারপর দেহ ফের আরজি কর হাসপাতালের মর্গে এনে রেখে মর্গের কর্মীদের তালা দিয়ে বন্ধ করে বিক্ষোভ দেখানো শুরু করেন তাঁরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছন টালা থানার ওসি। পুলিশ পুরো এলাকা ব্যারিকেড করে দেয়। পরিবারের দাবি, কর্তৃপক্ষকে লিখিত দিতে হবে কে বা কারা চোখ খুবলে নিয়েছে। এবং সেই অনুযায়ী দোষীদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে।

আরজি করের এক চোখের ডাক্তার জানিয়েছেন, কোনও ব্যক্তি মারার যাওয়ার প্রায় ৬ ঘণ্টা অবধি ভালো থাকে চোখ। তার মধ্যে যদি কর্ণিয়া প্রতিস্থাপন করা যায়, তাহলে তা সফল হয়।

সোমবার সন্ধেবেলা রোগীর চোখ যে উধাও তা লিখিতভাবে স্বীকার করে নিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে চোখের গর্তে নকল চোখ বসিয়ে দেহ দেওয়া হচ্ছে। তারপরেই তদন্ত কমিটি গঠন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

Comments are closed.