শনিবার, মার্চ ২৩

#Breaking: রাজীব কুমারকে সরিয়ে কলকাতার নতুন পুলিশ কমিশনার হচ্ছেন অনুজ শর্মা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদে রাজীব কুমারের তিন বছর মেয়াদ পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। লোকসভা ভোটের আগে নির্বাচনী নিয়ম অনুযায়ীই তাঁকে আর ওই পদে রাখা যাবে না। ফলে মঙ্গলবার প্রথা মাফিক মহানগরের পুলিশ কমিশনার পদ থেকে রাজীব কুমারকে সরিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লালবাজারে রাজীবের আসনে তিনি বসালেন অনুজ শর্মাকে। যিনি এতোদিন এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) পদের দায়িত্বে ছিলেন। পাশাপাশি রাজীব কুমারকে পাঠানো হলো সিআইডিতে। রাজ্যের এই গোয়েন্দা শাখায় এডিজি পদে বসানো হয়েছে রাজীবকে। একই সঙ্গে এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) পদের দায়িত্ব পেয়েছেন সিদ্ধিনাথ গুপ্ত।

ভোটের আগে পুলিশের নীচুতলায় আগেই রদবদল করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার রদবদল করা হয় পুলিশের একেবারে উপরের মহলে। এবং তা কেবল এটুকুতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। হাওড়ার পুলিশ কমিশনার পদেও পরিবর্তন করা হয়েছে। আর্থিক অপরাধ শাখার ডিআইজি বিশাল গর্গকে পাঠানো হয়েছে হাওড়ার পুলিশ কমিশনার করে। এ ছাড়াও বদল করা হয়েছে বারুইপুরের জেলা পুলিশর সুপার। অজয় প্রসাদের জায়গায় নতুন পুলিশ সুপার হচ্ছেন রশিদ মুনির খান।

প্রসঙ্গত,  গত ১৬ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচন কমিশন একটি নির্দেশিকা জারি করে। তাতে  বলা হয় নির্বাচনের কাজে যুক্ত কোনও অফিসার নিজের জেলায় কর্মরত থাকলে, তাঁদের বদলি করতে হবে । যদি একই জায়গায়  কোনও অফিসারের ৪ বছর কিংবা ৩১ মে ২০১৯-এর মধ্যে তিন বছর পূর্ণ হয়, তাঁদেরকেও বদলি করতে হবে ।  ৩১ মে ২০১৭ সালের মধ্যে যে সমস্ত নির্বাচন এবং উপ নির্বাচন হয়েছে, সেই নির্বাচনে যাঁরা ডেপুটি ইলেকশন অফিসার, রিটার্নিং অফিসার, অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন তাঁদেরও করতে হবে বদলি । একই কাজ করতে হবে পুলিশ ইনস্পেক্টর ও সাব ইনস্পেক্টরদের ক্ষেত্রেও । নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ওই নির্দেশিকা পৌঁছয় নবান্নতেও ।

সোমবার বিকেলে নবান্ন থেকে বেরিয়ে নিউটাউনে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভবনের উদ্বোধনে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে ফের যান নবান্নে। শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে রাত পৌনে নটা পর্যন্ত বৈঠক করেন মমতা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজীব কুমারও। মনে করা হচ্ছে ওই বৈঠকেই পুলিশ প্রশাসনে রদবদলের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল।

নির্বাচন কমিশনের দেওয়া বদলি সংক্রান্ত নির্দেশিকায় প্রথমে বলা হয়েছিল, এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে। পরে আবার জানানো হয় ২৮ নয়, ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সেরে ফেলতে হবে এই বদলি প্রক্রিয়া। বুধবার অর্থাৎ ২০ ফেব্রুয়ারি সিবিআই-এর দায়ের করা রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে মামলা উঠবে শীর্ষ আদালতে। তার আগের দিনই হয়ে গেল এই রদবদল।

Shares

Comments are closed.