শনিবার, মার্চ ২৩

ম্যারাথন জেরা শেষে কলকাতায় পা দিলেন রাজীব কুমার

দ্য ওয়াল ব্যুরো : শিলং-এর সিবিআই দফতরে জেরা শেষে মঙ্গলবার কলকাতায় ফিরেছিলেন চিটফান্ড কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত কুণাল ঘোষ। ৩৬ ঘণ্টা জেরার পর বুধবার কলকাতায় পা দিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার।

বুধবার সন্ধেবেলা নেতাজি সুভাষচন্দ্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছন রাজীব কুমার। সঙ্গে ছিলেন ডিসি (এসটিএফ) মুরলীধর শর্মা এবং কলকাতার অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জাভেদ শামিম। বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে সেখানে উপস্থিত পুলিশ অফিসারদের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলেন রাজীববাবু। তারপর নিজের গাড়িতে চেপে রওনা হন তিনি। জেরা শেষে কুণাল ঘোষ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন। কিন্তু কমিশনার এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হননি।

বুধবার সকাল সাড়ে ন’টায় ওকল্যান্ডে সিবিআই দফতরে পৌঁছন কলকাতার নগরপাল। বেলা সাড়ে বারোটা নাগাদ তিনি বেরিয়ে আসেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার দফতর থেকে। সিবিআই দফতর থেকে বেরিয়ে বিমানবন্দরের পথে একটি ধাবায় মধ্যাহ্নভোজ সারেন রাজীব কুমার। বেলা একটা বাজতে পাঁচ নাগাদ ফের রওনা দেন বিমানবন্দরের দিকে।

শনিবার শিলং-এর সিবিআই দফতরে হাজিরা দেন রাজীববাবু। সেই শুরু। টানা পাঁচদিন জেরা চলে তাঁর। কলকাতার সিবিআই আধিকারিকদের সঙ্গে ছিলেন দিল্লি থেকে আসা স্পেশ্যাল টিম। রবিবার সন্ধেবেলা শিলং-এ গিয়ে পৌঁছন রোজভ্যালি কাণ্ডের তদন্তকারী অফিসার চোজম শেরপা। সিবিআই সূত্রে খবর, সারদা ও রোজভ্যালি, দুটি চিটফান্ড কাণ্ডেই জেরা করা হয় নগরপালকে।

শুধু রাজীব কুমার নয়, সারদা কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত তথা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ কুণাল ঘোষকেও শিলং-এ ডেকে নিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এজেন্সির অফিসাররা। পরপর দু’দিন রাজীব কুমারের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হয় কুণালকে। মঙ্গলবার জেরার পর কুণাল ঘোষ বলেছিলেন, তাঁর সামনে বসে জেরা করা হয়েছে কমিশনারকে। তাঁর কথা শুনতে বাধ্য হয়েছেন রাজীব কুমার। এতেই তাঁর নৈতিক জয় হয়েছে। সিবিআই সূত্রে খবর, জেরা চলাকালীনই নাকি রাজীব-কুণাল চারবার জড়িয়ে পড়েছিলেন তর্কাতর্কিতে। সিবিআই আধিকারিকরা তাঁদের থামাতে বাধ্য হন। এমনকী, রাজীব কুমারকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করার জন্য সিবিআইয়ের কাছে লিখিত আবেদনও জানিয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ কুণাল ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, রাজীব কুমার প্রভাবশালী ব্যক্তি। ওনাকে হেফাজতে না নিলে চিটফান্ড কাণ্ডে অভিযুক্ত ও সাক্ষীদের প্রভাবিত করতে পারেন তিনি।

সিবিআই সূত্রে খবর, এ বার গোয়েন্দারা রাজীব কুমারের রেকর্ড করা বয়ান খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবেন। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে উঠবে এই মামলা। কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে ফের ডাকা হবে, নাকি রেকর্ড করা বয়ান নিয়েই সিবিআই সুপ্রিম কোর্টে যাবে, সে ব্যাপারে এখনও নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন

ইলেকট্রনিক গ্যাজেট নিয়ে ধরা পড়লে পরীক্ষা বাতিল, প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে হুঁশিয়ারি শিক্ষামন্ত্রীর

Shares

Comments are closed.