মঙ্গলবার, নভেম্বর ১২

এনআরএসে কুকুর খুন, ন’মাস পর চার্জশিট দিল এন্টালি থানা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এনআরএস হাসপাতাল চত্বরে উদ্ধার হয়েছিল বস্তাবন্দি ১৬টি কুকুরছানার দেহ। ঘটনা ঘটেছিল চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে। এর প্রায় ন’মাস পর এই মামলায় চার্জশিট দিল এন্টালি থানা। শিয়ালদহ আদালতে জমা দেওয়া ২০৪ পাতার ওই চার্জশিটে নার্সিংয়ের দুই ছাত্রী মৌটুসি মণ্ডল এবং সোমা বর্মনের নাম রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

গত ১৩ জানুয়ারি রবিবার এনআরএস হাসপাতাল চত্বরে বড় বড় কয়েকটা কালো প্লাস্টিকের প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখেন এক হাসপাতাল কর্মীর স্ত্রী পুতুল রায়। প্যাকেটগুলির পাশেই বসে ছিল একটি মা-কুকুর। পুতুলদেবীর সন্দেহ হওয়ায় তিনি উঁকিঝুঁকি দেন প্যাকেটগুলিতে। একটি খোলা মুখের ভিতরে কুকুরছানা দেখতে পান তিনি। কৌতূহলী হয়ে বাকি প্যাকেটের মুখগুলি খুলতেই দেখতে পান কয়েক সপ্তাহ বয়সের ১৬টি কুকুরছানা মৃত অবস্থায় বন্দি।

এই ঘটনার পর মৌটুসি এবং সোমাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সে সময় প্রকাশ্যে আসে একটি নৃশংস ভিডিও। তাতে দেখা যায় কুকুরছানাগুলির মাকেই প্রথমে নিশানা বানিয়েছিল নার্সিংয়ের এই দুই ছাত্রী। তারপর একে একে নির্মম ভাবে পিটিয়ে মারে ১৬টি ছানাকে। এমন নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদে গর্জে উঠেছিল শহরের সাধারণ মানুষ থেকে বিভিন্ন পশুপ্রেমী সংগঠন। অশান্তির আঁচ পৌঁছে যায় দিল্লিতে মানেকা গান্ধীর দফতরেও।

গত ১৫ জানুয়ারি নার্সিংয়ের দুই পড়ুয়া মৌটুসী মণ্ডল ও সোমা বর্মনকে গ্রেফতার করে এন্টালি থানার পুলিশ। দফায় দফায় চলে জেরা। পুলিশের কাছে অপরাধ স্বীকারও করে নেয় মৌটুসী এবং সোমা। কিন্তু আদালতে তোলা হলে জামিনে ছাড়া পেয়ে যান দুই ছাত্রীই। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের তরফে জানানো হয়, তদন্ত সম্পূর্ণ হতে মাস দুয়েক সময় লাগবে। তাই এই দু’মাস ক্লাস করতে পারবেন না এই দুই ছাত্রী। দু’মাসের জন্য সাসপেন্ড করা হয় তাঁদের।

এরপর শুরু হয় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত। অবশেষে এই ঘটনায় চার্জশিট দিল এন্টালি থানার পুলিশ। চার্জশিটে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪২৯ ও ২০১ ধারায় পশু খুন ও তথ্য প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ আনা হয়েছে মৌটুসি এবং সোমার বিরুদ্ধে। একইসঙ্গে ১১এল ধারায় প্রিভেনশন অফ ক্রুয়েল্টি টু আনিম্যাল ধারা দেওয়া হয়েছে এই দু’জনকে।

পড়ুন ‘দ্য ওয়াল’ পুজো ম্যাগাজিন ২০১৯ – এ প্রকাশিত গল্প

শেষ ট্রাম

Comments are closed.