শনিবার, সেপ্টেম্বর ২১

শিক্ষকদের মিছিলে স্তব্ধ হাডকো মোড়, মিছিল যাচ্ছে বিকাশ ভবনের দিকে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ বার আন্দোলনে রাজ্যের উচ্চ প্রাথমিক স্তরের পার্শ্ব শিক্ষকরা। সমকাজে সমবেতন-সহ আট দফা দাবি নিয়ে উল্টোডাঙা হাডকো মোড়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষকদের জমায়েতে কার্যত স্তব্ধ হয়ে গেল ভিআইপি রোড। যান চলাচলে প্রভাব পড়ল বাইপাসেও। শিক্ষকদের বিরাট মিছিল শুক্রবার বেলা সাড়ে বারোটার সময়ে রওনা দিল বিকাশ ভবনের উদ্দেশে।

উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণ বঙ্গ, জঙ্গলমহল—সব জেলার পার্শ্বশিক্ষকরা রাস্তায় নেমে পড়েছেন। মূল দাবি, সমকাজে সমবেতন দিতে হবে। আন্দোলনে অংশ নেওয়া আলিপুরদুয়ারের পার্শ্ব শিক্ষক ঐক্য মঞ্চের নেতা তিমির ঘোষাল বলেন, “১৫ বছর ধরে আমরা সমকাজে সমবেতনের দাবি করে আসছি। ২০০৯ সালে তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় এলেই হবে সমস্যার সমাধান। কিন্তু আট বছর হয়ে গেল দিদি সরকারে রয়েছেন। প্রতিশ্রুতি থেকে গিয়েছে প্রতিশ্রুতি হয়েই।”

কাকদ্বীপের পার্শ্ব শিক্ষক নিখিল মণ্ডল বলেন, “১১ হাজার ৩০০ টাকা করে আমাদের বেতন দেয় সরকার। দেশের কোনও রাজ্যে উচ্চ প্রাথমিক স্তরে পার্শ্বশিক্ষকদের এই বেতন কাঠামো নয়।” তাঁদের বক্তব্য বছরে যে বেতনবৃদ্ধি হওয়ার কথা, তা-ও বন্ধ রয়েছে পাঁচ বছর ধরে। উত্তর চব্বিশ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জের শিক্ষিকা তনিমা শাসমল বলেন, “আমাদের বেতন দেওয়ার বেলায় সরকারের টাকা নেই। আর অন্য ফূর্তি করার বেলায় সব টাকা বার করে দিচ্ছে।” শুধু বেতন বৃদ্ধি নয়, ছুটি নিয়েও দাবি রয়েছে তাঁদের। পার্শ্বশিক্ষক ঐক্য মঞ্চের দাবি, সিএল, পিএল-সহ মাতৃকালীন ছুটিতেও বৈষম্য রয়েছে।

সল্টলেকের ভিতর দিয়েই মিছিল রওনা দিয়েছে বিকাশভবনের দিকে। শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করার কথা তাঁদের এক প্রতিনিধিদলের। এ ব্যাপারে পার্থবাবুকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। মিছিলে আওয়াজ একটাই, দাবি না মিটলে রাস্তা ছাড়া হবে না। পুলিশও মিছিল আটকাতে বিকাশ ভবনের অনেকটা আগেই ব্যারিকেড করেছে। এখন দেখার কী পরিস্থিতি তৈরি হয়।

Comments are closed.