জাগুয়ার কাণ্ডে চার্জশিট পেশ কলকাতা পুলিশের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো : দুর্ঘটনা ঘটার ঠিক ৩২ দিনের মাথায় জাগুয়ার কাণ্ডে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করল কলকাতা পুলিশ। বুধবার শহরের মেট্রোপলিটন আদালতে জমা দেওয়া হয় চার্জশিট।

    কলকাতা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, রাঘেব পারভেজ, আরসালান পারভেজ ও তাদের মামা মহম্মদ হামজার বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করা হয়েছে। ঘাতক জাগুয়ারটির চালক রাঘেবের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৪ ( অনিচ্ছাকৃত খুন ), ৩০৮ ( অনিচ্ছাকৃত খুনের চেষ্টা ), মোটর ভেহিক্যাল অ্যাক্টের ১১৯ ও ১৭৭ নম্বর ধারা এবং পিডিপিপি আইনের ৩ নম্বর ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। রাঘেবের ভাই আরসালানের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ২০১ ( তথ্য প্রমাণ লোপাট করে তদন্তে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ) এবং হামজার বিরুদ্ধেও ২০১ ও ২০২ ( তথ্য প্রমাণ লোপাট করে তদন্তে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও অভিযুক্তকে পালাতে সাহায্য ) ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

    ১৬ অগস্ট মাঝরাতে লাউডন স্ট্রিট ও শেক্সপিয়ার সরণির সংযোগস্থলে প্রবল গতিতে এসে একটি জাগুয়ার ধাক্কা মারে মার্সিডিজে। জাগুয়ারটির গতি এতটাই বেশি ছিল, যে মার্সিডিজে ধাক্কা মারার পরে সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রবল গতি পাশের একটি পুলিশ কিয়স্কে ধাক্কা মারে। ধাক্কার জেরে কিয়স্কটি হেলে যায়। সেই কিয়স্কের পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন তিন জন। তাঁদের দু’জনকে পিষে দেয় জাগুয়ার। মৃত্যু হয় বাংলাদেশের দুই বাসিন্দা কাজি মহম্মদ মইনুল আলম ( ৩৬ ) ও ফারহানা ইসলাম তানিয়ার ( ২৮ )।

    এই ঘটনার পরেই জানা যায়, গাড়িটি চালাচ্ছিল বিখ্যাত বিরিয়ানি চেন আরসালানের মালিকের ছেলে আরসালান পারভেজ। সে দিন দুপুরেই গ্রেফতার করা হয় তাকে। যদিও পাঁচ দিন পরে জানা যায়, আরসালান পারভেজ নয়, দুর্ঘটনার দিন জাগুয়ারের স্টিয়ারিং ছিল তার দাদা রাঘেব পারভেজের হাতে।

    লালবাজারে সে দিনের দুর্ঘটনা নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন জয়েন্ট সিপি (ক্রাইম) মুরলিধর শর্মা। তিনি জানান, ১৬ অগস্ট মাঝ রাতে মিন্টো পার্কের কাছে যে দুর্ঘটনা ঘটেছিল, তা নিয়ে তদন্ত করে নতুন তথ্য জানা গিয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে আরও দু’জনকে। তাদের মধ্যে একজন হল, রাঘেব পারভেজ। পুলিশ কর্তা জানান, রাঘেব আরসালান পারভেজের বড় দাদা এবং আখতার পারভেজের ছেলে। দুর্ঘটনার পরেই দুবাই চলে গিয়েছিল রাঘেব। কলকাতায় ফিরতেই তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয় আরসালান পারভেজের মামা মহম্মদ হামজাকেও। অভিযোগ, রাঘেব পারভেজকে দুবাইতে পালিয়ে যেতে তিনি সাহায্য করেছিলেন।

    জয়েন্ট সিপি মুরলিধর শর্মার কথায়, গাড়ি দুর্ঘটনা হলে চার চালকের সিলিকন বাইটস হয়। কিন্তু, আরসালানের মধ্যে তেমন কিছু দেখা যায়নি। সন্দেহটা বাড়ে তখনই। দুর্ঘটনাগ্রস্ত জাগুয়ার গাড়িটি থেকে ‘ইভেন্ট ডেটা রেকর্ড’ বা ইডিআর সংগ্রহ করেন বিশেষজ্ঞেরা। সেই ডেটা রেকর্ড থেকে একটি নম্বর পাওয়া যায়। যে নম্বরটি ছিল রাঘেবের। তদন্ত নতুন মোড় নেয় সেখান থেকেই। খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, রাঘেব দুবাইতে চলে গিয়েছে। পুলিশ তক্কে তক্কেই ছিল। কলকাতায় ফেরার পরই গ্রেফতার করা হয় রাঘেবকে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More