রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৫

#Breaking: আরসালান নয়, তার দাদা রাঘেব পারভেজ চালাচ্ছিল জাগুয়ার: কলকাতা পুলিশ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরসালান পারভেজ নয়, দুর্ঘটনার দিন জাগুয়ারের স্টিয়ারিং ছিল রাঘেব পারভেজের হাতে, এমনটাই জানিয়েছে কলকাতা পুলিশের পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।

বুধবার বিকেলে, লালবাজারে সে দিনের দুর্ঘটনা নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন জয়েন্ট সিপি (ক্রাইম) মুরলিধর শর্মা। তিনি জানান, ১৬ অগস্ট মাঝ রাতে মিন্টো পার্কের কাছে যে দুর্ঘটনা ঘটেছিল, তা নিয়ে তদন্ত করে নতুন তথ্য জানা গিয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে আরও দু’জনকে। তাদের মধ্যে একজন হল, রাঘেব পারভেজ। পুলিশ কর্তা জানান, রাঘেব আরসালান পারভেজের বড় দাদা এবং আখতার পারভেজের ছেলে। দুর্ঘটনার পরেই দুবাই চলে গিয়েছিল রাঘেব। কলকাতায় ফিরতেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ দিন বেলা পৌনে তিনটে নাগাদ রাঘেবকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এই ঘটনায় এ দিন গ্রেফতার করা হয়েছে আরসালান পারভেজের মামা মহম্মদ হামজাকেও। অভিযোগ, রাঘেব পারভেজকে দুবাইতে পালিয়ে যেতে তিনি সাহায্য করেছিলেন।

জয়েন্ট সিপি মুরলিধর শর্মার কথায়, গাড়ি দুর্ঘটনা হলে চার চালকের সিলিকন বাইটস হয়। কিন্তু, আরসালানের মধ্যে তেমন কিছু দেখা যায়ি। সন্দেহটা বাড়ে তখনই। দুর্ঘটনাগ্রস্ত জাগুয়ার গাড়িটি থেকে ‘ইভেন্ট ডেটা রেকর্ড’ বা ইডিআর সংগ্রহ করেন বিশেষজ্ঞেরা। সেই ডেটা রেকর্ড থেকে একটি নম্বর পাওয়া যায়। যে নম্বরটি ছিল রাঘেবের। তদন্ত নতুন মোড় নেয় সেখান থেকেই। খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, রাঘেব দুবাইতে চলে গিয়েছে। পুলিশ তক্কে তক্কেই ছিল। কলকাতায় ফেরার পরই গ্রেফতার করা হয় রাঘেবকে।

কলকাতার রাস্তায় এই দুর্ঘটনা ঘটে শুক্রবার মাঝরাতে।  বিড়লা তারামণ্ডল থেকে কলামন্দিরের দিকে যাচ্ছিল ঘাতক জাগুয়ারটি। অন্যদিকে তখন পার্ক স্ট্রিট থেকে মিন্টো পার্কের দিকে যাচ্ছিল একটি মার্সিডিজ গাড়ি। লাউডন স্ট্রিট ও শেক্সপিয়ার সরণির সংযোগস্থলে প্রথমে প্রবল গতিতে এসে জাগুয়ারটি ধাক্কা মারে মার্সিডিজে। পুলিশ জানিয়েছে, জাগুয়ারটির গতি এতটাই বেশি ছিল, যে মার্সিডিজে ধাক্কা মারার পরে সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রবল গতি পাশের একটি পুলিশ কিয়স্কে ধাক্কা মারে। ধাক্কার জেরে কিয়স্কটি হেলে যায়। সেই কিয়স্কের পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন তিন জন। তাঁদের দু’জনকে পিষে দেয় জাগুয়ার। মৃত দু’জনের নাম কাজি মহম্মদ মইনুল আলম ( ৩৬ ) ও ফারহানা ইসলাম তানিয়া ( ২৮ )। দু’জনেই বাংলাদেশের ঢাকার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মার্সিডিজের ভিতরে ছিলেন অমিত ও কণিকা কাজারিয়া। তাঁরা দু’জনেই ঢাকুরিয়ার আমরি হাসপাতালে ভর্তি। অমিতের ডান কানের চোট গুরুতর। হাসপাতাল সূত্রে খবর, প্লাস্টিক সার্জারি করে অমিতের ডান কানের অংশ জুড়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর মাথা, হাত, বুকেও আঘাত রয়েছে। সিটি স্ক্যান করা হচ্ছে। কণিকা এখনও ট্রমায় রয়েছেন। তাঁর পিঠেও চোট রয়েছে।

ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনাগ্রস্ত জাগুয়ার এবং মার্সিডিজ গাড়ি দু’টি পরীক্ষা করে দেখেছেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু, গাড়িটি আধুনিক প্রযুক্তির হওয়ায় তাঁরা পরীক্ষা করতে গিয়ে কিছুটা হোঁচটই খেয়েছেন। কলকাতা পুলিশের তরফে ওই গাড়ি নির্মাতা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। যদিও প্রাথমিক পরীক্ষার পর জানা গিয়েছে, জাগুয়ারের গতি ওই রাতে ১২০ কিলোমিটারের আশেপাশে ছিল।

চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ( দায়িত্বপ্রাপ্ত ) অলকানন্দা রায়ের এজলাসে তোলা হয় আরসালানকে। সেখানে সরকারি আইনজীবী অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায় ও স্নেহাংশু ঘোষ বলেন, এই ঘটনার তদন্ত সবে শুরু হয়েছে। যেভাবে দুর্ঘটনা ঘটেছে তাকে পরপর সাজাতে গেলে অভিযুক্তকে জেরা করতে হবে পুলিশকে। তাঁরা এও অভিযোগ করেন, যে সময় দুর্ঘটনা ঘটে, সে সময় সিগন্যাল ভেঙেছিল অভিযুক্ত। তার গাড়ির গতিও অস্বাভাবিক বেশি ছিল। অন্যদিকে অভিযুক্ত আরসালানের আইনজীবী দেবজ্যোতি সেনগুপ্ত দাবি করেন, তাঁর মক্কেলের গাড়ি কিয়স্কের নীচে থাকা তিনজনকে ধাক্কা মারেনি।

দু’পক্ষের কথা শোনার পর বিচারপতি আরসালানকে ২৯ অগস্ট পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জশিট ফাইল করতে।

Comments are closed.