২৮ গ্রাম ওজনের টিউমার প্রস্টেটে, সাত মাস ধরে ঘুরেও এসএসকেএম-মেডিক্যাল কলেজে বেড পাননি বৃদ্ধ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো : প্রস্টেটে ২৮ গ্রাম ওজনের টিউমার। যন্ত্রণায় ছিঁড়ে যাচ্ছে শরীরটা। তাই নিয়েই প্রায় সাত মাস কলকাতার দুই সরকারি হাসপাতালে ঘুরছেন মহেশতলার বাসিন্দা ভোলানাথ মণ্ডল। কিন্তু এখনও অবধি বেড পাননি তিনি। ‘দিদিকে বলো’তে ফোন করেছিলেন। কিন্তু লাইন পাননি। তাই এই অবস্থাতেই সপ্তাহে দু’দিন করে হাজিরা দিতে হচ্ছে হাসপাতলে।

    সাত-আট মাস আগে থেকে তলপেটে প্রচণ্ড ব্যথা হয় মহেশতলার বাসিন্দা ৭০ বছরের ভোলানাথ মণ্ডলের। প্রথমে যান এসএসকেএম হাসপাতালে। সেখানে পরীক্ষা করাতে ধরা পড়ে প্রস্টেটে প্রায় ২৮ গ্রাম ওজনের একটি টিউমার হয়েছে তাঁর। অস্ত্রোপচার করে বের করতে হবে সেই টিউমার।

    প্রথমে মাস তিনেক এসএসকেএম হাসপাতালেই যেতেন ভোলানাথ। এসএসকেএম হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগ থেকে তাঁকে ভর্তি হতে বলা হয়। কার্ডিওলজি ও অ্যানেস্থেসিয়া বিভাগ থেকেও প্রয়োজনীয় অনুমতি পেয়ে যান। কিন্তু তারপরেও বেড পাননি তিনি। জানিয়ে দেওয়া হয়, ৪০০ জনের পর নাম রয়েছে তাঁর। সেই অনুযায়ীই ভর্তি করা হবে। যতবারই হাসপাতালে যেতেন ‘নো বেড ভ্যাকেন্সি’ স্ট্যাম্প মেরে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হত।

    শেষ পর্যন্ত এসএসকেএম হাসপাতালেরই এক চিকিৎসকের পরামর্শে মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে যান ভোলানাথ। সেখানেও চিকিৎসকেরা তাঁকে ভর্তির জন্য লিখে দেন। ফের কার্ডিওলজি ও অ্যানেস্থেসিয়া বিভাগ থেকেও প্রয়োজনীয় অনুমতি নিতে হয় তাঁকে। কিন্তু তারপর সেই একই দৃশ্য।

    মেডিক্যাল কলেজেও জানিয়ে দেওয়া হয় বেড নেই। সেখানে গত চার মাস ধরে সপ্তাহে দু’বার করে আসছেন ভোলানাথ। সোমবার ও বৃহস্পতিবার করে আসেন তিনি। কিন্তু প্রতিদিনই সেই ‘নো বেড ভ্যাকেন্সি’ স্ট্যাম্প মেরে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে। যন্ত্রণায় রীতিমতো কাতরাচ্ছেন ভোলানাথ। কিন্তু তাও বেড মিলছে না।

    বাড়ির অবস্থাও খুব একটা স্বচ্ছল নয় ভোলানাথের। দিন আনি দিন খাই অবস্থা। কেউ অন্যের দোকানে কাজ করেন, তো কেউ অন্যের বাড়িতে। এই অবস্থায় সপ্তাহে দু’দিন করে কাজ কামাই করে ভোলানাথকে নিয়ে আসতে হয় হাসপাতালে। এক একদিন বাড়ির এক একজন আসেন।

    জানানো হয়েছে, এখন তালিকায় ভোলানাথের নাম ১৫৪ নম্বরে। ইউরোলজি বিভাগের এক ডাক্তার জানিয়েছেন, মাস দুয়েক পরে ভর্তির সুযোগ পাবেন ভোলানাথ। এই বিষয়ে মেডিক্যাল কলেজের এক কর্তা জানিয়েছেন, “ভোলানাথের মত আরও অনেক রোগী আছেন। খুব দ্রুত যে অস্ত্রোপচার গুলি প্রয়োজন, প্রাণ সংশয় আছে, সেগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। চেষ্টা চলছে যত দ্রুত সম্ভব সকলকে পরিষেবা দেওয়ার।”

    তবে ভোলানাথের এই যন্ত্রণা চোখে দেখতে পারছেন না পরিবারের লোকেরা। তাঁর পুত্রবধূ অনিমা মণ্ডল বলেন, “বুড়ো মানুষটার যন্ত্রণা দেখতে পারছি না। পিজি তে ঘুরলাম। বেড পেলাম না। এখন নিয়ম করে মেডিক্যাল কলেজে ঘুরছি। বেড নেই বলছে। টাকা নেই। আমরা গরিব। কী করে অপেরেশন হবে জানি না।” ভোলানাথের এক আত্মীয় প্রীতম ওঝা বলেন, “ভোলানাথের জন্য আমার গুমটি দোকান বন্ধ করে আসছি। রোজগার বন্ধ করে বেড খুঁজছি। কিন্তু তাও পাচ্ছি না।”

     

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More