মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারিতেই কাজ হল! রাস্তায় নামল বেসরকারি বাস, যাত্রী দুর্ভোগও কম

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: নরম মনোভাবে কাজ হচ্ছিল না দেখে দু’দিন আগে নবান্নের সাংবাদিক বৈঠক থেকে গরম হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বেসরকারি বাস রাস্তায় না নামালে সরকার অধিগ্রহণ করবে—মুখ্যমন্ত্রীর এই কথাতেই যেন কাজ হল! বিষ্যুদবার দেখা গেল কলকাতা ও শহরতলিতে অনেক বেসরকারি বাস রাস্তায় নেমেছে। প্রায় চার হাজার বেসরকারি বাস রাস্তায় নেমেছে এদিন। ফলে যাত্রী ভোগান্তিও গত কয়েক দিনের তুলনায় খানিকটা কম চোখে পড়েছে।

    পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, কলকাতায় এদিন ১৮০০ সরকারি বাস এবং ৩৮০০ বেসরকারি বাস নেমেছে। তাঁর দাবি, পরিস্থিতি এখন অনেকটাই সবাভাবিক।

    এদিন এয়ারপোর্ট, বাইপাস, যাদবপুর, বেহালা, টবিনরোড—সর্বত্রই বাস চলতে দেখা গিয়েছে। বেশ কিছু মিনিবাসও নেমেছে রাস্তায়। যদিও বাস মালিকরা বলছেন, তাঁরা এখনও ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে অনড়। কিন্তু পরিস্থিতির কথা ভেবেই বাস নামানো হয়েছে।

    আনলকের প্রথম পর্ব থেকেই ভাড়া নিয়ে দরকষাকষি চলছে। একাধিকবার পরিবহণ কর্তাদের সঙ্গে বাস মালিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের বৈঠক, রেগুলেটারি কমিটি গঠন হলেও সমাধান সূত্র বেরোয়নি। এর মধ্যেই গত সপ্তাহে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাড়ে ছ’হাজার বাস ও মিনিবাসকে মাসে ১৫ হাজার টাকা করে তিন মাস অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। কিন্তু তাতেও রাজি হননি বাস মালিকরা। তাঁদের বক্তব্য, এই ভাড়ায় বাস চালালে ক্ষতির পরিমাণ দিনে প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা। মাসিক ১৫ হাজার টাকায় তা কিছুই হবে না।

    মঙ্গলবারের সাংবাদিক বৈঠকে হুঁশিয়ারির সুরেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মানুষের সুবিধার কথা ভেবেই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছে সরকার। বেসরকারি বাসের মালিকরা সরকারি ভর্তুকির বিনিময়ে বাস না নামালে আইনি সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।” মমতা এই ঘোষণা করার সময়ে এ-ও উল্লেখ করেন, “আমরা বাধ্য হয়েই এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছি, আশা করি আমাদের ভুল বুঝবেন না।”

    মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকে জানান, যখন ডিজেল পেট্রোল বাড়ছে তখন বাড়াতে হবে তাহলে দাম কমলে ভাড়াও কমাতে হবে। বারবার পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যে যে ভাবে সরকারের সাহায্য করা দরকার পশ্চিমবঙ্গ সরকার সব করেছে। এর পরেও যদি বাস মালিকরা বাস না নামান তাহলে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা আইন কার্যকর করতে বাধ্য হব।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More