রবিবার, জানুয়ারি ১৯
TheWall
TheWall

সঠিক সময়ে সবাইকে উদ্ধার করা হয়েছিল বলেই এত মানুষের জীবন বেঁচেছে, বৌবাজার বিপর্যয় নিয়ে মমতা

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

দ্য ওয়াল ব্যুরো : মেট্রো রেলের কাজ চলাকালীন বৌবাজারের প্রায় ৩০টি বাড়িতে ফাটল দেখা দিয়েছে। ঘরছাড়া হয়েছেন সাড়ে তিনশোরও বেশি মানুষ। দুর্গা পিথুরি লেন, স্যাকরাপাড়া লেন ও হিদরাম ব্যানার্জি লেনের একাধিক বাড়িতেই এই ফাটল দেখা গিয়েছে। বসে গিয়েছে বেশ কিছু বাড়িও। এলাকাবাসীর আতঙ্কের মধ্যে সোমবার দুপুরে বৌবাজারে গিয়ে পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কথা বললেন সেখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে। তাঁদের অভাব-অভিযোগ শুনলেন। তারপর জানালেন, বিপর্যয় হলে তো কিছু করার নেই, তবে একটা কাজ টাইমে হয়েছে। সঠিক সময়ে সবাইকে উদ্ধার করা হয়েছিল বলেই এত মানুষের জীবন বেঁচেছে।

সোমবার সকালেই জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর তিনটে নাগাদ নবান্নে বিশেষ বৈঠকের তলব করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ, কলকাতা পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা সচিব, পরিবহণ সচিব এবং কলকাতা পুরসভার মেয়র, কাউন্সিলর ও বিধায়ক-সাংসদদের আসতে বলা হয়েছে। এই বৈঠকে বৌবাজারের বিপর্যয় নিয়ে আলোচনা করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

তারপরেই সোমবার দুপুরে নবান্ন থেকে বেরিয়ে বৌবাজারে যান মমতা। সেখানে গিয়ে ঘরহারা বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। সবাই নিজেদের দাবি তাঁকে বলেন। মমতার সঙ্গে ছিলেন উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা পুলিশের আধিকারিক ও বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের আধিকারিকরা।

সবার সঙ্গে কথা বলার পর সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আজ আমরা সবার সঙ্গে কথা বলতে এসেছিলাম। কাল মিটিং আছে। তারপরেই যা বলার বলব। মেট্রোর সঙ্গে এই বিষয়ে রাজ্য সরকার সহযোগিতা করবে।” অবশ্য এই বিপর্যয়ের ফলে যে অনেক মানুষ নিজেদের সর্বস্ব হারিয়েছেন, সে কথাও বলেন মমতা। তাঁর কথায়, “স্থানীয় বাসিন্দারা অনেকে বলেছেন, তাঁদের বাড়ির নীচে দোকান ছিল। সেটাই তাঁদের রোজগার। দোকান যাওয়ায় রোজগার বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কেউ বলেছেন, সামনে মেয়ের বিয়ের জন্য কেনাকাটা করা ছিল। সব গিয়েছে। কেউ আবার বলেছেন, ছেলে-মেয়েদের বই-খাতা, দরকারি কাগজপত্র সব চলে গেছে। তবে একটা কাজ টাইমে হয়েছে। সবাইকে যে ঠিক সময়ে বের করে আনা সম্ভব হয়েছে, তার জন্যই জীবন বেঁচেছে। সে জন্য ভগবানকে ধন্যবাদ।” ”

বিপর্যস্ত মানুষদের পাশে যে তাঁর সরকার রয়েছে, সে কথাও এ দিন স্পষ্ট বলেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা জানিয়েছেন, যে সব বাসিন্দাদের ঘর ভেঙে গিয়েছে, তাঁরা অনেকেই ভিতরে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু তিনি ও পুলিশ আধিকারিকরা বারণ করেছেন। কারণ জীবন সবথেকে দামি। জীবন থাকলে সব হবে। এমনকী, বাসিন্দাদের যা যা নষ্ট হয়েছে, তার একটা তালিকা তৈরি করারও নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই তালিকা অনুযায়ী তাঁদের পুনর্বাসন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। যে সব কাগজপত্র যেমন, রেশন কার্ড, ভোটার কার্ড খোয়া গিয়েছে, সেগুলোও ফের বানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মমতা।

তবে এই বিপর্যয়ে কারও দিকে আঙুল না তুললেও পরিকল্পনায় যে গলদ ছিল তা মেনে নিয়েছেন মমতা। তিনি বলেন, “পরিকল্পনায় তো কিছু গলদ ছিলই। কিন্তু কার দোষ, কার গাফিলতি, সেটা এই মুহূর্তে আমার বলা ঠিক হবে না। কাল বৈঠক করি। তারপরই বলতে পারব।”

এই পুরো বিষয়কে রাজনীতির বাইরে রাখারও আবেদন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “এর মধ্যে রাজনীতি আনবেন না কেউ। এটা খুবই দুঃখের বিষয়। আমরা সবাই মিলে সাহায্য করার চেষ্টা করব।”

Share.

Comments are closed.