রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৫

টালিগঞ্জ কাণ্ডে জামিন মূল অভিযুক্ত পুতুল নস্কর-সহ দু’জনের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: টালিগঞ্জ ফাঁড়িতে ঢুকে তাণ্ডব চালানো ও পুলিশকে মারধর করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল পুতুল নস্কর, তাঁর ভাইপো আকাশ-সহ সাত জনকে। শনিবার পুতুল-সহ দু’জনকে জামিন দিল আলিপুর আদালত। বাকি পাঁচ জনকে ২০ অগস্ট পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার আদালতে সরকার পক্ষের আইনজীবী জানান, পুতুলের কাছ থেকে যা তথ্য জানার, সব হয়ে গিয়েছে। নতুন করে আর জানার কিছু নেই। তারপরেই পুতুল ও তাঁর ভাইপো আকাশকে জামিন দেন আলিপুর আদালতের বিচারক। বাকি পাঁচ জনকে অবশ্য ২০ অগস্ট পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তাঁদের এখনও জেরা বাকি বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী অফিসাররা।

রবিবার রাত ১১টা নাগাদ নাকা চেকিং চলছিল টালিগঞ্জের মেনকা সিনেমা হলের সামনে। সেখানেই মত্ত অবস্থায় রণজয় হালদার নামের এক যুবককে পাকড়াও করে পুলিশ। সঙ্গে ছিলেন আরও দুই আরোহী। তারপরেই শুরু হয় গণ্ডগোল। পুলিশের অভিযোগ, রণজয়কে আটকানোর পরেই তিনি কর্তব্যরত পুলিশকর্মীর সঙ্গে ঝগড়া শুরু করেন। ফোন করে নিজের এলাকার লোকেদের খবর দেন। মুহূর্তেই প্রায় জনা চল্লিশের লোক জড়ো হয়ে যায় মেনকা সিনেমা হলের সামনে। অবস্থা বেগতিক দেখে রণজয়কে নিয়ে টালিগঞ্জ থানায় চলে যান ওই পুলিশকর্মী।

পুলিশের দাবি, এরপর থানার বাইরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে অন্তত ১০০ জন উত্তেজিত জনতা। আচমকাই কয়েকজন ঢুকে পড়ে থানায়। কয়েকজন ওসির ঘরে ঢুকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে শুরু করে। বাকিরা চড়াও হয় পুলিশকর্মীদের উপর। শুরু হয় ধস্তাধস্তি। এক কনস্টেবলকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ ওঠে উন্মত্ত জনতার বিরুদ্ধে। এমনকী মহিলা কনস্টেবলদের পোশাক ছেঁড়ারও অভিযোগ ওঠে তাদের বিরুদ্ধে। এরপর পরিস্থিতি সামাল দিতে রণজয়কে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

পরে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে এই ঘটনায় পুতুল নস্কর, আকাশ-সহ ৭ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কিন্তু সেটাও ঘটনার প্রায় দেড় দিন কেটে যাওয়ার পরে।

এই ঘটনার পরেই বদল করা হয় টালিগঞ্জ থানার ওসি অনুপকুমার ঘোষকে। তাঁর বদলে দক্ষিণ বন্দর থানার ওসি সরোজ প্রহরাজ টালিগঞ্জ থানার নতুন ওসির দায়িত্ব নেন। অন্যদিকে অনুপকুমার ঘোষকে পাঠানো হয় গোয়েন্দা বিভাগে।

Comments are closed.