বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২১
TheWall
TheWall

মহীনের রঞ্জনের বিরুদ্ধে যৌন নিগ্রহের অভিযোগ, তোলপাড় ফেসবুক, ক্ষমা চাইলেন গায়ক

দ্য ওয়াল ব্যুরো: হঠাৎ করেই আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় মি টু! চাপা পড়ে থাকা ঘটনা নতুন করে উঠে আসতে শুরু করল ফেসবুকে। সম্প্রতি নাটকের শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছিলেন এক তরুণী। নাট্যকার তথা অধ্যাপক সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ওঠা সেই অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতারও করে পুলিশ। এ বার তালিকায় নতুন নাম ‘মহীনের ঘোড়াগুলি’র গায়ক বর্ষীয়ান রঞ্জন ঘোষাল। বেশ কয়েকজন তরুণী তাঁর বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ার মেসেঞ্জারে যৌন নিগ্রহের অভিযোগ তুলেছেন।


অভিযোগকারিণীদের মধ্যে অন্যতম যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্যের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী সুস্মিতা প্রামাণিক। ফেসবুক মেসেঞ্জারে রঞ্জনবাবু তাঁকে কী লিখেছেন তার স্ক্রিন শটও পোস্ট করে দিয়েছেন সুস্মিতা। তাঁর সঙ্গে দ্য ওয়াল-এর তরফে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এই ঘটনা বছর তিনেক আগেকার। তখন আমি স্কুলে পড়তাম। সবে মাত্র তখন ফেসবুকে প্রোফাইল করেছি। ওঁর মতো বিখ্যাত মানুষকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছিলাম। উনি তা গ্রহণ করায় আমি আপ্লুত হয়ে গিয়েছিলাম।”


সুস্মিতার দাবি, দু’একদিন পর থেকেই মেসেঞ্জারে কল করা শুরু করেন রঞ্জনবাবু। বিভিন্ন পোশাকে ছবি চাইতে শুরু করেন। সুস্মিতা যে স্ক্রিন শট পোস্ট করেছেন তাতেও তার উল্লেখ রয়েছে। সুস্মিতা বলেন, “আসলে আমি প্রথমে ব্যাপারটা বুঝতেই পারিনি। উনি আমায় মেসেঞ্জারে কল করে দরাজ গলায় গান শোনাতেন। আমি মোহিত হয়ে থাকতাম। উনি আমার থেকে বয়সে এতটাই বড়, উনি যে যৌন হেনস্থা করবেন বলে এই ধরণের কথা বলতেন তা আমার ধারণার মধ্যেই ছিল না।” সুস্মিতা বলেন, “আমার কয়েকজন বন্ধুবান্ধব ব্যাপারটা জানত। রঞ্জনবাবুর বিরুদ্ধে অভিযোগ দেখে তারাই আমায় বলে, তোর সঙ্গে যা করেছিল সেটাও সবাইকে জানানো উচিত। তারপরই এই পোস্ট করি আমি।”


এই ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় উত্তাপ বাড়ছে দেখে রঞ্জনবাবু প্রথমে একটি পোস্ট করেন ফেসবুকে। সেখানে তিনি লেখেন “আমি অনুতপ্ত ও নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থী।” এও লেখেন, ১৫ বছর আগে এক তরুণী তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেন। এরপর সেই পোস্ট সরিয়েও নেন রঞ্জনবাবু। দ্য ওয়াল-এর তরফেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু তিনি ফোন তোলেননি। তবে অন্য একটি সর্বভারতীয় ইংরাজি সংবাদমাধ্যমকে রঞ্জন ঘোষাল বলেছেন, “ওটা ছিল মুহূর্তের ভুল। আমি ক্ষমা চাইছি। আমায় তাঁকে (অভিযোগকারিণীকে) বলতে চাই, আমায় কী করতে হবে বলুন। তাই করব।” একইসঙ্গে রঞ্জনবাবুর দাবি, তিনি আসলে ওইরকম নন। কোনও মহিলা যেন তাঁকে নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগেন।

সাতের দশকের মাঝামাঝি সময় বাংলা গানে ঝড় তুলে দিয়েছিল গৌতম চট্টোপাধ্যায়, রঞ্জন ঘোষালদের ব্যান্ড ‘মহীনের ঘোড়াগুলি।’ আজও এই প্রজন্মের শিল্পীদের গলায় সেই গান বার বার ফিরে ফিরে আসে। কিন্তু ২০১৯ সালে ‘মহীনের ঘোড়াগুলি’র অন্যতম ‘ঘোড়া’ রঞ্জনবাবুর নাম যে এইরকম অভিযোগে জড়িয়ে যাবে তা বোধহয় অনেকেরই ধারণার মধ্যে ছিল না।


যদিও অনেকের মতে সোশ্যাল মিডিয়ার এই ট্রেন্ড অনেকাংশে বিপজ্জনকও বটে। তাঁদের কথায়, এটা খানিকটা গণআদালতে শাস্তির মতো হয়ে উঠছে। কিছুক্ষেত্রে এক তরফা অভিযোগের ভিত্তিতে দোষারোপ করে দেওয়ার প্রবণতাকেও মারাত্মক বলে মনে করছেন তাঁরা। যেখানে আইনকানুন, আত্মপক্ষ সমর্থন ইত্যাদির কোনও বালাই-ই থাকছে না।

পড়ুন দ্য ওয়াল-এর পুজোসংখ্যার বিশেষ লেখা…

প্রাচীন সচিত্র পোস্টকার্ডে সিপাহিবিদ্রোহ

Comments are closed.