রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৫

ফের সেই কলেজ স্কোয়্যার, জলে ডুবে মৃত্যু কিশোরের, সুইমিং ক্লাব বন্ধের নির্দেশ কর্পোরেশনের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের সাঁতার শেখার সময় জলে ডুবে মৃত্যু হলো কলেজ স্কোয়্যারে। এই দুর্ঘটনার পরেই অনির্দিষ্টকালের জন্য কলেজ স্কোয়্যারে সাঁতার শেখানো বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতা পুরসভা। কলেজ স্কোয়্যারে সাঁতার শেখানো ৭টি ক্লাবকেই সেই নির্দেশের কথা জানিয়েছে বেঙ্গল সুইমিং অ্যাসোসিয়েশন।

রবিবার সকাল ৮টা নাগাদ ঘটে এই দুর্ঘটনা। ক্যালকাটা মুসলিম অরফ্যানেজ হাউসের ক্লাস নাইনের ছাত্র মহম্মদ শাহবাজ এক মাস আগে সাঁতার শিখতে ভর্তি হয়েছিল। এ দিন সকালে সাঁতার শেখার সময় জলে ডুবে যায় ১৮ বছরের শাহবাজ। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় পুলিশের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরে। আট জন ডুবুরির একটা দল নেমে তুলে নিয়ে আসে শাহবাজের দেহ। মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হলে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন ডাক্তাররা।

এই ঘটনার পরেই বেঙ্গল সুইমিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দেবাশিস কুমার জানিয়েছেন, দুর্ঘটনা এড়াতে সুইমিং অ্যাসোসিয়েশনগুলিকে বেশকিছু নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তারা সব আচরণবিধিতে সইও করেছিল। তারপরেও কী কারণে দুর্ঘটনা ঘটল তা খতিয়ে দেখতে হবে। যদি কারও গাফিলতি হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত কলেজ স্কোয়্যারে সাঁতার বন্ধ থাকবে। 

শাহবাজের মৃত্যুর পর গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে সুইমিং ক্লাবগুলির উপর। তবে সংশ্লিষ্ট সুইমিং ক্লাবের তরফে জানানো হয়েছে, সাঁতার শেখার শুরু থেকেই ট্রেনারের কথা শুনত না শাহবাজ। এ দিনও যখন ট্রেনার ব্যস্ত ছিলেন, তখন অন্যদিকের বড় পুলে ঝাঁপ দেয় সে। মুহূর্তের মধ্যে জলে ডুবে যায় শাহবাজ। অনেক চেষ্টাতেও তাকে বাঁচানো যায়নি।

বছর দুয়েক আগে ২০১৭ সালের ৪ সেপ্টেম্বর এই কলেজ স্কোয়্যারেই সাঁতার কাটতে গিয়ে জলে ডুবে মারা যান কাজল দত্ত নামে এক জাতীয় স্তরের সাঁতারু। তদন্তে জানা যায়, সুইমিং পুলের জলের তলায় কিছু সিমেন্টের স্ল্যাব অবৈধভাবে তৈরি করেছে সুইমিং সংস্থাগুলি। তার মধ্যেই একটা স্ল্যাবে ধাক্কা লেগে মৃত্যু হয় কাজলবাবুর। তারপরেই সব স্ল্যাব ভেঙে ফেওলার সিদ্ধান্ত নেয় বেঙ্গল সুইমিং অ্যাসোসিয়েশন।

Comments are closed.